উপসাগরজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলা, নিহত ৭৮৭
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বুধবার ভোরে ইসরাইল ইরানে নতুন করে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রায় দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে এক প্রজন্মের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ।
এদিকে ইরান উপসাগরীয় বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। কাতারের আল-উদেইদে মার্কিন ঘাঁটি, দুবাই, রিয়াদ, কুয়েত সিটি ও বাহরাইনে মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়। কাতার জানিয়েছে, দোহায় হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হামলার পর নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনায় ফিরতে চাইলেও এখন ‘অনেক দেরি হয়ে গেছে’। তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌ ও বিমান সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে লেবাননেও। ইরানপন্থী সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফা লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাল্টা হামলায় লেবাননে অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলজুড়ে দূতাবাস থেকে জরুরি নয় এমন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং নাগরিকদের দ্রুত অঞ্চল ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌবাহিনী প্রস্তুত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।




























