বাংলাদেশ 8:00 pm, Saturday, 24 October 2026
[gtranslate]

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে কেঁপে উঠল আরাফাতের প্রান্তর

আজ পবিত্র হজ

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির।’ — এই একটি ধ্বনিতে আজ মঙ্গলবার কেঁপে উঠেছে আরাফাতের সুবিস্তৃত প্রান্তর। ৯ জিলহজ, পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন — ইয়াওমুল আরাফা। জাবালে রহমত পাহাড়ের চূড়া থেকে দিগন্তজোড়া ময়দান পর্যন্ত আজ শুধু সাদা — সেলাইবিহীন সাদা ইহরামে মোড়া প্রায় ১৮ লাখ মানুষের অবিরাম জোয়ার।
কে ধনী, কে গরিব, কে কোন দেশের — আজ সেসব পরিচয় মুছে গেছে। বাংলাদেশ থেকে এসেছেন সাড়ে ৭৮ হাজার। এসেছেন আফ্রিকার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে, ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ থেকে, ইউরোপের শহর থেকে। সবার কণ্ঠে একই তালবিয়া — ‘ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়ালমুলক; লা শারিকা লাক।’ সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।

“এই সেই ময়দান — যেখানে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে নবীজি (সা.) বিদায় হজের খুতবায় ঘোষণা করেছিলেন: আজ থেকে ইসলামকে পরিপূর্ণ ধর্ম ঘোষণা করা হলো।”

ফজরের আজান শেষ হতেই মিনার তাঁবুনগরী থেকে হাজিরা রওনা দেন আরাফাতের উদ্দেশে। তীব্র রোদ আর গরমকে উপেক্ষা করে এই বিশাল মানবস্রোত এগিয়ে চলে নিজের সবচেয়ে বড় পাপ মোচনের আশায়। ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, আরাফাতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করাই হজের মূল স্তম্ভ — এই একটি কাজ না হলে হজ হয় না। আজ মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শাইখ আলী আল হুজাইফি। আরবিতে দেওয়া এই ভাষণ বাংলাসহ বিশ্বের ২০টি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শোনানোর ব্যবস্থা করেছে সৌদি হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। খুতবার পর একই ইমামতিতে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন হাজিরা।
আরাফার পরে — হজের পরবর্তী ধাপ
  • সূর্যাস্তের পর মুজদালিফায় যাত্রা; সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে
  • খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন ও শয়তানকে নিক্ষেপের পাথর সংগ্রহ
  • বুধবার (১০ জিলহজ) ঈদুল আজহা; মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ
  • পশু কোরবানির পর মাথা মুণ্ডন এবং কাবা তাওয়াফ আল ইফাদা
  • ১২ জিলহজ পর্যন্ত ছোট শয়তানদের পাথর মেরে মূল কার্যক্রম সমাপ্তি
সন্ধ্যা নামলে হাজিরা রওনা হবেন মুজদালিফার পথে। খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবেন সেখানে, কুড়িয়ে নেবেন ছোট ছোট পাথর। আগামীকাল বুধবার দশ জিলহজ — ঈদুল আজহা। দেশ-বিদেশের লক্ষ কোটি মানুষ যখন ঈদের আনন্দে মাতবেন, তখন হাজিরা মিনায় শয়তানকে পাথর ছুড়বেন, কোরবানি করবেন, মাথা মুণ্ডন করবেন — একটু একটু করে খুলে নেবেন ইহরামের বাঁধন।
আরাফাতের এই মাঠে আজ যে অশ্রু ঝরছে, যে প্রার্থনা উঠছে — ইসলামের বিশ্বাসে তা কবুল হয়। এই বিশ্বাসেই লক্ষ মানুষ বছরের পর বছর সঞ্চয় করেন, অপেক্ষা করেন, স্বপ্ন দেখেন — একবার এই ময়দানে দাঁড়াবেন বলে। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ১৮ লাখ মানুষের।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশ নিজেই মামলা করতে পারবে

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে কেঁপে উঠল আরাফাতের প্রান্তর

প্রকাশ 05:42:31 am, Tuesday, 26 May 2026
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির।’ — এই একটি ধ্বনিতে আজ মঙ্গলবার কেঁপে উঠেছে আরাফাতের সুবিস্তৃত প্রান্তর। ৯ জিলহজ, পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন — ইয়াওমুল আরাফা। জাবালে রহমত পাহাড়ের চূড়া থেকে দিগন্তজোড়া ময়দান পর্যন্ত আজ শুধু সাদা — সেলাইবিহীন সাদা ইহরামে মোড়া প্রায় ১৮ লাখ মানুষের অবিরাম জোয়ার।
কে ধনী, কে গরিব, কে কোন দেশের — আজ সেসব পরিচয় মুছে গেছে। বাংলাদেশ থেকে এসেছেন সাড়ে ৭৮ হাজার। এসেছেন আফ্রিকার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে, ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ থেকে, ইউরোপের শহর থেকে। সবার কণ্ঠে একই তালবিয়া — ‘ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়ালমুলক; লা শারিকা লাক।’ সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।

“এই সেই ময়দান — যেখানে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে নবীজি (সা.) বিদায় হজের খুতবায় ঘোষণা করেছিলেন: আজ থেকে ইসলামকে পরিপূর্ণ ধর্ম ঘোষণা করা হলো।”

ফজরের আজান শেষ হতেই মিনার তাঁবুনগরী থেকে হাজিরা রওনা দেন আরাফাতের উদ্দেশে। তীব্র রোদ আর গরমকে উপেক্ষা করে এই বিশাল মানবস্রোত এগিয়ে চলে নিজের সবচেয়ে বড় পাপ মোচনের আশায়। ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, আরাফাতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করাই হজের মূল স্তম্ভ — এই একটি কাজ না হলে হজ হয় না। আজ মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শাইখ আলী আল হুজাইফি। আরবিতে দেওয়া এই ভাষণ বাংলাসহ বিশ্বের ২০টি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শোনানোর ব্যবস্থা করেছে সৌদি হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। খুতবার পর একই ইমামতিতে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন হাজিরা।
আরাফার পরে — হজের পরবর্তী ধাপ
  • সূর্যাস্তের পর মুজদালিফায় যাত্রা; সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে
  • খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন ও শয়তানকে নিক্ষেপের পাথর সংগ্রহ
  • বুধবার (১০ জিলহজ) ঈদুল আজহা; মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ
  • পশু কোরবানির পর মাথা মুণ্ডন এবং কাবা তাওয়াফ আল ইফাদা
  • ১২ জিলহজ পর্যন্ত ছোট শয়তানদের পাথর মেরে মূল কার্যক্রম সমাপ্তি
সন্ধ্যা নামলে হাজিরা রওনা হবেন মুজদালিফার পথে। খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবেন সেখানে, কুড়িয়ে নেবেন ছোট ছোট পাথর। আগামীকাল বুধবার দশ জিলহজ — ঈদুল আজহা। দেশ-বিদেশের লক্ষ কোটি মানুষ যখন ঈদের আনন্দে মাতবেন, তখন হাজিরা মিনায় শয়তানকে পাথর ছুড়বেন, কোরবানি করবেন, মাথা মুণ্ডন করবেন — একটু একটু করে খুলে নেবেন ইহরামের বাঁধন।
আরাফাতের এই মাঠে আজ যে অশ্রু ঝরছে, যে প্রার্থনা উঠছে — ইসলামের বিশ্বাসে তা কবুল হয়। এই বিশ্বাসেই লক্ষ মানুষ বছরের পর বছর সঞ্চয় করেন, অপেক্ষা করেন, স্বপ্ন দেখেন — একবার এই ময়দানে দাঁড়াবেন বলে। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ১৮ লাখ মানুষের।