অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে
শিশুর স্ক্রিন আসক্তি
- প্রকাশের সময় ০৫:০২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / ১৫ বার দেখা হয়েছে
আইসিডিডিআরবির সাম্প্রতিক এক গবেষণা ঢাকার স্কুলগামী শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এনেছে। এতে দেখা গেছে, শিশুরা গড়ে প্রায় ৪.৬ ঘণ্টা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, টেলিভিশন, কম্পিউটার ও গেমিং ডিভাইসে ব্যয় করছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে সুপারিশকৃত সময়সীমার তুলনায় অনেক বেশি।
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে পড়ছে। ঘুমের ঘাটতি, মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, স্থূলতার ঝুঁকি এবং আচরণগত পরিবর্তন—যেমন দেরিতে ঘুমানো, অতিরিক্ত রাগ, একাকিত্বে আগ্রহ ও খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাওয়া—ক্রমেই উদ্বেগ তৈরি করছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা দিনে দুই ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার করে, তাদের গড় ঘুমের সময় দাঁড়ায় মাত্র ৭.৩ ঘণ্টা, যা শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত নয়।
এই পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ডিজিটাল ডিভাইসের সহজলভ্যতা, অনলাইন ক্লাস ও বিনোদনের বিস্তার, শহরে খেলার জায়গার অভাব এবং অভিভাবকদের নজরদারিতে শিথিলতা—সব মিলিয়ে শিশুদের স্ক্রিননির্ভরতা বাড়ছে।
এ অবস্থায় একক উদ্যোগে সমাধান সম্ভব নয়। পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যখাত ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের দৈনিক স্ক্রিন ব্যবহারে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা এবং রাতের নির্দিষ্ট সময়ের পর সব ধরনের পর্দা বন্ধ রাখা।
বিদ্যালয়গুলোতে স্ক্রিন ব্যবহারের নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। অনলাইন শিক্ষার সময় ও কনটেন্ট এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে শিশুদের স্বাস্থ্য ও বিশ্রামের বিষয়টি বিবেচনায় থাকে। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে চোখ ও মানসিক স্বাস্থ্য, নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ খেলার মাঠ ও পাঠাগার গড়ে তোলা এবং অভিভাবকদের ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি সময়ের দাবি। প্রযুক্তি যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। শিশুরাই ভবিষ্যৎ। তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা এখনই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।




























