Dhaka মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে, বলছে ব্রিটিশ প্রতিবেদন

  • সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৫:১৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাজ করা এবং মতপ্রকাশের সুযোগ আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন। তবে রাজনৈতিক সহিংসতা, দুর্নীতি, পুলিশের জবাবদিহি ও সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে প্রতিবেদনে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তৈরি Report of a Fact-Finding Mission Bangladesh: Political Situation, October 2026 শীর্ষক প্রতিবেদনটি ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালের ৭ থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশ সফর করে তিন সদস্যের একটি ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল বিভিন্ন অংশীজনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে উন্নতি ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

বিরোধী দলগুলোর কার্যক্রম

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ, প্রচার-প্রচারণা, সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার অনেকগুলো স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পদ ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

২০২৬ সালের নির্বাচনকে বিভিন্ন সূত্র তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ এবং আগের নির্বাচনগুলোর চেয়ে কম সহিংস বলে বর্ণনা করেছে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও সাবেক নেতাকর্মীদের পরিস্থিতি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ রয়েছে। দলটির শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাবলির কারণে দলটির প্রতি জনঅসন্তোষ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

দুর্নীতি, সহিংসতা বা দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না—এমন নিম্নপর্যায়ের আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা সাধারণত নিজ নিজ এলাকায় বসবাস করতে পারছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে দলটির প্রতি সমর্থন জানালে তাঁদের সামাজিক বৈরিতা, হয়রানি বা সহিংসতার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু সাবেক নেতাকর্মী অন্য দলে যোগ দিয়েছেন, দেশের অন্য এলাকায় চলে গেছেন কিংবা দেশ ছেড়েছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মামলা প্রত্যাহার ও বিচারপ্রক্রিয়া

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছেন এবং বেশির ভাগ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত ২১ হাজার ৫৮৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন বলে পুলিশের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনার কাজ চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন-সম্পর্কিত অভিযোগে দলটির বহু নেতা, কর্মী ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও নিয়মিত আদালতে এসব মামলার বিচার চলছে। কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পেলেও অন্যরা বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্কার ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ

রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উন্নতির কথা উল্লেখ করলেও প্রতিবেদনে দুর্নীতি, পুলিশের জবাবদিহি ও কার্যকারিতা এবং গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রস্তাবিত বিস্তৃত সংস্কার বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি বিভিন্ন অংশীজনের সাক্ষাৎকার ও তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদন। এতে উল্লিখিত মূল্যায়নগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণের সারাংশ; এগুলোকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিটি দিকের চূড়ান্ত বা সর্বসম্মত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত নয়।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে, বলছে ব্রিটিশ প্রতিবেদন

প্রকাশের সময় ০৫:১৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাজ করা এবং মতপ্রকাশের সুযোগ আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন। তবে রাজনৈতিক সহিংসতা, দুর্নীতি, পুলিশের জবাবদিহি ও সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে প্রতিবেদনে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তৈরি Report of a Fact-Finding Mission Bangladesh: Political Situation, October 2026 শীর্ষক প্রতিবেদনটি ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালের ৭ থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশ সফর করে তিন সদস্যের একটি ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল বিভিন্ন অংশীজনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে উন্নতি ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

বিরোধী দলগুলোর কার্যক্রম

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ, প্রচার-প্রচারণা, সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার অনেকগুলো স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পদ ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

২০২৬ সালের নির্বাচনকে বিভিন্ন সূত্র তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ এবং আগের নির্বাচনগুলোর চেয়ে কম সহিংস বলে বর্ণনা করেছে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও সাবেক নেতাকর্মীদের পরিস্থিতি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ রয়েছে। দলটির শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাবলির কারণে দলটির প্রতি জনঅসন্তোষ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

দুর্নীতি, সহিংসতা বা দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না—এমন নিম্নপর্যায়ের আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা সাধারণত নিজ নিজ এলাকায় বসবাস করতে পারছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে দলটির প্রতি সমর্থন জানালে তাঁদের সামাজিক বৈরিতা, হয়রানি বা সহিংসতার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু সাবেক নেতাকর্মী অন্য দলে যোগ দিয়েছেন, দেশের অন্য এলাকায় চলে গেছেন কিংবা দেশ ছেড়েছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মামলা প্রত্যাহার ও বিচারপ্রক্রিয়া

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছেন এবং বেশির ভাগ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত ২১ হাজার ৫৮৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন বলে পুলিশের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনার কাজ চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন-সম্পর্কিত অভিযোগে দলটির বহু নেতা, কর্মী ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও নিয়মিত আদালতে এসব মামলার বিচার চলছে। কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পেলেও অন্যরা বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্কার ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ

রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উন্নতির কথা উল্লেখ করলেও প্রতিবেদনে দুর্নীতি, পুলিশের জবাবদিহি ও কার্যকারিতা এবং গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রস্তাবিত বিস্তৃত সংস্কার বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি বিভিন্ন অংশীজনের সাক্ষাৎকার ও তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদন। এতে উল্লিখিত মূল্যায়নগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণের সারাংশ; এগুলোকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিটি দিকের চূড়ান্ত বা সর্বসম্মত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত নয়।