Dhaka সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোলকধাঁধার শহরে ১১৬৭ বছরের জ্ঞানের বাতিঘর

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৫:২২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮ বার দেখা হয়েছে

সরু গলি, সবুজ টালির ছাদ আর আল কারাউইয়্যিন—যেখানে ইতিহাস আজও জীবন্ত

উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠতে পারে মরুভূমি, প্রাচীন দুর্গ, রঙিন বাজার কিংবা আরব-আন্দালুসীয় স্থাপত্যের ছবি। কিন্তু এই দেশের এমন একটি শহর আছে, যার অলিগলি পেরোতে পেরোতে মনে হতে পারে—কোনো এক প্রাচীন গোলকধাঁধার ভেতর ঢুকে পড়েছেন।

শহরটির নাম ফেজ।

পাহাড়ঘেরা এই ঐতিহাসিক শহরের পুরোনো অংশের গলিগুলো এতটাই সরু ও আঁকাবাঁকা যে অনেক জায়গায় আধুনিক ইঞ্জিনচালিত যান চলাচল প্রায় অসম্ভব। তাই পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন চলাচলে আজও দেখা যায় গাধা ও ছোট পশুবাহিত গাড়ির ব্যবহার। পুরোনো ফেজের এই বৈশিষ্ট্যই শহরটিকে আধুনিক নগরজীবন থেকে আলাদা এক আবহ দিয়েছে।

UNESCO-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেজের ঐতিহাসিক নগরী বা মদিনা অব ফেজ নবম শতকে প্রতিষ্ঠিত। ১৩ ও ১৪ শতকে মারিনিদ শাসনামলে শহরটি সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছায় এবং মরক্কোর গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

সবুজ টালির নিচে ইতিহাস

ফেজের পুরোনো শহরের উঁচু কোনো জায়গায় দাঁড়ালে চারপাশের অসংখ্য গলি, ঘরবাড়ি ও বাজারের ভিড়ের মধ্যেও যে দৃশ্যটি সহজেই চোখে পড়ে, তা হলো সবুজ সিরামিক টালিতে ঢাকা অসংখ্য ছাদ।

এই সবুজ ছাদের নিচেই লুকিয়ে আছে এমন এক ইতিহাস, যার বয়স এক সহস্রাব্দেরও বেশি।

সেখানেই অবস্থিত আল কারাউইয়্যিন—আরবি জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানকে Guinness World Records বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন টিকে থাকা ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছে।

অর্থাৎ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আল কারাউইয়্যিনের ইতিহাস প্রায় ১ হাজার ১৬৭ বছরের।

ফাতিমার স্বপ্ন থেকে জ্ঞানের কেন্দ্র

আল কারাউইয়্যিনের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একজন নারীর নাম—ফাতিমা আল-ফিহরি। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ফেজে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। সময়ের সঙ্গে সেই মসজিদকে ঘিরে গড়ে ওঠে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

শুরুতে ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলামী জ্ঞানচর্চা ছিল এর অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। পরে এখানে ভাষা, দর্শন, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানচর্চার বিস্তার ঘটে। মধ্যযুগে উত্তর আফ্রিকা ও মুসলিম বিশ্বের জ্ঞানচর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি হয়ে ওঠে ফেজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণারও বহু আগে

আজকের বিশ্ববিদ্যালয় বলতে আমরা যে আধুনিক ক্যাম্পাস, শ্রেণিকক্ষ, বিভাগ, পরীক্ষা ও ডিগ্রির কাঠামো বুঝি, আল কারাউইয়্যিনের প্রাথমিক রূপ তার সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। বরং দীর্ঘ সময় ধরে এটি ছিল মসজিদ, মাদ্রাসা ও উচ্চতর জ্ঞানচর্চার একটি কেন্দ্র।

তবু প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক অস্তিত্ব ও শিক্ষার ইতিহাসের কারণে Guinness World Records এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন বিদ্যমান ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

UNESCO-ও ফেজকে এমন একটি শহর হিসেবে বর্ণনা করে, যেখানে বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত।

গলির শহর, জ্ঞানের শহর

ফেজের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক সম্ভবত এখানেই—একদিকে শহরের পুরোনো অংশে এমন অসংখ্য সরু গলি, যেখানে পথ চিনে চলাই কঠিন; অন্যদিকে সেই গলির মধ্যেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য।

বাজারের ভেতর দিয়ে হাঁটলে কোথাও চামড়ার কারিগর, কোথাও মৃৎশিল্পী, কোথাও মসজিদ, আবার কোথাও পুরোনো মাদ্রাসা চোখে পড়ে। প্রাচীন স্থাপত্য, বাজার ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো মিলে ফেজের মদিনাকে যেন জীবন্ত ইতিহাসের একটি বিশাল অধ্যায়ে পরিণত করেছে।

UNESCO-এর মতে, ফেজের মদিনায় মাদ্রাসা, প্রাসাদ, আবাসিক ভবন, মসজিদ, ফোয়ারা ও অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনার সমৃদ্ধ সমাহার রয়েছে।

এক শহরে অতীত ও বর্তমান

১৯১২ সালে মরক্কোর রাজনৈতিক রাজধানী রাবাতে স্থানান্তরিত হলেও ফেজ তার সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ধরে রেখেছে।

তাই ফেজকে শুধু একটি প্রাচীন শহর হিসেবে দেখলে এর গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এটি একই সঙ্গে স্থাপত্যের শহর, কারুশিল্পের শহর, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার শহর এবং ইতিহাসের শহর।

এর গলিতে হাঁটলে আধুনিক পৃথিবী যেন কিছুটা দূরে সরে যায়। কোনো মোড়ে দেখা যায় শত বছরের পুরোনো দরজা, অন্য মোড়ে সবুজ টালির ছাদ, আবার কোথাও ভেসে আসে বাজারের কোলাহল। আর এই সবকিছুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে আল কারাউইয়্যিন—একটি প্রতিষ্ঠান, যার ইতিহাস এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত।

যে শহরে সময় থেমে আছে

ফেজের অলিগলি হয়তো গাড়ির জন্য তৈরি হয়নি, কিন্তু সেই গলিই বহন করে নিয়ে চলেছে শতাব্দীর স্মৃতি। গাধার পিঠে পণ্য যাচ্ছে, কারিগর পুরোনো কৌশলে কাজ করছেন, বাজারে চলছে দরদাম—আর সবুজ টালির ছাদের নিচে ইতিহাসের পাতা উল্টে যাচ্ছে নীরবে।

একসময় যে শহর উত্তর আফ্রিকার জ্ঞান ও সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল, আজও তার পুরোনো হৃদয়টি অতীতকে আঁকড়ে ধরে আছে।

ফেজ তাই কেবল মরক্কোর একটি শহর নয়। এটি যেন সময়ের একটি দরজা—যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে দেখা যায়, প্রায় ১১৬৭ বছর আগে শুরু হওয়া জ্ঞানচর্চার এক দীর্ঘ যাত্রা আজও থেমে যায়নি। আর সেই যাত্রার অন্যতম প্রতীক—আল কারাউইয়্যিন।

সম্পর্কিত

পৃথিবী, মহাসাগর ও ইতিহাসের অজানা অধ্যায় নিয়ে সেরা বাংলা ডকুমেন্টারি

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

পছন্দের চিকিৎসকের সিরিয়াল নিতে ক্লিক করুন

স্বাদে, মানে ও ভালোবাসায়—লেক ভিউ কেক

গোলকধাঁধার শহরে ১১৬৭ বছরের জ্ঞানের বাতিঘর

প্রকাশের সময় ০৫:২২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

সরু গলি, সবুজ টালির ছাদ আর আল কারাউইয়্যিন—যেখানে ইতিহাস আজও জীবন্ত

উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠতে পারে মরুভূমি, প্রাচীন দুর্গ, রঙিন বাজার কিংবা আরব-আন্দালুসীয় স্থাপত্যের ছবি। কিন্তু এই দেশের এমন একটি শহর আছে, যার অলিগলি পেরোতে পেরোতে মনে হতে পারে—কোনো এক প্রাচীন গোলকধাঁধার ভেতর ঢুকে পড়েছেন।

শহরটির নাম ফেজ।

পাহাড়ঘেরা এই ঐতিহাসিক শহরের পুরোনো অংশের গলিগুলো এতটাই সরু ও আঁকাবাঁকা যে অনেক জায়গায় আধুনিক ইঞ্জিনচালিত যান চলাচল প্রায় অসম্ভব। তাই পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন চলাচলে আজও দেখা যায় গাধা ও ছোট পশুবাহিত গাড়ির ব্যবহার। পুরোনো ফেজের এই বৈশিষ্ট্যই শহরটিকে আধুনিক নগরজীবন থেকে আলাদা এক আবহ দিয়েছে।

UNESCO-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেজের ঐতিহাসিক নগরী বা মদিনা অব ফেজ নবম শতকে প্রতিষ্ঠিত। ১৩ ও ১৪ শতকে মারিনিদ শাসনামলে শহরটি সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছায় এবং মরক্কোর গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

সবুজ টালির নিচে ইতিহাস

ফেজের পুরোনো শহরের উঁচু কোনো জায়গায় দাঁড়ালে চারপাশের অসংখ্য গলি, ঘরবাড়ি ও বাজারের ভিড়ের মধ্যেও যে দৃশ্যটি সহজেই চোখে পড়ে, তা হলো সবুজ সিরামিক টালিতে ঢাকা অসংখ্য ছাদ।

এই সবুজ ছাদের নিচেই লুকিয়ে আছে এমন এক ইতিহাস, যার বয়স এক সহস্রাব্দেরও বেশি।

সেখানেই অবস্থিত আল কারাউইয়্যিন—আরবি জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানকে Guinness World Records বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন টিকে থাকা ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছে।

অর্থাৎ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আল কারাউইয়্যিনের ইতিহাস প্রায় ১ হাজার ১৬৭ বছরের।

ফাতিমার স্বপ্ন থেকে জ্ঞানের কেন্দ্র

আল কারাউইয়্যিনের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একজন নারীর নাম—ফাতিমা আল-ফিহরি। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ফেজে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। সময়ের সঙ্গে সেই মসজিদকে ঘিরে গড়ে ওঠে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

শুরুতে ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলামী জ্ঞানচর্চা ছিল এর অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। পরে এখানে ভাষা, দর্শন, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানচর্চার বিস্তার ঘটে। মধ্যযুগে উত্তর আফ্রিকা ও মুসলিম বিশ্বের জ্ঞানচর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি হয়ে ওঠে ফেজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণারও বহু আগে

আজকের বিশ্ববিদ্যালয় বলতে আমরা যে আধুনিক ক্যাম্পাস, শ্রেণিকক্ষ, বিভাগ, পরীক্ষা ও ডিগ্রির কাঠামো বুঝি, আল কারাউইয়্যিনের প্রাথমিক রূপ তার সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। বরং দীর্ঘ সময় ধরে এটি ছিল মসজিদ, মাদ্রাসা ও উচ্চতর জ্ঞানচর্চার একটি কেন্দ্র।

তবু প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক অস্তিত্ব ও শিক্ষার ইতিহাসের কারণে Guinness World Records এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন বিদ্যমান ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

UNESCO-ও ফেজকে এমন একটি শহর হিসেবে বর্ণনা করে, যেখানে বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত।

গলির শহর, জ্ঞানের শহর

ফেজের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক সম্ভবত এখানেই—একদিকে শহরের পুরোনো অংশে এমন অসংখ্য সরু গলি, যেখানে পথ চিনে চলাই কঠিন; অন্যদিকে সেই গলির মধ্যেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য।

বাজারের ভেতর দিয়ে হাঁটলে কোথাও চামড়ার কারিগর, কোথাও মৃৎশিল্পী, কোথাও মসজিদ, আবার কোথাও পুরোনো মাদ্রাসা চোখে পড়ে। প্রাচীন স্থাপত্য, বাজার ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো মিলে ফেজের মদিনাকে যেন জীবন্ত ইতিহাসের একটি বিশাল অধ্যায়ে পরিণত করেছে।

UNESCO-এর মতে, ফেজের মদিনায় মাদ্রাসা, প্রাসাদ, আবাসিক ভবন, মসজিদ, ফোয়ারা ও অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনার সমৃদ্ধ সমাহার রয়েছে।

এক শহরে অতীত ও বর্তমান

১৯১২ সালে মরক্কোর রাজনৈতিক রাজধানী রাবাতে স্থানান্তরিত হলেও ফেজ তার সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ধরে রেখেছে।

তাই ফেজকে শুধু একটি প্রাচীন শহর হিসেবে দেখলে এর গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এটি একই সঙ্গে স্থাপত্যের শহর, কারুশিল্পের শহর, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার শহর এবং ইতিহাসের শহর।

এর গলিতে হাঁটলে আধুনিক পৃথিবী যেন কিছুটা দূরে সরে যায়। কোনো মোড়ে দেখা যায় শত বছরের পুরোনো দরজা, অন্য মোড়ে সবুজ টালির ছাদ, আবার কোথাও ভেসে আসে বাজারের কোলাহল। আর এই সবকিছুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে আল কারাউইয়্যিন—একটি প্রতিষ্ঠান, যার ইতিহাস এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত।

যে শহরে সময় থেমে আছে

ফেজের অলিগলি হয়তো গাড়ির জন্য তৈরি হয়নি, কিন্তু সেই গলিই বহন করে নিয়ে চলেছে শতাব্দীর স্মৃতি। গাধার পিঠে পণ্য যাচ্ছে, কারিগর পুরোনো কৌশলে কাজ করছেন, বাজারে চলছে দরদাম—আর সবুজ টালির ছাদের নিচে ইতিহাসের পাতা উল্টে যাচ্ছে নীরবে।

একসময় যে শহর উত্তর আফ্রিকার জ্ঞান ও সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল, আজও তার পুরোনো হৃদয়টি অতীতকে আঁকড়ে ধরে আছে।

ফেজ তাই কেবল মরক্কোর একটি শহর নয়। এটি যেন সময়ের একটি দরজা—যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে দেখা যায়, প্রায় ১১৬৭ বছর আগে শুরু হওয়া জ্ঞানচর্চার এক দীর্ঘ যাত্রা আজও থেমে যায়নি। আর সেই যাত্রার অন্যতম প্রতীক—আল কারাউইয়্যিন।