Dhaka বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আওয়ামী লীগ যা করত, তা এখন বিএনপি করছে’

  • সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৯:৫৮:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করত বিএনপি, বর্তমান সরকারও সেসব কাজের পুনরাবৃত্তি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, সভা-সমাবেশ ও ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি বাতিল, সরকারি পদে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং গণভোটের রায় উপেক্ষা করার মাধ্যমে সরকার ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য আমির হামজাকে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বিপুল ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যকে বাধা দিতে না পেরে তাঁর ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারও একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল।

এ সময় বিএনপিকে আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদের পথে না হেঁটে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজশাহীতে সম্মেলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাদরাসাগুলোর ম্যানেজিং কমিটি একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দলীয় লোকদের বসানোর উদ্দেশ্যে সরকার এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গত ১৭ বছর শেখ হাসিনা এ পথেই হেঁটেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরে তাকে দিল্লি চলে যেতে হয়েছে।

সরকারের সাত মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এর দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা হাস্যকর। জামায়াতে ইসলামী জুলাইকে ধারণ করে না- বিএনপির এমন অভিযোগও হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, জামায়াতসহ ১১ দল জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করছে। বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করে তা বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সাংবিধানিক পদসহ সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের বসানো হচ্ছে। সম্প্রতি সরকারি কর্মকমিশনেও হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে পিএসসির চেয়ারম্যানসহ অন্য সদস্যদের পদত্যাগের কথা বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় জামায়াতের আমির সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাঁদের অবদান তুলে ধরতে জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব উদ্যোগে বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় বই প্রকাশ করেছে। অথচ সরকারের কোটি কোটি টাকার তহবিল থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বেতন পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু জনগণের সেই রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার তাঁদের মতামত উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে। বিএনপি তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এ অনড় থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের বিরোধিতা করছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা।

তার ভাষ্য, সংবিধান সংস্কার না করে বর্তমান কাঠামো বহাল রাখলে ভবিষ্যতে যে প্রধানমন্ত্রীই ক্ষমতায় আসুন, তার ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ থাকবে। বিএনপি ভিন্নমত গ্রহণ ও সমঝোতার পথ বেছে নেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ওসমানী উদ্যানে একটি অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার যোগ না দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ না করা অসম্মানজনক। অথচ প্রতিমন্ত্রীদের নাম আমন্ত্রণপত্রে রাখা হয়েছিল। রুলস অব প্রেসিডেন্স অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদার অধিকারী। যথাযথ সম্মান না দেওয়ার কারণেই তিনি অনুষ্ঠানে যাননি বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অসত্য ও হাস্যকর আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানান তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের দুর্নীতি ও দলীয়করণ নিয়ে কথা বললেই বিরোধী দলকে রাষ্ট্রবিরোধী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। সরকারের কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের জোট করার অভিযোগ নাকচ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জোট করেননি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা বাস্তবায়নের দাবিতে জাতীয় পার্টি ও বাম দলসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আন্দোলন করেছেন। ১৯৯৬ সালে বিএনপির কারণেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল বলে দাবি করেন তিনি। ওই সময় বিএনপি মাগুরা মার্কা নির্বাচন করেছিল এবং ক্ষমতায় গিয়ে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রশিবিরকে উৎখাত করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, সরকারি পদে দলীয় লোক নিয়োগ এবং জনগণের রায় উপেক্ষা করাকে ফ্যাসিবাদের লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন গোলাম পরওয়ার। নিজের দলের জুলাই আন্দোলনে আহতদের জিজ্ঞাসা করলেই বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথ চিনতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও মাওলানা আবদুল হালিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. আব্দুর রব, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

‘আওয়ামী লীগ যা করত, তা এখন বিএনপি করছে’

প্রকাশের সময় ০৯:৫৮:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করত বিএনপি, বর্তমান সরকারও সেসব কাজের পুনরাবৃত্তি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, সভা-সমাবেশ ও ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি বাতিল, সরকারি পদে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং গণভোটের রায় উপেক্ষা করার মাধ্যমে সরকার ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য আমির হামজাকে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বিপুল ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যকে বাধা দিতে না পেরে তাঁর ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারও একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল।

এ সময় বিএনপিকে আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদের পথে না হেঁটে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজশাহীতে সম্মেলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাদরাসাগুলোর ম্যানেজিং কমিটি একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দলীয় লোকদের বসানোর উদ্দেশ্যে সরকার এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গত ১৭ বছর শেখ হাসিনা এ পথেই হেঁটেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরে তাকে দিল্লি চলে যেতে হয়েছে।

সরকারের সাত মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এর দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা হাস্যকর। জামায়াতে ইসলামী জুলাইকে ধারণ করে না- বিএনপির এমন অভিযোগও হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, জামায়াতসহ ১১ দল জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করছে। বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করে তা বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সাংবিধানিক পদসহ সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের বসানো হচ্ছে। সম্প্রতি সরকারি কর্মকমিশনেও হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে পিএসসির চেয়ারম্যানসহ অন্য সদস্যদের পদত্যাগের কথা বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় জামায়াতের আমির সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাঁদের অবদান তুলে ধরতে জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব উদ্যোগে বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় বই প্রকাশ করেছে। অথচ সরকারের কোটি কোটি টাকার তহবিল থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বেতন পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু জনগণের সেই রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার তাঁদের মতামত উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে। বিএনপি তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এ অনড় থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের বিরোধিতা করছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা।

তার ভাষ্য, সংবিধান সংস্কার না করে বর্তমান কাঠামো বহাল রাখলে ভবিষ্যতে যে প্রধানমন্ত্রীই ক্ষমতায় আসুন, তার ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ থাকবে। বিএনপি ভিন্নমত গ্রহণ ও সমঝোতার পথ বেছে নেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ওসমানী উদ্যানে একটি অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার যোগ না দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ না করা অসম্মানজনক। অথচ প্রতিমন্ত্রীদের নাম আমন্ত্রণপত্রে রাখা হয়েছিল। রুলস অব প্রেসিডেন্স অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদার অধিকারী। যথাযথ সম্মান না দেওয়ার কারণেই তিনি অনুষ্ঠানে যাননি বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অসত্য ও হাস্যকর আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানান তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের দুর্নীতি ও দলীয়করণ নিয়ে কথা বললেই বিরোধী দলকে রাষ্ট্রবিরোধী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। সরকারের কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের জোট করার অভিযোগ নাকচ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জোট করেননি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা বাস্তবায়নের দাবিতে জাতীয় পার্টি ও বাম দলসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আন্দোলন করেছেন। ১৯৯৬ সালে বিএনপির কারণেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল বলে দাবি করেন তিনি। ওই সময় বিএনপি মাগুরা মার্কা নির্বাচন করেছিল এবং ক্ষমতায় গিয়ে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রশিবিরকে উৎখাত করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, সরকারি পদে দলীয় লোক নিয়োগ এবং জনগণের রায় উপেক্ষা করাকে ফ্যাসিবাদের লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন গোলাম পরওয়ার। নিজের দলের জুলাই আন্দোলনে আহতদের জিজ্ঞাসা করলেই বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথ চিনতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও মাওলানা আবদুল হালিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. আব্দুর রব, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।