রুশ হামলার মধ্যেই জেনেভায় শান্তি আলোচনা, মুখোমুখি মস্কো ও কিয়েভ
- প্রকাশের সময় ০৫:৫৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৯০ বার দেখা হয়েছে
বিদেশ: চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান চেষ্টায় আবারও আলোচনায় বসছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে নিজেকে শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় এর আগে দুই দফা আলোচনা হলেও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসা উচিত।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া এখনো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি বলেন, রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি এবং ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা ছাড়া যুদ্ধের বাস্তবসম্মত সমাধান সম্ভব নয়। ক্রেমলিন জানিয়েছে, জেনেভার এ বৈঠকটি হবে বন্ধ দরজার আড়ালে এবং গণমাধ্যম সেখানে উপস্থিত থাকবে না। এর আগে চলতি বছর আবুধাবিতে দুই দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপ এবং পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে। যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে এসব কৌশলগত অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে মস্কো, তবে কিয়েভ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন কিছু অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (আইএসডব্লিউ)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইউক্রেন প্রায় ২০১ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং রুশ বাহিনীর সীমিত সক্ষমতা ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় সহায়ক হয়েছে।
জেনেভার আলোচনায় রাশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ভ্লাদিমির মেডিনস্কি এবং ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও বিশেষ দূতদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে পরিণত হওয়া এ যুদ্ধে লাখো মানুষ নিহত ও কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হবে কি না, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে।




























