প্রণোদনা দিলেও সাতক্ষীরায় ভুট্টা চাষে সাড়া নেই
উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য দাম না পাওয়ায় সাতক্ষীরার কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। চলতি মৌসুমে প্রায় ৯০ লাখ টাকার প্রণোদনা দেওয়া হলেও জেলার সাত উপজেলায় আবাদ হয়েছে মাত্র ২৫৮ হেক্টর জমিতে, যা ২০২৪ সালের ২৭২ হেক্টরের তুলনায় কম।
কৃষকেরা বলছেন, ভুট্টা মাড়াইয়ের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় বিক্রির সময় নানা জটিলতা ও কখনো হয়রানির শিকার হতে হয়। ফলে ধান ও অন্যান্য ফসলের তুলনায় কৃষক ভুট্টা চাষে আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন।
সাতক্ষীরার সুলতানপুরের ভুট্টা মাড়াই মিল ‘মেসার্স ক্যাফে ফ্লাওয়ার’-এর স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক বলেন, “হাতে মাড়ানো ভুট্টার মান ভালো হয় না। এতে শুকানো কম হয় এবং স্থানীয় দাম অন্যান্য এলাকার তুলনায় কেজিতে ৫-৬ টাকা কম থাকে। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ৬৪০ জন চাষীকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রণোদনার ফলে ক্রমান্বয়ে ভুট্টা আবাদ বাড়বে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, ভুট্টা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ; এতে প্রায় ১১ ভাগ প্রোটিন, প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড ও ভিটামিন এ থাকে।
জেলার বার্ষিক ভুট্টার চাহিদা প্রায় পাঁচ-সাড়ে পাঁচ হাজার টন। চলতি বছরে স্থানীয় উৎপাদন প্রায় ২,২৫০ টন হওয়ায় বাকি আমদানি করতে হচ্ছে।























