‘ঈদ সালামি’ দাবিতে কথিত সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য
স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল ফিতর আসতে এখনো বেশ কয়েক দিন বাকি। তবে সাতক্ষীরার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এখনই শুরু হয়েছে ‘ঈদ সালামি’র নামে একশ্রেণির কথিত সংবাদকর্মীর দৌরাত্ম্য। নামসর্বস্ব ও অখ্যাত বিভিন্ন সংবাদপত্রের পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে একদল ব্যক্তি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত ও ক্ষুব্ধ জেলার মূলধারার সংবাদকর্মীরাও।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দলবেঁধে অফিসে ঢুকে এসব ব্যক্তি ঈদ সালামির জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। এতে দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে অপ্রীতিকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সরকারি দপ্তরের প্রধান বলেন, “কয়েক দিন ধরে ১০-১৫টি গ্রুপ এসে টাকার তাগাদা দিয়ে গেছে। অনেকে পত্রিকার নামে ‘ঈদ কার্ড’ দিয়ে বিনিময়ে টাকা চাইছেন। বিশেষ করে তালা ও পাটকেলঘাটা এলাকার কিছু লোক দলবেঁধে এসে টাকা না পাওয়া পর্যন্ত চেয়ার ছেড়ে উঠতে চান না। এদের চাপে আমরা ঠিকমতো অফিস করতে পারছি না।”
আরেকজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনেকে নিজেদের স্টাফ রিপোর্টার বা ক্রাইম রিপোর্টার পরিচয় দিচ্ছেন, অথচ সেসব পত্রিকার নাম আগে কখনো শুনিনি। শুনেছি এদের কেউ আগে বাসের হেলপার, হকার বা মিস্ত্রি ছিলেন। এখন একটি পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে চাঁদাবাজি করছেন।”
এ বিষয়ে নাগরিক নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, “সাংবাদিকতাকে পুঁজি করে এই চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়া জরুরি। এরা মহান এই পেশাকে কলঙ্কিত করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
জেলার মূলধারার সাংবাদিকদের মতে, কিছু অসাধু ব্যক্তির এমন কর্মকাণ্ডের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।






















