Dhaka রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারীর জীবন 

কাজী নাজরিন 

নারীর জীবন তেজপাতা গাছের মতো—
যার পাতা ছিঁড়ে, শুকিয়ে,
রান্নার ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে পড়ে সুগন্ধ।

নারীর জীবন দারচিনি গাছের মতো—
যার ছাল তুলে নিয়ে
মানুষ মুগ্ধ হয় তার মিষ্টি ঘ্রাণে।

নারীর জীবন এলাচ, লবঙ্গ, পুদিনাপাতার মতো—
ব্যবহৃত হয় নীরবে,
অনুভূতির কোনো ভাষা থাকে না তাতে।

আমরা নারী—
সংসারের গাছগাছালি,
ফুল, পাতা, ছাল হয়ে
নীরবতায় বেঁচে থাকি বলেই
হয়তো আমাদের সুগন্ধ এত দূর ছড়িয়ে পড়ে।

নারীর জীবনে “সুখী সংসার” মানে
অভিনয় করে বেঁচে থাকা—
তাই তো পৃথিবীতে সুখী সংসারের অভাব নেই,
কিন্তু প্রশ্ন থাকে—
শতকের ঘরে কয়জন নারী সত্যিই সুখী?

যখন নারী তার উদ্ভিদ-স্বভাব ভাঙতে চায়,
তখনই সে হয়ে যায় “অসংসারী”, “অভদ্র”, “অযোগ্য”—
সমাজের দেওয়া অগণিত তকমায় ঢেকে যায় তার পরিচয়।

নারীরা আত্মসম্মান বাঁচাতে
নিজেকেই ক্ষয় করে
গড়ে তোলে এক অভিনয়ের সুখরাজ্য।

নারীর জীবন মানেই—
নরকের মাঝেও সুখের অভিনয়,
হাসির আড়ালে লুকানো দীর্ঘশ্বাস।

অভিনয় করতে করতে
যখন সহ্যের সীমা ভেঙে যায়,
তখনই প্রকাশ পায়
তার সত্যিকারের সুখের রহস্য—
কেউ হারিয়ে যায় নীরবে,
কেউ ভেঙে পড়ে নিজের ভেতরেই।

অনেককে বাইরে থেকে ভালো লাগে,
কিন্তু ভেতরের মানুষটা
মরে গেছে বহু আগেই।

তবুও নারী—
সেরা মা, সেরা স্ত্রী, সেরা কন্যা,
সেরা বোন, সেরা রাঁধুনি, সেরা গৃহিণী—
সব পরিচয়ে পূর্ণ,
শুধু নিজের পরিচয়টাই থাকে অপূর্ণ।

বাস্তবতা হলো—
নারীর জীবন এক অন্তহীন নাট্যমঞ্চ,
যেখানে অভিনয়ই বেঁচে থাকার আরেক নাম।

সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
প্রকাশের সময় ০৪:৫৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
৪৭ পড়া হয়েছে

নারীর জীবন 

প্রকাশের সময় ০৪:৫৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

নারীর জীবন তেজপাতা গাছের মতো—
যার পাতা ছিঁড়ে, শুকিয়ে,
রান্নার ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে পড়ে সুগন্ধ।

নারীর জীবন দারচিনি গাছের মতো—
যার ছাল তুলে নিয়ে
মানুষ মুগ্ধ হয় তার মিষ্টি ঘ্রাণে।

নারীর জীবন এলাচ, লবঙ্গ, পুদিনাপাতার মতো—
ব্যবহৃত হয় নীরবে,
অনুভূতির কোনো ভাষা থাকে না তাতে।

আমরা নারী—
সংসারের গাছগাছালি,
ফুল, পাতা, ছাল হয়ে
নীরবতায় বেঁচে থাকি বলেই
হয়তো আমাদের সুগন্ধ এত দূর ছড়িয়ে পড়ে।

নারীর জীবনে “সুখী সংসার” মানে
অভিনয় করে বেঁচে থাকা—
তাই তো পৃথিবীতে সুখী সংসারের অভাব নেই,
কিন্তু প্রশ্ন থাকে—
শতকের ঘরে কয়জন নারী সত্যিই সুখী?

যখন নারী তার উদ্ভিদ-স্বভাব ভাঙতে চায়,
তখনই সে হয়ে যায় “অসংসারী”, “অভদ্র”, “অযোগ্য”—
সমাজের দেওয়া অগণিত তকমায় ঢেকে যায় তার পরিচয়।

নারীরা আত্মসম্মান বাঁচাতে
নিজেকেই ক্ষয় করে
গড়ে তোলে এক অভিনয়ের সুখরাজ্য।

নারীর জীবন মানেই—
নরকের মাঝেও সুখের অভিনয়,
হাসির আড়ালে লুকানো দীর্ঘশ্বাস।

অভিনয় করতে করতে
যখন সহ্যের সীমা ভেঙে যায়,
তখনই প্রকাশ পায়
তার সত্যিকারের সুখের রহস্য—
কেউ হারিয়ে যায় নীরবে,
কেউ ভেঙে পড়ে নিজের ভেতরেই।

অনেককে বাইরে থেকে ভালো লাগে,
কিন্তু ভেতরের মানুষটা
মরে গেছে বহু আগেই।

তবুও নারী—
সেরা মা, সেরা স্ত্রী, সেরা কন্যা,
সেরা বোন, সেরা রাঁধুনি, সেরা গৃহিণী—
সব পরিচয়ে পূর্ণ,
শুধু নিজের পরিচয়টাই থাকে অপূর্ণ।

বাস্তবতা হলো—
নারীর জীবন এক অন্তহীন নাট্যমঞ্চ,
যেখানে অভিনয়ই বেঁচে থাকার আরেক নাম।