Dhaka সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৭২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই, ৯ মাসে বন্ধ ১১৯ বাল্যবিবাহ

বাল্যবিবাহের ভয়াবহ ঝুঁকিতে সাতক্ষীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় ০৭:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫ বার দেখা হয়েছে

সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও প্রান্তিক এলাকায় দারিদ্র্য, শিক্ষার ঘাটতি, সামাজিক অসচেতনতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা সংকটের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থামছে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৭২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা পর্যায়েও পরিস্থিতি প্রায় একই। শ্যামনগর, কলারোয়া ও কালীগঞ্জে এ হার প্রায় ৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে তালা, আশাশুনি, সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটায় হার প্রায় ৬২ শতাংশ।

৯ মাসে ১১৯ বিয়ে বন্ধ

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ১১৯টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে প্রশাসন। গত বছরের একই সময়ে বন্ধ করা হয়েছিল ১৪৩টি বাল্যবিবাহ।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনের এই পরিসংখ্যানকে জেলার বাল্যবিবাহের প্রকৃত চিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ অনেক বিয়ে গোপনে সম্পন্ন হচ্ছে। এমনকি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ হওয়ার পরও পরবর্তী সময়ে গোপনে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

১৬ ছাত্রীর বিয়ের তথ্য

সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির ১৬ ছাত্রীর বাল্যবিবাহের তথ্য সামনে আসে। জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলার অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ১৫ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবককে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তের কার্যালয়ে হাজির করা হয়।

পরে নথিপত্র যাচাই শেষে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে না দেওয়া এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার শর্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়।

অঙ্গীকারের পরও বিয়ের অভিযোগ

শ্যামনগরের দাতিনাখালী গ্রামের কলবাড়ি নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর উভয় পরিবারকে নিয়ে সামাজিক বৈঠক হয়। বৈঠকে বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ে না দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, সেই অঙ্গীকার উপেক্ষা করে পরে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটারি পাবলিকের সামনে এফিডেভিট করে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়।

শ্যামনগর থানার ওসি শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত। মহিলা বিষয়ক কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি সহায়তা চাওয়া হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক জানান, অভিযুক্ত ছেলের বাবাকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালেব বলেন, “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে মেয়ে এবং ২১ বছরের নিচে ছেলের বিয়ে বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য। নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করিয়ে এমন বেআইনি বিয়েকে বৈধ করার কোনো সুযোগ নেই।”

উপকূলে সংকট বাড়াচ্ছে ঝুঁকি

সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে বাল্যবিবাহের সঙ্গে পরিবেশগত সংকটের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে মনে করেন অধিকারকর্মীরা। লবণাক্ততা, সুপেয় পানির সংকট, জীবিকার অনিশ্চয়তা এবং যোগাযোগব্যবস

সম্পর্কিত

পৃথিবী, মহাসাগর ও ইতিহাসের অজানা অধ্যায় নিয়ে সেরা বাংলা ডকুমেন্টারি

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

পছন্দের চিকিৎসকের সিরিয়াল নিতে ক্লিক করুন

স্বাদে, মানে ও ভালোবাসায়—লেক ভিউ কেক

৭২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই, ৯ মাসে বন্ধ ১১৯ বাল্যবিবাহ

বাল্যবিবাহের ভয়াবহ ঝুঁকিতে সাতক্ষীরা

প্রকাশের সময় ০৭:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও প্রান্তিক এলাকায় দারিদ্র্য, শিক্ষার ঘাটতি, সামাজিক অসচেতনতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা সংকটের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থামছে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৭২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা পর্যায়েও পরিস্থিতি প্রায় একই। শ্যামনগর, কলারোয়া ও কালীগঞ্জে এ হার প্রায় ৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে তালা, আশাশুনি, সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটায় হার প্রায় ৬২ শতাংশ।

৯ মাসে ১১৯ বিয়ে বন্ধ

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ১১৯টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে প্রশাসন। গত বছরের একই সময়ে বন্ধ করা হয়েছিল ১৪৩টি বাল্যবিবাহ।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনের এই পরিসংখ্যানকে জেলার বাল্যবিবাহের প্রকৃত চিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ অনেক বিয়ে গোপনে সম্পন্ন হচ্ছে। এমনকি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ হওয়ার পরও পরবর্তী সময়ে গোপনে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

১৬ ছাত্রীর বিয়ের তথ্য

সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির ১৬ ছাত্রীর বাল্যবিবাহের তথ্য সামনে আসে। জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলার অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ১৫ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবককে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তের কার্যালয়ে হাজির করা হয়।

পরে নথিপত্র যাচাই শেষে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে না দেওয়া এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার শর্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়।

অঙ্গীকারের পরও বিয়ের অভিযোগ

শ্যামনগরের দাতিনাখালী গ্রামের কলবাড়ি নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর উভয় পরিবারকে নিয়ে সামাজিক বৈঠক হয়। বৈঠকে বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ে না দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, সেই অঙ্গীকার উপেক্ষা করে পরে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটারি পাবলিকের সামনে এফিডেভিট করে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়।

শ্যামনগর থানার ওসি শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত। মহিলা বিষয়ক কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি সহায়তা চাওয়া হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক জানান, অভিযুক্ত ছেলের বাবাকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালেব বলেন, “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে মেয়ে এবং ২১ বছরের নিচে ছেলের বিয়ে বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য। নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করিয়ে এমন বেআইনি বিয়েকে বৈধ করার কোনো সুযোগ নেই।”

উপকূলে সংকট বাড়াচ্ছে ঝুঁকি

সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে বাল্যবিবাহের সঙ্গে পরিবেশগত সংকটের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে মনে করেন অধিকারকর্মীরা। লবণাক্ততা, সুপেয় পানির সংকট, জীবিকার অনিশ্চয়তা এবং যোগাযোগব্যবস