Dhaka রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সামেক হাসপাতালে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ৫৪ জন কর্মী নিয়োগের কাজ একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতে হাসপাতালের এক হিসাবরক্ষকের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নিয়ম অনুযায়ী লটারি করার কথা থাকলেও তা না করে বিতর্কিত একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রেজুলেশন পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সামেক হাসপাতালে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের জন্য গত বছরের ১ নভেম্বর প্রথম দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড, মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিস, পিমা অ্যাসোসিয়েট ও টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল নামে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। তবে নথিপত্রে ত্রুটি ও অনিয়মের অভিযোগে টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনালের আবেদন বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি দরপত্র দাখিলের শেষ দিনে আগের সেই চারটি প্রতিষ্ঠানই অংশ নেয় এবং সবাই একই দর (রেট) দাখিল করে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, একাধিক প্রতিষ্ঠানের দর একই হলে লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. মোস্তাজুল ইসলাম মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ‘টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল’-এর নাম পুনরায় রেজুলেশন করে অনুমোদনের জন্য অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন। দরপত্রে অংশ নেওয়া আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহমান বলেন, প্রথম দফায় যে প্রতিষ্ঠানটি বাতিল হলো, তাকেই আবার কাজ পাইয়ে দিতে ৫৪ জন প্রার্থীর বিপরীতে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মোট ৫৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সংশ্লিষ্ট অন্য একটি সূত্রের দাবি, হিসাবরক্ষক মোস্তাজুল ইসলামের পরিবার খুলনায় টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিকের বাড়িতে ভাড়া থাকে। সেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরেই এই অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. মোস্তাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সাতক্ষীরার সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ পবিত্র মোহন দাস বলেন, এ ধরনের দুর্নীতি রোধে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তথা স্থানীয় সংসদ সদস্যের তদারকি প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতিবাজরা আইনের আওতায় আসতে বাধ্য। সনাক সাতক্ষীরার বর্তমান সভাপতি তৈয়ব হাসান বাবু জানান, বিষয়টি নিয়ে কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। সাতক্ষীরার সচেতন মহল মনে করছে, আউটসোর্সিং নিয়োগে এমন অস্বচ্ছতা হাসপাতালের সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তারা লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
প্রকাশের সময় ০৩:১৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
৫৫ পড়া হয়েছে

সামেক হাসপাতালে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের সময় ০৩:১৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ৫৪ জন কর্মী নিয়োগের কাজ একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতে হাসপাতালের এক হিসাবরক্ষকের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নিয়ম অনুযায়ী লটারি করার কথা থাকলেও তা না করে বিতর্কিত একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রেজুলেশন পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সামেক হাসপাতালে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের জন্য গত বছরের ১ নভেম্বর প্রথম দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড, মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিস, পিমা অ্যাসোসিয়েট ও টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল নামে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। তবে নথিপত্রে ত্রুটি ও অনিয়মের অভিযোগে টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনালের আবেদন বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি দরপত্র দাখিলের শেষ দিনে আগের সেই চারটি প্রতিষ্ঠানই অংশ নেয় এবং সবাই একই দর (রেট) দাখিল করে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, একাধিক প্রতিষ্ঠানের দর একই হলে লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. মোস্তাজুল ইসলাম মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ‘টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল’-এর নাম পুনরায় রেজুলেশন করে অনুমোদনের জন্য অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন। দরপত্রে অংশ নেওয়া আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহমান বলেন, প্রথম দফায় যে প্রতিষ্ঠানটি বাতিল হলো, তাকেই আবার কাজ পাইয়ে দিতে ৫৪ জন প্রার্থীর বিপরীতে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মোট ৫৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সংশ্লিষ্ট অন্য একটি সূত্রের দাবি, হিসাবরক্ষক মোস্তাজুল ইসলামের পরিবার খুলনায় টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিকের বাড়িতে ভাড়া থাকে। সেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরেই এই অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. মোস্তাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সাতক্ষীরার সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ পবিত্র মোহন দাস বলেন, এ ধরনের দুর্নীতি রোধে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তথা স্থানীয় সংসদ সদস্যের তদারকি প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতিবাজরা আইনের আওতায় আসতে বাধ্য। সনাক সাতক্ষীরার বর্তমান সভাপতি তৈয়ব হাসান বাবু জানান, বিষয়টি নিয়ে কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। সাতক্ষীরার সচেতন মহল মনে করছে, আউটসোর্সিং নিয়োগে এমন অস্বচ্ছতা হাসপাতালের সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তারা লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।