দুর্নীতির অভিযোগ বেড়ে চলছে
কালীগঞ্জে প্রকল্পের টাকা কর্মকর্তাদের পকেটে
কালীগঞ্জ উপজেলায় সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সাংবাদিকদের তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এতে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের অভাব স্পষ্ট হচ্ছে।
তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো সাড়া দেননি। অথচ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ২৮ ফেব্রুয়ারি এক সভায় জানিয়েছেন যে, সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি করলে শুধুমাত্র চাকুরি নয়, মামলাও হবে।
দুর্নীতির মূল অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউএনও অনুজা মণ্ডল, প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ এবং বর্তমান প্রকৌশলী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কালীগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১০৬টি প্রকল্পের মধ্যে বাস্তবে ১০১টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দরপত্রের মাধ্যমে ৭১টি, পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠনের মাধ্যমে ২৮টি এবং রিকুয়েস্ট ফর কোটেশনের মাধ্যমে ২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রকল্পগুলোর মোট বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ১৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭৯ টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের ২ কোটি ১৮ লক্ষ ৭ হাজার ১৭৯ টাকা এবং উন্নয়ন তহবিলের ৯৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোতে কাজ সেরে টাকা উত্তোলনের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে কাজই হয়নি বা দায়সারা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু প্রকল্পে যথাযথ কাজ না করেও প্রকৌশলী জাকির হোসেন “পার্সেন্টেজ” নিয়ে বিল স্বাক্ষর করে নিয়েছেন। তৎকালীন প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণও নিজের পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এছাড়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তারের অনুপস্থিতি ও বদলির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রকল্পের টাকা দুর্নীতিমূলকভাবে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বরাদ্দকৃত অর্থের বদলে প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধাভোগী দরিদ্র মানুষরা সুবিধা পাননি।
স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে প্রকৌশলী জাকির হোসেন তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তারের অফিসেও দেখা মেলেনি। অফিস সুপারভাইজার জানিয়েছেন, বিশেষ প্রয়োজনে ছাড়া তিনি অফিসে উপস্থিত থাকেন না এবং বাসা থেকে কার্যক্রম দেখেন।
এমন পরিস্থিতিতে কালীগঞ্জ উপজেলায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে এবং প্রকল্পের বাস্তবতা জনগণের কাছে অজানা রয়ে গেছে।






















