Dhaka শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়কে থামছে না মৃত্যু—এপ্রিলে ৪০৪ প্রাণ ঝরে গেল

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ১০:২৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / ৪০ বার দেখা হয়েছে

মাত্র এক মাস। কিন্তু এই সময়েই দেশের সড়কগুলো যেন হয়ে উঠেছিল মৃত্যুফাঁদ। বিদায়ী এপ্রিল মাসে ৪৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪০৪ জন মানুষ, আহত হয়েছেন আরও ৭০৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৫৩ জন নারী ও ৪৮টি শিশু—যাদের অনেকেই হয়তো ঘর থেকে বেরিয়েছিল স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু আর ফেরা হয়নি। শুধু সড়কই নয়, নৌ ও রেলপথেও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র স্পষ্ট। এই সময়ে সাতটি নৌ দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২৬ জনের, আহত হয়েছেন ১৭ জন। বুধবার (৬ মে) সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। নয়টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় শিকার মোটরসাইকেল। দ্রুতগতি, অসতর্কতা আর নিরাপত্তা উপেক্ষার মাশুল যেন দিচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি ১৯৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে—যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪১.৬৮ শতাংশ। সময়ের দিক থেকে সকালটাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, এ সময়েই ঘটেছে প্রায় ২৮.৫০ শতাংশ দুর্ঘটনা।

অঞ্চলভিত্তিক চিত্রেও উদ্বেগ রয়েছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিটি সংখ্যা এখানে শুধু পরিসংখ্যান নয়—একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন, একটি জীবনের গল্প। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এমন মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে—এই প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

সড়কে থামছে না মৃত্যু—এপ্রিলে ৪০৪ প্রাণ ঝরে গেল

প্রকাশের সময় ১০:২৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

মাত্র এক মাস। কিন্তু এই সময়েই দেশের সড়কগুলো যেন হয়ে উঠেছিল মৃত্যুফাঁদ। বিদায়ী এপ্রিল মাসে ৪৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪০৪ জন মানুষ, আহত হয়েছেন আরও ৭০৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৫৩ জন নারী ও ৪৮টি শিশু—যাদের অনেকেই হয়তো ঘর থেকে বেরিয়েছিল স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু আর ফেরা হয়নি। শুধু সড়কই নয়, নৌ ও রেলপথেও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র স্পষ্ট। এই সময়ে সাতটি নৌ দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২৬ জনের, আহত হয়েছেন ১৭ জন। বুধবার (৬ মে) সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। নয়টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় শিকার মোটরসাইকেল। দ্রুতগতি, অসতর্কতা আর নিরাপত্তা উপেক্ষার মাশুল যেন দিচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি ১৯৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে—যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪১.৬৮ শতাংশ। সময়ের দিক থেকে সকালটাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, এ সময়েই ঘটেছে প্রায় ২৮.৫০ শতাংশ দুর্ঘটনা।

অঞ্চলভিত্তিক চিত্রেও উদ্বেগ রয়েছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিটি সংখ্যা এখানে শুধু পরিসংখ্যান নয়—একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন, একটি জীবনের গল্প। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এমন মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে—এই প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হয়ে উঠছে।