বাংলাদেশ 7:36 am, Monday, 26 October 2026
[gtranslate]
বনদস্যু ও ভেজাল রোধ করতে পারলেই বাড়বে রাজস্ব

সুন্দরবনের মধু হতে পারে বিশ্ববাজারের দৃষ্টান্ত

দেশের দক্ষিণ উপকূল জুড়ে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে পরিচিত সুন্দরবন উপকূলীয় সাড়ে চার কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার অবলম্বন। সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ করে জীবন নির্বাহ করা মৌয়ালরা এই অঞ্চলের অন্যতম পুরোনো পেশাজীবী। ১৮৬০ সাল থেকে এই পেশা চলে আসছে। প্রতি বছর বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মধু সংগ্রহের মৌসুম চলে। দেশ-বিদেশে সুন্দরবনের মধুর খ্যাতি আছে। বিশেষ স্বাদ, একক ফুলের মধু হিসেবে এটি অত্যন্ত প্রিয়। চিকিৎসকরা বলছেন, সুন্দরবনের মধু শক্তি প্রদায়ক, হজমে সহায়ক, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং ফুসফুসের রোগ ও শ্বাসকষ্টে সহায়ক। এছাড়া মধুতে রয়েছে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান ও ভিটামিন যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে মধু আহরণ করা হয়। চলতি বছর খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১,৮০০ কুইন্টাল মধু এবং ৯০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মৌয়ালদের অনাগ্রহ এবং বনভূমির চ্যালেঞ্জ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শঙ্কা তৈরি করেছে। মৌয়ালরা দলবদ্ধ হয়ে ১৫-২০ দিনের জন্য বনে প্রবেশ করে। ভোরবেলা ধারালো দা, লাঠি ও ধোঁয়া তৈরি করার মশালসহ বনের গভীরে যান। মুখ ঢেকে রাখেন মৌমাছির আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য। বাঘসহ অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর ভয় দেখাতে অদ্ভুত শব্দ করে কাজ করেন। তারা চাক খুঁজে বের করে, চাকা কেটে মধু সংগ্রহ করেন, এবং বাসার অংশ অক্ষত রেখে পুনরায় মধু জমাতে দেন। সুন্দরবনের মধুর বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে- খলিষামধু, গরানের মধু, গেওয়া মধু, কালিজিরা মধু। খলিষামধু সবচেয়ে উত্তম ও সুস্বাদু। গরানের মধু বেশি সময় ও পরিমাণে আহরণ করা হয়। গেওয়া ও কালিজিরা মধু তুলনামূলক কম চাহিদার হলেও স্বাদ ও উপকারিতা রয়েছে। মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মধু আহরণ করতে গিয়ে কিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, বিশেষ করে বাঘের আক্রমণে।
এছাড়া বনদস্যুদের শোষণ ও চাঁদা দাবির কারণে মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠেছে। কিছু অসাধু চক্র ভেজাল মধু তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছে, যা সরাসরি রাজস্বে প্রভাব ফেলে। বন বিভাগীয় কর্মকর্তা হাছানুর রহমান বলেন, মধু আহরণের মৌসুমে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বনদস্যু ও ভেজাল নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই সুন্দরবনের মধু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে, যা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

 

সুন্দরবনের খাঁটি মধু পেতে ভিজিট করুন

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

একাকীত্বের  সৌন্দর্য‌‌‌‌‌‌‌‌

বনদস্যু ও ভেজাল রোধ করতে পারলেই বাড়বে রাজস্ব

সুন্দরবনের মধু হতে পারে বিশ্ববাজারের দৃষ্টান্ত

প্রকাশ 04:36:13 pm, Wednesday, 1 April 2026

দেশের দক্ষিণ উপকূল জুড়ে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে পরিচিত সুন্দরবন উপকূলীয় সাড়ে চার কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার অবলম্বন। সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ করে জীবন নির্বাহ করা মৌয়ালরা এই অঞ্চলের অন্যতম পুরোনো পেশাজীবী। ১৮৬০ সাল থেকে এই পেশা চলে আসছে। প্রতি বছর বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মধু সংগ্রহের মৌসুম চলে। দেশ-বিদেশে সুন্দরবনের মধুর খ্যাতি আছে। বিশেষ স্বাদ, একক ফুলের মধু হিসেবে এটি অত্যন্ত প্রিয়। চিকিৎসকরা বলছেন, সুন্দরবনের মধু শক্তি প্রদায়ক, হজমে সহায়ক, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং ফুসফুসের রোগ ও শ্বাসকষ্টে সহায়ক। এছাড়া মধুতে রয়েছে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান ও ভিটামিন যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে মধু আহরণ করা হয়। চলতি বছর খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১,৮০০ কুইন্টাল মধু এবং ৯০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মৌয়ালদের অনাগ্রহ এবং বনভূমির চ্যালেঞ্জ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শঙ্কা তৈরি করেছে। মৌয়ালরা দলবদ্ধ হয়ে ১৫-২০ দিনের জন্য বনে প্রবেশ করে। ভোরবেলা ধারালো দা, লাঠি ও ধোঁয়া তৈরি করার মশালসহ বনের গভীরে যান। মুখ ঢেকে রাখেন মৌমাছির আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য। বাঘসহ অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর ভয় দেখাতে অদ্ভুত শব্দ করে কাজ করেন। তারা চাক খুঁজে বের করে, চাকা কেটে মধু সংগ্রহ করেন, এবং বাসার অংশ অক্ষত রেখে পুনরায় মধু জমাতে দেন। সুন্দরবনের মধুর বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে- খলিষামধু, গরানের মধু, গেওয়া মধু, কালিজিরা মধু। খলিষামধু সবচেয়ে উত্তম ও সুস্বাদু। গরানের মধু বেশি সময় ও পরিমাণে আহরণ করা হয়। গেওয়া ও কালিজিরা মধু তুলনামূলক কম চাহিদার হলেও স্বাদ ও উপকারিতা রয়েছে। মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মধু আহরণ করতে গিয়ে কিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, বিশেষ করে বাঘের আক্রমণে।
এছাড়া বনদস্যুদের শোষণ ও চাঁদা দাবির কারণে মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠেছে। কিছু অসাধু চক্র ভেজাল মধু তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছে, যা সরাসরি রাজস্বে প্রভাব ফেলে। বন বিভাগীয় কর্মকর্তা হাছানুর রহমান বলেন, মধু আহরণের মৌসুমে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বনদস্যু ও ভেজাল নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই সুন্দরবনের মধু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে, যা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

 

সুন্দরবনের খাঁটি মধু পেতে ভিজিট করুন