সাতক্ষীরার ২৮শ নারী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার
সমালোচনার মুখে সাতক্ষীরার চারটি আসনে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পাবেন ২,৮০০ নারী। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় বরাদ্দ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা-১, ২, ৩ ও ৪ আসনে পৃথকভাবে ৭০০ পিস করে সিনথেটিক কাপড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহা: ইজ্জত উল্লাহ ফেসবুকে লিখেছেন, “বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় সহায়তা বরাদ্দের ঘোষণায় কৃতজ্ঞতা। তবে পূর্বে ঘোষিত আসনগুলোতে শাড়ি, থ্রি-পিস ও রুমালের কথা থাকলেও বাকি আসনগুলোতে শুধুমাত্র শাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা কিছুটা বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়।”
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামি সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সরকার দলীয় এমপিদের জন্য বহু প্রকার ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হলেও বিরোধী এমপিদের নির্বাচনী এলাকায় বরাদ্দ হয়নি। শ্যামনগরের জন্য বরাদ্দ ৭০০ পিস সিনথেটিক কাপড় নির্ধারিত হয়েছে। এটি বৈষম্য মূলক আচরণ।”
বরাদ্দপত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে ২১৫ নির্বাচনী এলাকায় ৭০০ পিস শাড়ি, ১০০ থ্রি-পিস ও ৫০ হাজী রুমাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দ শুধুমাত্র সরকারি দল (বিএনপি) ও জোটের সংসদ সদস্যদের এলাকায় প্রদান করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামি, এনসিপি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের এলাকায় বরাদ্দ না থাকায় রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল দেশের সকল অসহায় মানুষের জন্য। সরকারের এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত দেশের দরিদ্র অসহায়দের সঙ্গে অন্যায়।”
সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার প্রশ্ন তুলেছেন, “‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নাকি ‘সবার আগে বিএনপি নীতি’? এই বৈষম্যের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ।”
গাজী নজরুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল কোনো দলীয় তহবিল নয়; এটি দেশের সকল নাগরিকের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য। সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিভাজন দূর করা প্রয়োজন।”




























