ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মাধ্যমে সংসদীয় রাজনীতিতে বড় পরিসরে প্রত্যাবর্তন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবন-এর নির্ধারিত শপথকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান, যা একটি অনন্য নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় ব্যাপক কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেন। পরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সদস্যরা শপথকক্ষে উপস্থিত হয়ে একে একে শপথ গ্রহণ করেন।
সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় রাষ্ট্রপতির নির্দেশনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শপথ গ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ সচিবালয়ের নির্ধারিত খাতায় স্বাক্ষর করেন এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দীর্ঘ সময় পর সংসদীয় রাজনীতিতে সরাসরি ও প্রভাবশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।




























