Dhaka সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার মনে হয়, সবার সবকিছু করার দরকার নেই: আইশা খান

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ১০:১৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩৯ বার দেখা হয়েছে

বর্তমান সময়ের অভিনয় অঙ্গনে যে কজন তরুণ অভিনেত্রী স্বল্প সময়ে নিজস্ব পরিচয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম আইশা খান। তাঁর অভিনয়ে যেমন রয়েছে স্বতন্ত্রতা, তেমনি ব্যক্তিত্বে আছে এক ধরনের সংযত সৌন্দর্য; যা তাঁকে অন্যদের ভিড় থেকে আলাদা করে তোলে। জনপ্রিয়তার দ্রুত স্রোতে গা না ভাসিয়ে বরং ধীর, সচেতন এবং বাছাইকৃত কাজের মধ্য দিয়েই নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন তিনি। নাটক, ওয়েব সিরিজ কিংবা সিনেমা– সব মাধ্যমে কাজ করলেও আইশা খান কখনোই সংখ্যার দৌড়ে নাম লেখাননি। বরং প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এ অভিনেত্রী।

নিজের কাজের মূল্যায়নে বেশ সৎ ও আত্মসমালোচনামূলক আইশা। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মনে হয়, সবার সবকিছু করার দরকার নেই। হয়তো আমি এখনও বড় পর্দার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নই। আমি যে কাজগুলো করেছি, সেগুলো হয়তো সবার কাছে প্রত্যাশামতো ভালো লাগেনি। সেখানে আমারও কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।’ থিয়েটারের সঙ্গে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকাকে নিজের শেখার পথে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমি থিয়েট্রিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসিনি, তাই শেখার অনেক জায়গা আছে। যদি আমি আগে থেকেই অনেক কিছু জানতাম, তাহলে হয়তো এই দ্বিধা তৈরি হতো না। কিন্তু এখন এ শেখার প্রক্রিয়াটাই আমাকে এগিয়ে নিচ্ছে।’

সম্প্রতি তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘শেকড়’ দেশের বাইরেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে ‘ফাল্গুনী’ চরিত্রে তাঁর সংবেদনশীল ও পরিমিত অভিনয় দর্শক-সমালোচক দুপক্ষের কাছেই সমাদৃত হয়েছে। তবে এ সাফল্য তাঁকে তাড়াহুড়ো করে নতুন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেনি। বরং তিনি সময় নিয়ে নিজেকে আরও প্রস্তুত করতে চান।

আইশা বলেন, ‘শেকড়ের পর আপাতত নতুন কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা নেই। আমি এখনও প্রতিদিন শিখছি, ভুল করছি এবং সেই ভুল থেকে নিজেকে গড়ে তুলছি। আমি চাই যখন পর্দায় ফিরব, তখন আরও পরিণত একজন অভিনেত্রী হিসেবে ফিরতে।’

বাংলা চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক জোয়ার নিয়েও আশাবাদী এ অভিনেত্রী। বিশেষ করে ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ সিনেমার সাফল্যকে তিনি ইন্ডাস্ট্রির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এ দুই সিনেমা প্রমাণ করেছে– ভালো গল্প ও নির্মাণ থাকলে দর্শক অবশ্যই হলে ফিরবে। এই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আলোচনায় থাকা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর সাফল্যও তাঁকে আনন্দিত করছে। আইশা বলেন, ‘এটা আমার প্রিয় এক নির্মাতার কাজ। তাঁর সঙ্গে আমার আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। ছবিতে আমার পছন্দের অনেক শিল্পী আছেন। তাদের সাফল্য দেখে ভালো লাগছে।’ আগামী দিনের প্রত্যাশা নিয়েও আশাবাদী তিনি। বিশেষ করে আসন্ন ‘রইদ’ সিনেমাকে ঘিরে তাঁর আগ্রহ স্পষ্ট। এ নির্মাতার সঙ্গেই আমার বিজ্ঞাপনে প্রথম কাজ করা হয়েছিল। তাই তাঁর নতুন সিনেমা নিয়ে আমি আশাবাদী। ‘হাওয়া’ যেভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন প্রাণ এনেছিল, ‘রইদ’ও তেমন কিছু এনে দিতে পারে– বলছিলেন আইশা।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

আমার মনে হয়, সবার সবকিছু করার দরকার নেই: আইশা খান

প্রকাশের সময় ১০:১৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমান সময়ের অভিনয় অঙ্গনে যে কজন তরুণ অভিনেত্রী স্বল্প সময়ে নিজস্ব পরিচয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম আইশা খান। তাঁর অভিনয়ে যেমন রয়েছে স্বতন্ত্রতা, তেমনি ব্যক্তিত্বে আছে এক ধরনের সংযত সৌন্দর্য; যা তাঁকে অন্যদের ভিড় থেকে আলাদা করে তোলে। জনপ্রিয়তার দ্রুত স্রোতে গা না ভাসিয়ে বরং ধীর, সচেতন এবং বাছাইকৃত কাজের মধ্য দিয়েই নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন তিনি। নাটক, ওয়েব সিরিজ কিংবা সিনেমা– সব মাধ্যমে কাজ করলেও আইশা খান কখনোই সংখ্যার দৌড়ে নাম লেখাননি। বরং প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এ অভিনেত্রী।

নিজের কাজের মূল্যায়নে বেশ সৎ ও আত্মসমালোচনামূলক আইশা। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মনে হয়, সবার সবকিছু করার দরকার নেই। হয়তো আমি এখনও বড় পর্দার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নই। আমি যে কাজগুলো করেছি, সেগুলো হয়তো সবার কাছে প্রত্যাশামতো ভালো লাগেনি। সেখানে আমারও কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।’ থিয়েটারের সঙ্গে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকাকে নিজের শেখার পথে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমি থিয়েট্রিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসিনি, তাই শেখার অনেক জায়গা আছে। যদি আমি আগে থেকেই অনেক কিছু জানতাম, তাহলে হয়তো এই দ্বিধা তৈরি হতো না। কিন্তু এখন এ শেখার প্রক্রিয়াটাই আমাকে এগিয়ে নিচ্ছে।’

সম্প্রতি তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘শেকড়’ দেশের বাইরেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে ‘ফাল্গুনী’ চরিত্রে তাঁর সংবেদনশীল ও পরিমিত অভিনয় দর্শক-সমালোচক দুপক্ষের কাছেই সমাদৃত হয়েছে। তবে এ সাফল্য তাঁকে তাড়াহুড়ো করে নতুন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেনি। বরং তিনি সময় নিয়ে নিজেকে আরও প্রস্তুত করতে চান।

আইশা বলেন, ‘শেকড়ের পর আপাতত নতুন কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা নেই। আমি এখনও প্রতিদিন শিখছি, ভুল করছি এবং সেই ভুল থেকে নিজেকে গড়ে তুলছি। আমি চাই যখন পর্দায় ফিরব, তখন আরও পরিণত একজন অভিনেত্রী হিসেবে ফিরতে।’

বাংলা চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক জোয়ার নিয়েও আশাবাদী এ অভিনেত্রী। বিশেষ করে ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ সিনেমার সাফল্যকে তিনি ইন্ডাস্ট্রির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এ দুই সিনেমা প্রমাণ করেছে– ভালো গল্প ও নির্মাণ থাকলে দর্শক অবশ্যই হলে ফিরবে। এই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আলোচনায় থাকা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর সাফল্যও তাঁকে আনন্দিত করছে। আইশা বলেন, ‘এটা আমার প্রিয় এক নির্মাতার কাজ। তাঁর সঙ্গে আমার আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। ছবিতে আমার পছন্দের অনেক শিল্পী আছেন। তাদের সাফল্য দেখে ভালো লাগছে।’ আগামী দিনের প্রত্যাশা নিয়েও আশাবাদী তিনি। বিশেষ করে আসন্ন ‘রইদ’ সিনেমাকে ঘিরে তাঁর আগ্রহ স্পষ্ট। এ নির্মাতার সঙ্গেই আমার বিজ্ঞাপনে প্রথম কাজ করা হয়েছিল। তাই তাঁর নতুন সিনেমা নিয়ে আমি আশাবাদী। ‘হাওয়া’ যেভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন প্রাণ এনেছিল, ‘রইদ’ও তেমন কিছু এনে দিতে পারে– বলছিলেন আইশা।