ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর তারেক রহমান-কে সংসদ নেতা এবং দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবন-এ অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দলের নবনির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হলে উপস্থিত সদস্যরা হর্ষধ্বনির মাধ্যমে তাঁদের সমর্থন জানান।
দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে শপথ গ্রহণ শেষে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। দলীয় নেতারা এটিকে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মো. সাহাবুদ্দিন তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
সংসদীয় দলের বৈঠকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেন। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং রাষ্ট্রীয় কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য সরকারিভাবে শুল্কমুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি গ্রহণ করবেন না এবং রাষ্ট্রীয় কোটায় কোনো সরকারি প্লটও নেবেন না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। দলীয় সূত্র জানায়, জনগণের অর্থের অপচয় রোধ এবং নৈতিক অবস্থান সুসংহত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছ থেকে শপথ গ্রহণ করেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। শপথ শেষে তাঁরা সংসদ সচিবালয়ে নিজ নিজ আসনের বিপরীতে স্বাক্ষর করেন।
সংসদীয় দলের বৈঠকে নতুন সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিতব্য সরকার দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে বলে বৈঠকে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে দলীয় নেতারা মন্তব্য করেছেন।




























