আগামীর বাংলাদেশ হোক শান্তি-সমৃদ্ধির দেশ
গত দেড় বছর দেশের পরিস্থিতি এত নাজুক ছিল যে, মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খেয়েছে। বেশির ভাগ মানুষের আয় কমেছে। দেশের ব্যবসাবাণিজ্যে আস্থার পরিবেশ ছিল না। রাস্তাঘাট, কলকারখানা, এমন কি কর্মরত প্রতিষ্ঠানেও মানুষ নিরাপদ ছিল না। কে, কাকে, কখন, কী বলে- দোষারোপ করে, রাজনৈতিক বিভেদ ছড়িয়ে দেয়- সেই ভয় ছিল মানুষের মনে। এসব আমরা দেখতে চাই না। আমরা বাংলাদেশের মানুষ- শান্তি পছন্দ করি, আমরা স্বস্তিতে থাকতে চাই।’ মানুষগুলো ভিন্ন ভিন্ন, তাদের জীবন-জীবকা, পেশাও ভিন্ন। তবে চাওয়াটা এক। মানুষ চায় শান্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দেশে একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কয়েম করেছিল; রাষ্ট্রের প্রতিটি খাত ভেঙে পড়েছিল; নজিরবিহীন লুটপাট, ব্যাংক দখল এবং বেনামি ঋণের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ পাচার করা হয়েছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ছাড়িয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতের ৮০ শতাংশ অর্থই বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দলীয়করণের ফলে স্বাস্থ্যসেবার মান মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় এবং বাজেট বরাদ্দের একটি বড় অংশ দুর্নীতির কবলে পড়ে। শিক্ষাব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় কারিকুলাম পরিবর্তন এবং দলীয় রাজনীতির প্রভাবে ব্যাপক অস্থিরতা ও বিপর্যয় দেখা দেয়। পরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে ফেলার অভিযোগ আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত হয়। রাষ্ট্রের এই বিপর্যয় থেকে বাঁচতেই দেশের মানুষ দলমত নির্বিশেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। সেই আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল এবার শান্তি ফিরে আসবে। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সরকারের সামনে নানামুখী চ্যালেঞ্জ। চিরাচরিত নিয়মে রোজার আগে অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যগুলোর দাম বেড়ে গেছে। দাম সহনীয় পর্যায়ে না রাখা গেলে মানুষের, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। আস্থার পরিবেশ তৈরি করা না গেলে বিনিয়োগে গতি আসবে না। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান বাড়বে না। অস্বাভাবিক বেকারত্ব সামাজিক সংকট তৈরি করবে। হামলা-মামলা আর মব সন্ত্রাসকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। তা না হলে নাগরিক জীবনে সৃষ্ট সংকট ক্রমেই গভীর হবে। জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারকে সব দিক সামাল দিয়ে চলতে হবে।



























