Dhaka বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে

খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

  • সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৬:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ বিধান কার্যকর হবে।

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন নিতে হবে। পাশাপাশি চার শ্রেণির বিশেষায়িত খাদ্য ব্যবসার জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী এবং রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর দোকানও এ বিধানের আওতায় আসবে। এ ছাড়া খাদ্য আমদানি, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের নির্ধারিত ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে।

বিশেষায়িত খাদ্যের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্যসহ নির্ধারিত পণ্য। এসব পণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী লাইসেন্স নিতে হবে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবিধানমালার তফসিল-১০ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য ফরম ৫.১ এবং লাইসেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ ব্যবহার করতে হবে।

প্রবিধান অনুযায়ী, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বছর। এরপর তা নবায়ন করতে হবে। নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা হবে। বিশেষায়িত খাদ্য প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি ১০ হাজার টাকা। ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স ফি ৬০ হাজার টাকা।

প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর মাধ্যমে ভোক্তারা পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করা হবে।

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও তা ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে

খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

প্রকাশের সময় ০৬:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ বিধান কার্যকর হবে।

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন নিতে হবে। পাশাপাশি চার শ্রেণির বিশেষায়িত খাদ্য ব্যবসার জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী এবং রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর দোকানও এ বিধানের আওতায় আসবে। এ ছাড়া খাদ্য আমদানি, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের নির্ধারিত ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে।

বিশেষায়িত খাদ্যের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্যসহ নির্ধারিত পণ্য। এসব পণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী লাইসেন্স নিতে হবে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবিধানমালার তফসিল-১০ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য ফরম ৫.১ এবং লাইসেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ ব্যবহার করতে হবে।

প্রবিধান অনুযায়ী, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বছর। এরপর তা নবায়ন করতে হবে। নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা হবে। বিশেষায়িত খাদ্য প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি ১০ হাজার টাকা। ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স ফি ৬০ হাজার টাকা।

প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর মাধ্যমে ভোক্তারা পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করা হবে।

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও তা ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।