Dhaka বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ লক্ষ বীজ রোপণের পর

শ্যামনগরে চারাগাছ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ

জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণের পর এবার সেগুলো থেকে জন্ম নেওয়া চারাগাছ রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বারসিকের উপকূলীয় আঞ্চলিক কেন্দ্রে ইউনিয়ন পর্যায়ের তদারকি কমিটির সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠিত জনসংগঠন, শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশন ও গ্রিন কোয়ালিশন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য কমলা রানীর সভাপতিত্বে সভায় বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। বারসিকের ক্যাম্পেইন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক ফ্যাসিলিটেটর স.ম. ওসমান গনী সোহাগ সভা সঞ্চালনা করেন।

শাহীন ইসলাম বলেন, উপকূল পুনরুদ্ধারে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জনসংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ উদ্যোগ শুধু গাছ লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; উপকূলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সুরক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, বীজ রোপণ করেই দায়িত্ব শেষ হয় না। অঙ্কুরোদগম থেকে চারাগাছের বেড়ে ওঠা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যত্ন ও সুরক্ষা প্রয়োজন। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জনসংগঠনগুলো এগিয়ে এলে বারসিকও সহযোগিতা করবে।

সভায় বক্তব্য দেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান, কৈখালী ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি মো. আশরাফ হোসেন, সর্বোচ্চ বীজদাতা লতা রানী এবং আটুলিয়া এ. কাদের স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক কিশোর কুমার।

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এর সাফল্য নির্ভর করে বীজের অঙ্কুরোদগম, চারাগাছের টিকে থাকা ও নিয়মিত পরিচর্যার ওপর। এ জন্য স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ও নিয়মিত তদারকি জরুরি।

সভায় গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদা পারভীন, ভুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহানা মোস্তফা, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শুক্করী রানী, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পলাশী রানীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের তদারকি কমিটির সদস্য, গ্রিন কোয়ালিশনের নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ১০ লক্ষ বীজ রোপণ কার্যক্রমের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, জনসম্পৃক্ততা ও অগ্রগতি নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা তুলে ধরেন বারসিকের কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর এস. এম. জান্নাতুল নাঈম।

আলোচনা শেষে প্রতিটি ইউনিয়নে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে চারাগাছের চারপাশে বেড়া ও ঘের নির্মাণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং পাহারার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সংগঠন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করে ক্রাউডফান্ডিং বা সম্মিলিত অর্থসংগ্রহের মাধ্যমে চারাগাছের সুরক্ষা ও পরিচর্যা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তদারকি কমিটির সদস্যরা।

অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ধারাবাহিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এ কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সুফল বয়ে আনতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই শ্যামনগরের আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার-সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুজ্জাহান কনক উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উপকূলীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধার, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা এবং সবুজ ও প্রাণবৈচিত্র্যসমৃদ্ধ উপকূল গড়ে তোলা এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

১০ লক্ষ বীজ রোপণের পর

শ্যামনগরে চারাগাছ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ

প্রকাশের সময় ০৩:০৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণের পর এবার সেগুলো থেকে জন্ম নেওয়া চারাগাছ রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বারসিকের উপকূলীয় আঞ্চলিক কেন্দ্রে ইউনিয়ন পর্যায়ের তদারকি কমিটির সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠিত জনসংগঠন, শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশন ও গ্রিন কোয়ালিশন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য কমলা রানীর সভাপতিত্বে সভায় বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। বারসিকের ক্যাম্পেইন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক ফ্যাসিলিটেটর স.ম. ওসমান গনী সোহাগ সভা সঞ্চালনা করেন।

শাহীন ইসলাম বলেন, উপকূল পুনরুদ্ধারে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জনসংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ উদ্যোগ শুধু গাছ লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; উপকূলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সুরক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, বীজ রোপণ করেই দায়িত্ব শেষ হয় না। অঙ্কুরোদগম থেকে চারাগাছের বেড়ে ওঠা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যত্ন ও সুরক্ষা প্রয়োজন। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জনসংগঠনগুলো এগিয়ে এলে বারসিকও সহযোগিতা করবে।

সভায় বক্তব্য দেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান, কৈখালী ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি মো. আশরাফ হোসেন, সর্বোচ্চ বীজদাতা লতা রানী এবং আটুলিয়া এ. কাদের স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক কিশোর কুমার।

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এর সাফল্য নির্ভর করে বীজের অঙ্কুরোদগম, চারাগাছের টিকে থাকা ও নিয়মিত পরিচর্যার ওপর। এ জন্য স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ও নিয়মিত তদারকি জরুরি।

সভায় গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদা পারভীন, ভুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহানা মোস্তফা, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শুক্করী রানী, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পলাশী রানীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের তদারকি কমিটির সদস্য, গ্রিন কোয়ালিশনের নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ১০ লক্ষ বীজ রোপণ কার্যক্রমের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, জনসম্পৃক্ততা ও অগ্রগতি নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা তুলে ধরেন বারসিকের কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর এস. এম. জান্নাতুল নাঈম।

আলোচনা শেষে প্রতিটি ইউনিয়নে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে চারাগাছের চারপাশে বেড়া ও ঘের নির্মাণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং পাহারার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সংগঠন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করে ক্রাউডফান্ডিং বা সম্মিলিত অর্থসংগ্রহের মাধ্যমে চারাগাছের সুরক্ষা ও পরিচর্যা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তদারকি কমিটির সদস্যরা।

অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ধারাবাহিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এ কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সুফল বয়ে আনতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই শ্যামনগরের আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার-সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুজ্জাহান কনক উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উপকূলীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধার, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা এবং সবুজ ও প্রাণবৈচিত্র্যসমৃদ্ধ উপকূল গড়ে তোলা এ উদ্যোগের লক্ষ্য।