Dhaka রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানাই

বাংলাদেশ একসময় প্রকৃত অর্থেই নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। দেশের অসংখ্য নদ-নদী ছিল সচল ও প্রাণবন্ত। নদীপথে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং কৃষিকাজে নদীর ছিল অপরিসীম ভূমিকা। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক মৎস্যসম্পদ, জমির উর্বরতা সংরক্ষণ এবং বর্ষাকালে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ থাকার কারণে বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রকোপও তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

কিন্তু স্বাধীনতার পর বিভিন্ন কারণে দেশের নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একদিকে ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব, অন্যদিকে প্রধান নদীগুলোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খাল-বিল ও জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক নদী তাদের স্বাভাবিক নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে না পেরে অকাল বন্যার সৃষ্টি হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে, অনেক জায়গায় মরুভূমির মতো চিত্র দেখা যায়।

এ অবস্থায় বর্ষাকালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বড় বড় শহর ও নগর এলাকাও জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায়। অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে নৌ-চলাচল, কৃষিকাজ এবং মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ বাস্তবতায় দেশের প্রধান নদীগুলোতে পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবি। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই উপলব্ধি থেকেই নদ-নদীর পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

তবে অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের সতর্ক করে দেয়। অতীতে ড্রেজিং, নদী শাসন কিংবা নদী সংস্কারের নামে বিপুল বাজেট বরাদ্দ হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এসব উদ্যোগের বাস্তব ফলাফল ছিল সীমিত।

সুতরাং নদী পুনরুদ্ধার ও খাল খনন কর্মসূচি সফল করতে হলে সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করে বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল খননের প্রকৃত সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন দেশের নদীগুলো তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরে পাবে। নদী ও খাল—এই দুইয়ের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই জলাবদ্ধতা, বন্যা ও পানির সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

শেয়ার করুন

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
প্রকাশের সময় ০৯:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
৪৪ পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানাই

প্রকাশের সময় ০৯:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ একসময় প্রকৃত অর্থেই নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। দেশের অসংখ্য নদ-নদী ছিল সচল ও প্রাণবন্ত। নদীপথে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং কৃষিকাজে নদীর ছিল অপরিসীম ভূমিকা। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক মৎস্যসম্পদ, জমির উর্বরতা সংরক্ষণ এবং বর্ষাকালে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ থাকার কারণে বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রকোপও তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

কিন্তু স্বাধীনতার পর বিভিন্ন কারণে দেশের নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একদিকে ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব, অন্যদিকে প্রধান নদীগুলোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খাল-বিল ও জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক নদী তাদের স্বাভাবিক নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে না পেরে অকাল বন্যার সৃষ্টি হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে, অনেক জায়গায় মরুভূমির মতো চিত্র দেখা যায়।

এ অবস্থায় বর্ষাকালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বড় বড় শহর ও নগর এলাকাও জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায়। অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে নৌ-চলাচল, কৃষিকাজ এবং মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ বাস্তবতায় দেশের প্রধান নদীগুলোতে পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবি। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই উপলব্ধি থেকেই নদ-নদীর পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

তবে অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের সতর্ক করে দেয়। অতীতে ড্রেজিং, নদী শাসন কিংবা নদী সংস্কারের নামে বিপুল বাজেট বরাদ্দ হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এসব উদ্যোগের বাস্তব ফলাফল ছিল সীমিত।

সুতরাং নদী পুনরুদ্ধার ও খাল খনন কর্মসূচি সফল করতে হলে সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করে বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল খননের প্রকৃত সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন দেশের নদীগুলো তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরে পাবে। নদী ও খাল—এই দুইয়ের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই জলাবদ্ধতা, বন্যা ও পানির সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।