ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই যুদ্ধের সূচনাই হওয়া উচিত ছিল না এবং তা আর দীর্ঘায়িত করা ঠিক হবে না। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর বৈঠকে ইরান পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “এই যুদ্ধ কখনোই হওয়া উচিত ছিল না, এবং এটিকে পুনরায় জিইয়ে তোলারও কোনো প্রয়োজন নেই।” তিনি আরও বলেন, দ্রুত সমাধান শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং পুরো অঞ্চল ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক হবে।
চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতির ফলে বর্তমানে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই এই সুযোগ নষ্ট না করে তা কাজে লাগানো জরুরি। মুখপাত্রের ভাষায়, “আলোচনার এই দরজা আবার বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।”
এদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলো দ্রুত স্বাভাবিক করার ওপরও জোর দিয়েছে বেইজিং। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ রুট চালু থাকলে বৈশ্বিক বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকবে বলে মনে করছে চীন।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ছাড়াও বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু বিষয়ে নতুন বোঝাপড়ায় পৌঁছানোর কথাও জানিয়েছে চীন।
অন্যদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, শি জিনপিং ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি উভয় নেতা একমত হয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই অবস্থান কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে একটি শক্ত বার্তা, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
সাহিত্যপাতা 



























