Dhaka সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৪০০ এতিম ও ছিন্নমূল শিশুকে দুই মাসের খাদ্য সহায়তা

গাবুরায় খাবার পানির সংকটে ৫০ পরিবার পেল পানির ট্যাংক

বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় ০৬:১১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪৫ বার দেখা হয়েছে

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ গাবুরা ইউনিয়নে খাবার পানির সংকটে থাকা ৫০টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবার পেল ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক। একই অনুষ্ঠানে ৪০০ এতিম ও ছিন্নমূল শিশুর খাদ্য ও পুষ্টির জন্য দুই মাসের নগদ সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়। বেসরকারি সেবা সংস্থা ব্রতীর উদ্যোগে এবং নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশী ইসলামিক কমিউনিটি (নাবিক)-এর অর্থায়নে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার প্রতিনিধি রুবাইয়া ইয়াসমিন রুপা।

ব্রতীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এরিয়া ম্যানেজার মো. সাইফুর রহমান, ফিল্ড সুপারভাইজার মনিরুল ইসলাম, ডা. সামিয়া রশিদ ও মাহমুদুল হাসান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাবুরার অনেক এলাকায় নিরাপদ খাবার পানির সংকট দীর্ঘদিনের। লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলোকে খাবার পানি সংগ্রহে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্ষার পানি সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়।

ব্রতী জানিয়েছে, এই বাস্তবতায় নাবিকের অর্থায়নে পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর বাড়িতে পানি সংরক্ষণের ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এবার ৫০টি পরিবারকে বিনামূল্যে ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাংক দেওয়া হয়েছে।

ট্যাংক পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটির সদস্য ও উপকারভোগীরা এ উদ্যোগের জন্য ব্রতী ও নাবিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এ ছাড়া ৪০০ এতিম ও ছিন্নমূল শিশুর খাদ্য ও পুষ্টির জন্য পরিবারপ্রতি মাসে ১ হাজার ২০০ টাকা হিসাবে দুই মাসের নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রতিটি পরিবার পেয়েছে মোট ২ হাজার ৪০০ টাকা।

ব্রতীর কর্মকর্তারা জানান, নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশী ইসলামিক কমিউনিটির সহায়তায় গাবুরায় শিশু সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অসহায় পরিবারের ঘর নির্মাণ ও সংস্কার, পুকুর খনন, শিশু পুনর্বাসন, আয়বর্ধক কার্যক্রমের আওতায় সেলাই মেশিন ও ছাগল বিতরণ, শিশুদের পাঠশালা, ভাসমান স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবাধিকার নিয়ে কাজ।

দুর্যোগ ও জলবায়ুজনিত নানা সংকটে থাকা গাবুরার মানুষের জন্য নিরাপদ পানি সংরক্ষণের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা হিসেবে দেখছেন।

পৃথিবী, মহাসাগর ও ইতিহাসের অজানা অধ্যায় নিয়ে সেরা বাংলা ডকুমেন্টারি

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

পছন্দের চিকিৎসকের সিরিয়াল নিতে ক্লিক করুন

স্বাদে, মানে ও ভালোবাসায়—লেক ভিউ কেক

৪০০ এতিম ও ছিন্নমূল শিশুকে দুই মাসের খাদ্য সহায়তা

গাবুরায় খাবার পানির সংকটে ৫০ পরিবার পেল পানির ট্যাংক

প্রকাশের সময় ০৬:১১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ গাবুরা ইউনিয়নে খাবার পানির সংকটে থাকা ৫০টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবার পেল ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক। একই অনুষ্ঠানে ৪০০ এতিম ও ছিন্নমূল শিশুর খাদ্য ও পুষ্টির জন্য দুই মাসের নগদ সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়। বেসরকারি সেবা সংস্থা ব্রতীর উদ্যোগে এবং নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশী ইসলামিক কমিউনিটি (নাবিক)-এর অর্থায়নে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার প্রতিনিধি রুবাইয়া ইয়াসমিন রুপা।

ব্রতীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এরিয়া ম্যানেজার মো. সাইফুর রহমান, ফিল্ড সুপারভাইজার মনিরুল ইসলাম, ডা. সামিয়া রশিদ ও মাহমুদুল হাসান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাবুরার অনেক এলাকায় নিরাপদ খাবার পানির সংকট দীর্ঘদিনের। লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলোকে খাবার পানি সংগ্রহে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্ষার পানি সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়।

ব্রতী জানিয়েছে, এই বাস্তবতায় নাবিকের অর্থায়নে পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর বাড়িতে পানি সংরক্ষণের ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এবার ৫০টি পরিবারকে বিনামূল্যে ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাংক দেওয়া হয়েছে।

ট্যাংক পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটির সদস্য ও উপকারভোগীরা এ উদ্যোগের জন্য ব্রতী ও নাবিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এ ছাড়া ৪০০ এতিম ও ছিন্নমূল শিশুর খাদ্য ও পুষ্টির জন্য পরিবারপ্রতি মাসে ১ হাজার ২০০ টাকা হিসাবে দুই মাসের নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রতিটি পরিবার পেয়েছে মোট ২ হাজার ৪০০ টাকা।

ব্রতীর কর্মকর্তারা জানান, নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশী ইসলামিক কমিউনিটির সহায়তায় গাবুরায় শিশু সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অসহায় পরিবারের ঘর নির্মাণ ও সংস্কার, পুকুর খনন, শিশু পুনর্বাসন, আয়বর্ধক কার্যক্রমের আওতায় সেলাই মেশিন ও ছাগল বিতরণ, শিশুদের পাঠশালা, ভাসমান স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবাধিকার নিয়ে কাজ।

দুর্যোগ ও জলবায়ুজনিত নানা সংকটে থাকা গাবুরার মানুষের জন্য নিরাপদ পানি সংরক্ষণের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা হিসেবে দেখছেন।