Dhaka রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা

আব্দুর রহমান

ইরান ও তার বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যখন হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, তা কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনার ইঙ্গিত নয়—এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তিকেও বড় আঘাত দিয়েছে। এক ফোঁটা তেলও বাইরে যাবে না—এমন হুমকি এবং চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করার সতর্কতা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে তাৎক্ষণিক উত্থান ঘটিয়েছে। ব্রেন্ট তেল ইতোমধ্যে ৮০ ডলারের কাছে পৌঁছেছে, এবং বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে দাম ১০০ ডলারের ওপরে চলে যেতে পারে।

প্রণালিটি দিয়ে দৈনিক প্রায় ১৩ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৩১ শতাংশ। পাশাপাশি উপসাগরীয় এলএনজি রপ্তানির ২০ শতাংশও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান—এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে ভঙ্গুর অবস্থায়। বাংলাদেশে দৈনিক ১,৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস ঘাটতি বিদ্যুৎ, শিল্প উৎপাদন ও ভোক্তা মূল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

চীনা অর্থনীতি আপাতত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী প্রণালি বন্ধে তাদেরও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চাপ সামলাতে হবে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো স্বল্পমেয়াদে কিছুটা প্রস্তুত থাকলেও দীর্ঘ সংকটে শিল্প উৎপাদন ও ভোক্তা মূল্যে প্রভাব পড়বে।

এই পরিস্থিতিতে জরুরি হলো কূটনৈতিক সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ। হরমুজ প্রণালি শুধু জলপথ নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির স্পন্দন। সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। তাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমেই এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব।

সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
প্রকাশের সময় ০৫:৩০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
৫৬ পড়া হয়েছে

বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা

প্রকাশের সময় ০৫:৩০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

ইরান ও তার বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যখন হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, তা কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনার ইঙ্গিত নয়—এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তিকেও বড় আঘাত দিয়েছে। এক ফোঁটা তেলও বাইরে যাবে না—এমন হুমকি এবং চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করার সতর্কতা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে তাৎক্ষণিক উত্থান ঘটিয়েছে। ব্রেন্ট তেল ইতোমধ্যে ৮০ ডলারের কাছে পৌঁছেছে, এবং বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে দাম ১০০ ডলারের ওপরে চলে যেতে পারে।

প্রণালিটি দিয়ে দৈনিক প্রায় ১৩ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৩১ শতাংশ। পাশাপাশি উপসাগরীয় এলএনজি রপ্তানির ২০ শতাংশও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান—এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে ভঙ্গুর অবস্থায়। বাংলাদেশে দৈনিক ১,৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস ঘাটতি বিদ্যুৎ, শিল্প উৎপাদন ও ভোক্তা মূল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

চীনা অর্থনীতি আপাতত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী প্রণালি বন্ধে তাদেরও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চাপ সামলাতে হবে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো স্বল্পমেয়াদে কিছুটা প্রস্তুত থাকলেও দীর্ঘ সংকটে শিল্প উৎপাদন ও ভোক্তা মূল্যে প্রভাব পড়বে।

এই পরিস্থিতিতে জরুরি হলো কূটনৈতিক সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ। হরমুজ প্রণালি শুধু জলপথ নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির স্পন্দন। সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। তাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমেই এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব।