Dhaka রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উপকূলে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ

আলফাত হোসেন

উপকূলীয় শ্যামনগরের বিভিন্ন ইউনিয়নে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ। দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগে জীবিকা হারানো পরিবার এবং নিয়ন্ত্রণহীন ইটভাটার কারণে শিশুরা স্কুল ছেড়ে শ্রমে নামতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দায় সারছে অসচ্ছল পরিবারগুলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৈখালী, নুরনগর, পদ্মপুকুর, গাবুরা, মুন্সীগঞ্জসহ একাধিক এলাকায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ইটভাটা, চিংড়িঘের ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। স্কুলের পরিবর্তে তারা দৈনিক মজুরি নিয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে অভাব ও সামাজিক অনিশ্চয়তার কারণে কিশোরীদের বাল্য বিবাহ দিচ্ছে পরিবারগুলো।

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ভূমিকা চোখে পড়ছে না। আইন থাকলেও প্রয়োগ অনুপস্থিত, ফলে শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ যেন নীরবে স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে গণসংহতি আন্দোলনের সাতক্ষীরা জেলা সংগঠক ও সুন্দরবন ইয়ুথ ফ্রেন্ডশীপের পরিচালক মো. আলফাত হোসেন মাঠে সচেতনতা সৃষ্টি করছেন। তিনি উপকূলজুড়ে সভা, মানববন্ধন ও স্থানীয় মানুষকে সংগঠিত করে প্রতিবাদ গড়ে তুলছেন।

মোঃ আলফাত হোসেন বলেন, “দারিদ্র্য আর রাষ্ট্রীয় অবহেলার সুযোগে শিশুদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হচ্ছে। ইটভাটা মালিকদের স্বার্থ ও প্রশাসনের নীরবতায় উপকূলের শিশুরা শ্রমিকে পরিণত হচ্ছে, মেয়েরা হারাচ্ছে শৈশব। এটি শুধু সামাজিক নয়, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা।”

তিনি অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, পরিবারভিত্তিক সহায়তা এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা দাবি করেছেন।

সচেতন মহলের মতে, যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, উপকূলীয় শ্যামনগরে একটি পুরো প্রজন্ম শিক্ষা ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হবে। শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ রোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক তৎপরতা অপরিহার্য।

শেয়ার করুন

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
প্রকাশের সময় ১০:১৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১০৪ পড়া হয়েছে

উপকূলে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ

প্রকাশের সময় ১০:১৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উপকূলীয় শ্যামনগরের বিভিন্ন ইউনিয়নে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ। দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগে জীবিকা হারানো পরিবার এবং নিয়ন্ত্রণহীন ইটভাটার কারণে শিশুরা স্কুল ছেড়ে শ্রমে নামতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দায় সারছে অসচ্ছল পরিবারগুলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৈখালী, নুরনগর, পদ্মপুকুর, গাবুরা, মুন্সীগঞ্জসহ একাধিক এলাকায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ইটভাটা, চিংড়িঘের ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। স্কুলের পরিবর্তে তারা দৈনিক মজুরি নিয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে অভাব ও সামাজিক অনিশ্চয়তার কারণে কিশোরীদের বাল্য বিবাহ দিচ্ছে পরিবারগুলো।

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ভূমিকা চোখে পড়ছে না। আইন থাকলেও প্রয়োগ অনুপস্থিত, ফলে শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ যেন নীরবে স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে গণসংহতি আন্দোলনের সাতক্ষীরা জেলা সংগঠক ও সুন্দরবন ইয়ুথ ফ্রেন্ডশীপের পরিচালক মো. আলফাত হোসেন মাঠে সচেতনতা সৃষ্টি করছেন। তিনি উপকূলজুড়ে সভা, মানববন্ধন ও স্থানীয় মানুষকে সংগঠিত করে প্রতিবাদ গড়ে তুলছেন।

মোঃ আলফাত হোসেন বলেন, “দারিদ্র্য আর রাষ্ট্রীয় অবহেলার সুযোগে শিশুদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হচ্ছে। ইটভাটা মালিকদের স্বার্থ ও প্রশাসনের নীরবতায় উপকূলের শিশুরা শ্রমিকে পরিণত হচ্ছে, মেয়েরা হারাচ্ছে শৈশব। এটি শুধু সামাজিক নয়, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা।”

তিনি অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, পরিবারভিত্তিক সহায়তা এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা দাবি করেছেন।

সচেতন মহলের মতে, যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, উপকূলীয় শ্যামনগরে একটি পুরো প্রজন্ম শিক্ষা ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হবে। শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ রোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক তৎপরতা অপরিহার্য।