এক তরফা ভালোবাসা
“স্মৃতির ঘ্রাণ এবং নতুন আলোর সন্ধান”
সকাল হয়েছে। বৃষ্টি থেমেছে, কিন্তু আকাশে ধীরে ধীরে মেঘের ফাঁক দিয়ে সূর্যের কিরণ ছড়িয়ে পড়ছে।
নায়লা ডাইনিং রুমে বসে কফি খাচ্ছে, কিন্তু চোখ অজান্তে বার বার সেই পুরনো ডায়েরির দিকে চলে যাচ্ছে।
আরিয়ান এসে বসল তার পাশে, হাতে এক ছোট্ট খাতা, যা সে ঘরে ঘরে খুঁজে পেয়েছে।
“এটা তোমার জন্য,” বলল আরিয়ান।
নায়লা খাতা হাতে নিল। খাতার পাতা পুরনো, কিছুটা ছিঁড়ে গেছে, কিন্তু শব্দগুলো এখনও জীবন্ত।
প্রথম পাতায় লেখা —
“যখন তুমি আমার জীবনে আসবে, আমি জানব তুমি আমার হারানো দিনের খোঁজ নিয়ে এসেছো।”
নায়লা চুপচাপ পড়ছে। মনে মনে ভাবছে, কতটা গভীর হতে পারে এই অনুভূতি।
আরিয়ান ফিসফিস করে বলল, “আমার মা শুধু আমাকে ভালোবাসত না, সে আমাদের সবাইকে শিখিয়েছিল, ভালোবাসা মানে ধৈর্য আর ক্ষমা।”
নায়লা হেসে বলল, “তুমি জানো? আমি আজ প্রথমবার সত্যিই অনুভব করছি, ভালোবাসা শুধু পাওয়া বা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা অনুভব করা হয়।”
আরিয়ান চুপচাপ তাকে দেখছে।
একটু দূরে জানালার আলো পড়ে খাতার পাতায়। বাতাসে পাতাগুলো ভেসে যাচ্ছে।
নায়লা হঠাৎ বলল, “আমরা কি সব শেষ বুঝতে পারব? আমার মনে হয় লায়লার গল্প এখানেই শেষ হয়নি।”
আরিয়ান মাথা নেড়ে বলল, “হয়তো তাই। কিন্তু তুমি আজ তাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে এনেছ। আর তার ভালোবাসা আজও এখানে আছে।”
নায়লা আর আরিয়ান দুজন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রইল।
বাইরে বৃষ্টি আবার থেমেছে। বাতাসে ধুলোবালি আর ডায়েরির পাতার ঘ্রাণ মিশে এক অদ্ভুত শান্তি তৈরি করেছে।
একটি নিঃশব্দ বোঝাপড়ার মুহূর্ত—যেখানে অতীত আর বর্তমান মিলিত হয়েছে, আর একটি নতুন আলোর সন্ধান এসেছে।
নায়লার চোখে জল, আর মুখে হালকা হাসি। আরিয়ান তার পাশে হাত বাড়িয়ে ধরল।
দুজনের মধ্যে এখন শুধু কথা নয়, অনুভূতি, স্মৃতি, এবং অদৃশ্য বন্ধনের আলো জ্বলছে।
একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে—স্মৃতির ঘ্রাণ আর নতুন আলোর সন্ধানে।



























