Dhaka মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তিতে সাতক্ষীরার মানুষ

এসএম আশরাফুল ইসলাম
  • প্রকাশের সময় ০৬:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০৭ বার দেখা হয়েছে

সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকেরা। সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শহরের এবি খান ফিলিং স্টেশন এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। তেল নিতে ৪ থেকে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করছে। এতে করে সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। জ¦ালানী তেল সংগ্রহে ভিড়, দুর্ভোগে গ্রাহকরা। ছবিটি সোমবার সন্ধ্যায় শহরের এবি খান ফিলিং স্টেশন থেকে তোলা। এদিকে, সাতক্ষীরার ফুয়েল স্টেশন গুলোতে ভোরের আলো ফুটার আগেই একটি অদ্ভুত চিত্র চোখে পড়ে। শত শত মোটরসাইকেল সারিবদ্ধ, কিন্তু চালক নেই। পাম্পের ভেতরে বা সামনের সারিতে রাখা এই বাইকগুলো গভীর রাতের সিন্ডিকেটের ‘সিরিয়াল দখলের’ প্রমাণ। সকালে এ সিরিয়াল বিক্রি হয় টাকার বিনিময়ে, আর সাধারণ গ্রাহক এবং জরুরি সেবা পর্যায়ের যানবাহন তেল না পেয়ে ফিরে যায়। সিন্ডিকেটের এ দৌরাত্ম্য সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষকে বাধ্য করছে ভোর থেকেই দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে।
সাতক্ষীরার নিউমার্কেট মোড়ের এবি খান পাম্পে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জরুরি সেবা প্রদানকারী ও বিশেষ শ্রেণির জন্য ‘সংরক্ষিত লাইন’ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লাইনটি প্রশাসন, পুলিশ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও শিক্ষকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রদানকারী ব্যক্তিদের জন্য চালু থাকবে।
পাম্প মালিকরা বলছেন, সিন্ডিকেটের সদস্যরা দলবদ্ধভাবে এসে বাইক রেখে দেয়। বাধা দিলে কর্মচারীদের ওপর হামলা বা হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও ট্যাগ অফিসারের সামনেও তারা ঔদ্ধত্য দেখায়। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস জানান, বিষয়টি নজরে রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অনিয়ম বন্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জরুরি সেবার জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ এখন অসহায়- সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে তেলের জন্য ভোর থেকে দীর্ঘ লাইন, জরুরি সেবা ব্যাহত, বড় গাড়ির চালকরা হতাশ। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তিতে সাতক্ষীরার মানুষ

প্রকাশের সময় ০৬:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকেরা। সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শহরের এবি খান ফিলিং স্টেশন এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। তেল নিতে ৪ থেকে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করছে। এতে করে সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। জ¦ালানী তেল সংগ্রহে ভিড়, দুর্ভোগে গ্রাহকরা। ছবিটি সোমবার সন্ধ্যায় শহরের এবি খান ফিলিং স্টেশন থেকে তোলা। এদিকে, সাতক্ষীরার ফুয়েল স্টেশন গুলোতে ভোরের আলো ফুটার আগেই একটি অদ্ভুত চিত্র চোখে পড়ে। শত শত মোটরসাইকেল সারিবদ্ধ, কিন্তু চালক নেই। পাম্পের ভেতরে বা সামনের সারিতে রাখা এই বাইকগুলো গভীর রাতের সিন্ডিকেটের ‘সিরিয়াল দখলের’ প্রমাণ। সকালে এ সিরিয়াল বিক্রি হয় টাকার বিনিময়ে, আর সাধারণ গ্রাহক এবং জরুরি সেবা পর্যায়ের যানবাহন তেল না পেয়ে ফিরে যায়। সিন্ডিকেটের এ দৌরাত্ম্য সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষকে বাধ্য করছে ভোর থেকেই দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে।
সাতক্ষীরার নিউমার্কেট মোড়ের এবি খান পাম্পে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জরুরি সেবা প্রদানকারী ও বিশেষ শ্রেণির জন্য ‘সংরক্ষিত লাইন’ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লাইনটি প্রশাসন, পুলিশ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও শিক্ষকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রদানকারী ব্যক্তিদের জন্য চালু থাকবে।
পাম্প মালিকরা বলছেন, সিন্ডিকেটের সদস্যরা দলবদ্ধভাবে এসে বাইক রেখে দেয়। বাধা দিলে কর্মচারীদের ওপর হামলা বা হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও ট্যাগ অফিসারের সামনেও তারা ঔদ্ধত্য দেখায়। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস জানান, বিষয়টি নজরে রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অনিয়ম বন্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জরুরি সেবার জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ এখন অসহায়- সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে তেলের জন্য ভোর থেকে দীর্ঘ লাইন, জরুরি সেবা ব্যাহত, বড় গাড়ির চালকরা হতাশ। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।