রাজধানীর ভূমি ভবন-এ তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করেছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভূমিসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে সেবা দেওয়া কোনো করুণা নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, সরকার একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যা দেশের টেকসই উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় একটি জমির মালিক একজন হলেও সময়ের ব্যবধানে বর্তমানে একই জমির মালিকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ফলে জমির মালিকানা ও শরিকানা সংক্রান্ত তথ্য নির্ভুলভাবে সংরক্ষণে ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্বও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, খাজনা, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ কিংবা সি-এস, আর-এস ও ডি-এস—এসব বিষয় এখন প্রযুক্তির কারণে আরও সহজভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে সেবাগ্রহীতারা ঘরে বসেই অনলাইনে জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, যারা নিজেরা অনলাইনে আবেদন বা খাজনা পরিশোধ করতে সক্ষম নন, তাদের জন্য দেশের ৬১ জেলায় ৮৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু রয়েছে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পরিচালিত এসব কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত ফি দিয়ে নাগরিকরা সহজেই আবেদন ও সরকারি ফি পরিশোধ করতে পারছেন।
তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের হাতের মুঠোয় সেবা পৌঁছে দিতে চালু করা হয়েছে ‘ভূমি’ মোবাইল অ্যাপ।
ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হলে জমি সংক্রান্ত বিরোধ কমবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও হ্রাস পাবে। চলমান ভূমিমেলা জনগণকে আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরও সচেতন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা ও জটিলতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বাস্তবতায় পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।
তিনি জানান, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুতে সরকার কাজ করছে। ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হচ্ছে, যাতে নাগরিকদের আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে না হয় এবং তারা কোনো ধরনের দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার না হন।
ভূমিসেবা মেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ এবং ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই।
সাহিত্যপাতা 

























