চোখধাঁধানো শট, দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আর পানেনকা পেনাল্টি—সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গোলের সৌন্দর্য ছড়াল রিয়াল মাদ্রিদ। আর্দা গুল্যার ও কিলিয়ান এমবাপের অসাধারণ দুটি গোলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিকেরা। বিরতির পর পানেনকা পেনাল্টিতে ব্যবধান বাড়ান এমবাপে। সেভিয়ার হয়ে মানু বুয়েনো একটি গোল ফিরিয়ে দিলেও ইয়ান দিয়োমান্দের দুর্দান্ত শটে ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে রিয়াল।
রোববারের এই জয়ে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এল ক্লাসিকোর আগে আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে নিল মাদ্রিদের দলটি। ম্যাচের বিবরণে গোলের পাশাপাশি রিয়ালের আক্রমণভাগের ধার ও ব্যক্তিগত দক্ষতাই ছিল সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
ম্যাচের শুরুতে দুই দলই আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধের মাঝামাঝি থেকে রিয়ালের আক্রমণে গতি ও ধার বেড়ে যায়। ৩০ মিনিটে গোলের খাতা খোলেন তুরস্কের মিডফিল্ডার আর্দা গুল্যার। জুড বেলিংহামের শুরু করা দ্রুত প্রতি-আক্রমণ থেকে বল পান দিয়োমান্দে। বাঁ দিক থেকে তাঁর বাড়ানো বল বক্সের বাইরে পেয়ে প্রথম স্পর্শেই দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শট নেন গুল্যার। বাঁক খেয়ে বলটি সেভিয়ার গোলরক্ষক ওডিসিয়াস ভ্লাখোদিমোসকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।
মাত্র সাত মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমবাপে। বেলিংহামের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাকহিল পাস থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত গতিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করেন ফরাসি তারকা। একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি। প্রথমার্ধেই দুই অসাধারণ গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে সেভিয়া। ৬০ মিনিটে ফেলিক্স কোরেইয়ার অ্যাক্রোবেটিক শট বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও গোললাইন থেকে হেডে বল সরিয়ে দেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। সেই মুহূর্তে ব্যবধান কমানোর সুযোগ হারায় সফরকারীরা।
এরপরই আবারও আঘাত হানে রিয়াল। বক্সের ভেতরে এমবাপেকে ফাউল করেন সেভিয়ার আন্দ্রেস কাস্ত্রিন। পেনাল্টি থেকে গোল করার দায়িত্ব নিজেই নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে মাঝখান দিয়ে আলতো চিপে বল জালে পাঠান তিনি—ফুটবলের ভাষায় যা ‘পানেনকা’ পেনাল্টি। ৬৩ মিনিটের এই গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে এমবাপে পূর্ণ করেন নিজের জোড়া গোল।
তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও লড়াই ছাড়েনি সেভিয়া। ৮০ মিনিটে এমবাপের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে সুযোগ কাজে লাগান বদলি খেলোয়াড় মানু বুয়েনো। তাঁর গোলে ব্যবধান কমে হয় ৩-১। ম্যাচের শেষ দিকে কিছুটা হলেও উত্তেজনা ফেরে।
তবে সেভিয়ার সেই স্বস্তি স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ৮২ মিনিটে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ব্যবধান আবার তিন গোলে নিয়ে যান দিয়োমান্দে। দারুণ ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি। তাতেই ৪-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয় রিয়ালের। ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই তরুণ ফুটবলার।
এই জয়ের ফলে লা লিগায় ২১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে ছয় পয়েন্টে। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে সেভিয়া রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। আন্তর্জাতিক বিরতির পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাসও পেয়েছে মাদ্রিদের দলটি।
চোট ও নিষেধাজ্ঞাজনিত অনুপস্থিতি সত্ত্বেও আক্রমণভাগের কার্যকারিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে গুল্যার, বেলিংহাম, এমবাপে ও দিয়োমান্দের বোঝাপড়া রিয়ালের আক্রমণকে করেছে আরও গতিময়। ম্যাচের শেষ দিকে এদের মিলিত প্রচেষ্টায় স্বাগতিকদের আধিপত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, ৮৫ মিনিটে মাঠে ফেরেন এদের মিলিতাও। এপ্রিল মাসে হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্ত্রোপচারের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম ম্যাচ। দর্শকদের করতালিতে স্বাগত পান ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার।
এবার রিয়ালের সামনে আরও বড় পরীক্ষা—চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকো। সেভিয়ার বিপক্ষে এমন দাপুটে জয় সেই মহারণের আগে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। তবে বার্সেলোনার বিপক্ষে একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে রক্ষণ ও আক্রমণ—দুই বিভাগেই এই ছন্দ বজায় রাখতে হবে।
সাহিত্যপাতা 



























