Dhaka রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোকা শিয়াল আর চালাক বানর

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৯:৫৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৭৪ বার দেখা হয়েছে
  • মোঃ সৈয়দুল ইসলাম

একদা এক গ্রামে লাল নামে এক কৃষক বাস করতো। গ্রামের পাশেই ছিলো এক বন। বনে ছিলো এক বোকা শিয়াল। শিয়াল প্রতিদিন সন্ধ্যায় লালের বাড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করতো। কারণ, লালের একটা হাঁসের খামার ছিলো। খামারে প্রায় সাড়ে তিনশ হাঁস ছিলো। হাঁসগুলো প্রতিদিন ডিম দিতো। লাল ডিমগুলো বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো।
একদিন রাতে বোকা শিয়াল হাঁসের খামারের ভেতর ঢুকে পড়লো এবং কয়েকটি হাঁস খেয়ে বেরিয়ে গেলো। লাল সকালে ঘুম থেকে উঠে হাঁসের খামারে গিয়ে দেখতে পেলো, হাঁসের অনেক পালক খামারের ভেতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কয়েকটি হাঁসের মাথাও সেখানে পড়ে আছে। বোকা শিয়াল জানত’না যে, লালের একটি চালাক বানরও আছে। লাল তাঁর বানরকে বলল, “বোকা শিয়াল হাঁসের খামারে ঢুকে তিন চারটি হাঁস খেয়ে ফেলছে”। বানর লালকে বলল- এর একটা উপায় খুঁজে বের করতে হবে। হঠাৎ করে সন্ধ্যায় বানরের সাথে বোকা শিয়ালের দেখা হয়ে গেলো। বানর শিয়ালকে বলল- ভালোই মোটাতাজা হয়েছো। দিনকাল বুঝি ভালো যাচ্ছে। বোকা শিয়াল দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল- আজকাল খাবার দাবার ভালো খাচ্ছি তাই শরীর একটু মোটাতাজা হচ্ছে। বানর বুদ্ধি খাটিয়ে বলল- আমি তোমার বন্ধু হতে চাই।

তোমার বন্ধু হলে আমিও ভালো খাবার দাবার খেয়ে মোটাতাজা হতে পারবো। বোকা শিয়াল বানরের কথায় রাজি হয়ে গেলো। ঐ দিন সন্ধ্যার পর পর লাল এবং বানর বুদ্ধি করে খামারের সবকয়টি হাঁস অন্যত্র সরিয়ে নিলো। রাতে বোকা শিয়াল হাঁস খাওয়ার জন্য যখন খামারে ঢুকলো তখন দেখতে পেলো একটি হাঁসও খামারে নেই। বোকা শিয়াল টের পেয়ে তাড়াতাড়ি খামার থেকে পালিয়ে গেলো। পরের দিন বানরের সাথে শিয়ালের আবার দেখা হলো। বানর শিয়ালকে বলল- বন্ধু কী অবস্থা? ভালো আছো? শিয়াল বলল- না, বন্ধু ভালো নেই। বানর বলল- কী হয়েছে? বোকা শিয়াল কষ্ট নিয়ে বলল- দিন ভালো যাচ্ছে না। খাবার দাবার যোগাড় করতে পারছি না। রাত থেকে না খেয়ে আছি। বানর হেসে বলল- বন্ধু, আমি থাকতে তোমার কোনো চিন্তা নেই। সন্ধ্যার আগে আগে মির্জাবাড়ীর পেছনে তাল গাছের নিচে এসো। একটা ব্যবস্থা হবে। বোকা শিয়াল বানরের কথায় খুব খুশি হলো। যেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে শুরু করলো, শিয়াল তাড়াতাড়ি তাল গাছের নিচে এলো। এসে দেখতে পেলো বন্ধু বানর, একটা বড়ো হাঁস নিয়ে তাল গাছের উপর বসে আছে। বোকা শিয়াল হাঁস দেখে খুব খুশি হলো এবং বানরকে বলল- তাড়াতাড়ি হাঁস নিয়ে নিচে নেমে এসো। বানর বুদ্ধি করে বলল- বন্ধু, এই হাঁস তোমার জন্যই এনেছি। তোমার খাবার দাবার ঠিক মতো হচ্ছে না। বোকা শিয়াল খুশিতে আত্মহারা। বানর শিয়ালকে বলল- বন্ধু, তুমি হা করে থাকো। আমি হাঁসটি তোমার মুখে ফেলে দিচ্ছি। বানরের কথায় শিয়াল হা করে উপরের দিকে তাকিয়ে বলল- বন্ধু, খুব ক্ষিধে পেয়েছে। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, তাড়াতাড়ি করো। এই কথা বলতে না বলতেই বানর শিয়ালের মাথায় মস্ত বড়ো একটা তাল ফেলে দিলো। সাথে সাথে বোকা শিয়ালটি মারা গেল। বানর লাফাতে লাফাতে বাড়ি গিয়ে লালকে বলল- বোকা শিয়াল আর আসবে না। আর একটা হাঁসও খেতে পারবে না। কারণ, বোকা শিয়াল আমার বুদ্ধির কাছে পরাজিত হয়ে মারা গেছে। কথাগুলো শোনার পর লাল বানরকে ধন্যবাদ জানালো এবং বানরের বেশি বেশি যত্ন করতে শুরু করলো।

পৃথিবী, মহাসাগর ও ইতিহাসের অজানা অধ্যায় নিয়ে সেরা বাংলা ডকুমেন্টারি

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

পছন্দের চিকিৎসকের সিরিয়াল নিতে ক্লিক করুন

স্বাদে, মানে ও ভালোবাসায়—লেক ভিউ কেক

বোকা শিয়াল আর চালাক বানর

প্রকাশের সময় ০৯:৫৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • মোঃ সৈয়দুল ইসলাম

একদা এক গ্রামে লাল নামে এক কৃষক বাস করতো। গ্রামের পাশেই ছিলো এক বন। বনে ছিলো এক বোকা শিয়াল। শিয়াল প্রতিদিন সন্ধ্যায় লালের বাড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করতো। কারণ, লালের একটা হাঁসের খামার ছিলো। খামারে প্রায় সাড়ে তিনশ হাঁস ছিলো। হাঁসগুলো প্রতিদিন ডিম দিতো। লাল ডিমগুলো বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো।
একদিন রাতে বোকা শিয়াল হাঁসের খামারের ভেতর ঢুকে পড়লো এবং কয়েকটি হাঁস খেয়ে বেরিয়ে গেলো। লাল সকালে ঘুম থেকে উঠে হাঁসের খামারে গিয়ে দেখতে পেলো, হাঁসের অনেক পালক খামারের ভেতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কয়েকটি হাঁসের মাথাও সেখানে পড়ে আছে। বোকা শিয়াল জানত’না যে, লালের একটি চালাক বানরও আছে। লাল তাঁর বানরকে বলল, “বোকা শিয়াল হাঁসের খামারে ঢুকে তিন চারটি হাঁস খেয়ে ফেলছে”। বানর লালকে বলল- এর একটা উপায় খুঁজে বের করতে হবে। হঠাৎ করে সন্ধ্যায় বানরের সাথে বোকা শিয়ালের দেখা হয়ে গেলো। বানর শিয়ালকে বলল- ভালোই মোটাতাজা হয়েছো। দিনকাল বুঝি ভালো যাচ্ছে। বোকা শিয়াল দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল- আজকাল খাবার দাবার ভালো খাচ্ছি তাই শরীর একটু মোটাতাজা হচ্ছে। বানর বুদ্ধি খাটিয়ে বলল- আমি তোমার বন্ধু হতে চাই।

তোমার বন্ধু হলে আমিও ভালো খাবার দাবার খেয়ে মোটাতাজা হতে পারবো। বোকা শিয়াল বানরের কথায় রাজি হয়ে গেলো। ঐ দিন সন্ধ্যার পর পর লাল এবং বানর বুদ্ধি করে খামারের সবকয়টি হাঁস অন্যত্র সরিয়ে নিলো। রাতে বোকা শিয়াল হাঁস খাওয়ার জন্য যখন খামারে ঢুকলো তখন দেখতে পেলো একটি হাঁসও খামারে নেই। বোকা শিয়াল টের পেয়ে তাড়াতাড়ি খামার থেকে পালিয়ে গেলো। পরের দিন বানরের সাথে শিয়ালের আবার দেখা হলো। বানর শিয়ালকে বলল- বন্ধু কী অবস্থা? ভালো আছো? শিয়াল বলল- না, বন্ধু ভালো নেই। বানর বলল- কী হয়েছে? বোকা শিয়াল কষ্ট নিয়ে বলল- দিন ভালো যাচ্ছে না। খাবার দাবার যোগাড় করতে পারছি না। রাত থেকে না খেয়ে আছি। বানর হেসে বলল- বন্ধু, আমি থাকতে তোমার কোনো চিন্তা নেই। সন্ধ্যার আগে আগে মির্জাবাড়ীর পেছনে তাল গাছের নিচে এসো। একটা ব্যবস্থা হবে। বোকা শিয়াল বানরের কথায় খুব খুশি হলো। যেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে শুরু করলো, শিয়াল তাড়াতাড়ি তাল গাছের নিচে এলো। এসে দেখতে পেলো বন্ধু বানর, একটা বড়ো হাঁস নিয়ে তাল গাছের উপর বসে আছে। বোকা শিয়াল হাঁস দেখে খুব খুশি হলো এবং বানরকে বলল- তাড়াতাড়ি হাঁস নিয়ে নিচে নেমে এসো। বানর বুদ্ধি করে বলল- বন্ধু, এই হাঁস তোমার জন্যই এনেছি। তোমার খাবার দাবার ঠিক মতো হচ্ছে না। বোকা শিয়াল খুশিতে আত্মহারা। বানর শিয়ালকে বলল- বন্ধু, তুমি হা করে থাকো। আমি হাঁসটি তোমার মুখে ফেলে দিচ্ছি। বানরের কথায় শিয়াল হা করে উপরের দিকে তাকিয়ে বলল- বন্ধু, খুব ক্ষিধে পেয়েছে। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, তাড়াতাড়ি করো। এই কথা বলতে না বলতেই বানর শিয়ালের মাথায় মস্ত বড়ো একটা তাল ফেলে দিলো। সাথে সাথে বোকা শিয়ালটি মারা গেল। বানর লাফাতে লাফাতে বাড়ি গিয়ে লালকে বলল- বোকা শিয়াল আর আসবে না। আর একটা হাঁসও খেতে পারবে না। কারণ, বোকা শিয়াল আমার বুদ্ধির কাছে পরাজিত হয়ে মারা গেছে। কথাগুলো শোনার পর লাল বানরকে ধন্যবাদ জানালো এবং বানরের বেশি বেশি যত্ন করতে শুরু করলো।