Dhaka সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কপোতাক্ষের পাড়ে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৩:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২২ বার দেখা হয়েছে

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বালিয়া গ্রামে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কপোতাক্ষ নদ খননের সময় সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) নকশা অনুসরণ না করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এতে নদী জনবসতির কাছাকাছি চলে এসেছে এবং বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে জরুরি মেরামতের কাজ বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ফাটল ও ভাঙনের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁধের পাশে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত শনিবার রাতে জোয়ারের তীব্র চাপে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে গ্রামের নারী-পুরুষ ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে সেখানে ছুটে আসেন। সম্মিলিতভাবে মাটি ফেলে তাঁরা সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকান।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমিন আক্তার বলেন, সময়মতো গ্রামবাসী এগিয়ে না এলে ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের লোনা পানিতে তলিয়ে যেত। তিনি বলেন, তিন দিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

হাবিবুর রহমান গাজী নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, সম্প্রতি মূল বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে স্থানীয় লোকজন নিজেদের উদ্যোগে সেটি সাময়িকভাবে মেরামত করেন। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

জামাল উদ্দীন নামের এক বাসিন্দা বলেন, প্রায় ১২–১৩ বছর আগে কপোতাক্ষ নদ খননের সময় সিএস নকশা অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। পরে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্পের প্রভাবে স্রোত বাড়ায় প্রতিবছরই ওই এলাকার বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, সম্প্রতি বালিয়া গ্রামের মূল বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। স্থানীয় লোকজন নিজেদের উদ্যোগে সেটি সাময়িকভাবে মেরামত করেছেন। তবে বাঁধের আরও কয়েকটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, বালিয়া এলাকার বাঁধের বিষয়টি তাঁর জানা আছে। তিনি আগেও ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বর্তমানে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় আপাতত বাঁধটি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা কপোতাক্ষের ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি নদ খননের ক্ষেত্রে সিএস নকশা অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীভাঙনে আরও ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি বিলীন হতে পারে।

সম্পর্কিত

পৃথিবী, মহাসাগর ও ইতিহাসের অজানা অধ্যায় নিয়ে সেরা বাংলা ডকুমেন্টারি

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

পছন্দের চিকিৎসকের সিরিয়াল নিতে ক্লিক করুন

স্বাদে, মানে ও ভালোবাসায়—লেক ভিউ কেক

কপোতাক্ষের পাড়ে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক

প্রকাশের সময় ০৩:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বালিয়া গ্রামে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কপোতাক্ষ নদ খননের সময় সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) নকশা অনুসরণ না করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এতে নদী জনবসতির কাছাকাছি চলে এসেছে এবং বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে জরুরি মেরামতের কাজ বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ফাটল ও ভাঙনের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁধের পাশে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত শনিবার রাতে জোয়ারের তীব্র চাপে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে গ্রামের নারী-পুরুষ ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে সেখানে ছুটে আসেন। সম্মিলিতভাবে মাটি ফেলে তাঁরা সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকান।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমিন আক্তার বলেন, সময়মতো গ্রামবাসী এগিয়ে না এলে ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের লোনা পানিতে তলিয়ে যেত। তিনি বলেন, তিন দিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

হাবিবুর রহমান গাজী নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, সম্প্রতি মূল বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে স্থানীয় লোকজন নিজেদের উদ্যোগে সেটি সাময়িকভাবে মেরামত করেন। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

জামাল উদ্দীন নামের এক বাসিন্দা বলেন, প্রায় ১২–১৩ বছর আগে কপোতাক্ষ নদ খননের সময় সিএস নকশা অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। পরে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্পের প্রভাবে স্রোত বাড়ায় প্রতিবছরই ওই এলাকার বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, সম্প্রতি বালিয়া গ্রামের মূল বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। স্থানীয় লোকজন নিজেদের উদ্যোগে সেটি সাময়িকভাবে মেরামত করেছেন। তবে বাঁধের আরও কয়েকটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, বালিয়া এলাকার বাঁধের বিষয়টি তাঁর জানা আছে। তিনি আগেও ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বর্তমানে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় আপাতত বাঁধটি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা কপোতাক্ষের ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি নদ খননের ক্ষেত্রে সিএস নকশা অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীভাঙনে আরও ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি বিলীন হতে পারে।