মোঃ দেলোয়ার হোসেন: অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে জেগেছে নতুন আশার আলো। হাজারো কৃষক এখন তাকিয়ে প্রকৃতির দিকে। সাতক্ষীরা জেলার বিস্তীর্ণ জনপদজুড়ে গাছে গাছে মুকুলের সোনালি সমারোহ যেন বাম্পার ফলনের সম্ভাবনার নীরব ঘোষণা দিচ্ছে। গত কয়েক বছরের অনিশ্চয়তা ও ক্ষতির পর এবার আমচাষিদের চোখে ফুটেছে আশার ঝিলিক। কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার গড়া যেতে পারে আম উৎপাদনের নতুন রেকর্ড। বসন্তের হাওয়ায় দুলছে আমের মুকুল, আর সেই সঙ্গে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। জেলার তালা, কলারোয়া, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ আমবাগান এখন মুকুলে ছেয়ে গেছে। সবুজ পাতার ফাঁকে সোনালি মুকুলের সমারোহ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও শক্ত বার্তা দিচ্ছে।
চাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে মুকুলের পরিমাণ আশাতীত। বিশেষ করে হিমসাগর আম, ল্যাংড়া আম, গোপালভোগ আম ও আম্রপালি আম জাতের গাছে মুকুলের আধিক্য চোখে পড়ার মতো। সময়মতো শীত পড়া, অনুকূল তাপমাত্রা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবার মুকুলের বিস্তার ঘটেছে ব্যাপকভাবে। সদর উপজেলার আমচাষি আব্দুল করিম বলেন, “এবারের মতো এত বেশি মুকুল অনেক বছর দেখিনি। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন রেকর্ড পরিমাণ হতে পারে। এখন আমাদের সব আশা এই মুকুল ঘিরেই।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হয়। যা স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। এ খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে হাজারো কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর জীবিকা।
জেলা উপ-পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, “বর্তমানে আমের মুকুলের অবস্থা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সঠিক পরিচর্যা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।” মুকুলের এই সমারোহ শুধু প্রকৃতির রূপমাধুরী নয়, এটি সাতক্ষীরার কৃষি অর্থনীতির জন্য এক সম্ভাবনার বার্তা। প্রকৃতি সহায় হলে কয়েক মাস পর এই মুকুলই রূপ নেবে সোনালি ফলে, আর সেই ফল বদলে দিতে পারে হাজারো কৃষকের ভাগ্য। দক্ষিণাঞ্চলের এই জনপদ এখন অপেক্ষায়—মুকুল থেকে ফলে, আর স্বপ্ন থেকে বাস্তবে রূপ নেওয়ার এক নতুন ইতিহাসের।






















