রোজায় বাজার অস্থির: সংযমের শিক্ষা কোথায়?
পবিত্র রমজান মাস আসে আত্মসংযম, মানবিকতা ও সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিবছর সেই শিক্ষাকে আমরা প্রায় ভুলে যাই। রোজার মাস শুরুর আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে।
এই বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রমজান মাসের দুই সপ্তাহ আগে থেকেই বাজারে লেবুর দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। যেখানে এক মাস আগেও লেবুর হালি ছিল ২০-৪০ টাকার মধ্যে, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকায়। বেড়েছে খেজুরসহ ফলমূলের দাম। ছোলা, মসুর ডাল, পেঁয়াজ, মাছ, মাংস ও শাক-সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী। স্বল্প আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। ঢাকার বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকায়। কাঁচা মরিচের দাম দুই দিনে কেজিপ্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৮০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামও বেড়েছে কেজি ও ডজন প্রতি ১৫-২০ টাকা।
রমজানে আমাদের ইফতারের অপরিহার্য অংশ খেজুর। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমানোর পরও ক্রেতারা তার সুফল পাচ্ছেন না। আসল সমস্যার কারণও অজানা নয়। কালোবাজারি, সিন্ডিকেট ও লোভী ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত বাজারে প্রভাব খাটাচ্ছেন। ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ রোজায় আরও ভোগান্তিতে পড়ছে। বিদায়ী সরকার আমদানিনির্ভর পণ্য ৪০ শতাংশ বেশি মজুদ করলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কোনো অমীমাংসিত সমস্যা নয়। প্রয়োজনের মূল উপাদানগুলো হলো প্রস্তুতি, স্বচ্ছতা, আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহি। সরকার যদি নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ নেয়, বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ব্যবসায়ীরাও যদি রমজানের পবিত্রতা মেনে অতি মুনাফা থেকে বিরত থাকে এবং সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করে, তবে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।
রমজান মানে কেবল খাদ্য ও উপহার নয়, এটি সংযম, সহমর্মিতা ও সমাজসেবার মাস। দুঃখের বিষয়, প্রতিবার আমরা এই শিক্ষাকে প্রার্থিতভাবে ভুলে যাই। বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকার এবং ব্যবসায়ীর দায়িত্ব পালনের ফলে সাধারণ মানুষের রোজা সহজ হবে এবং সমাজে নৈতিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।


























