Dhaka বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফতুল্লার গ্যাস বিস্ফোরণ: পাঁচ প্রাণ ঝরে নিভে গেল একটি পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় ০৮:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • / ১৮ বার দেখা হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা সায়মা (৩২) মারা যাওয়ার মধ্য দিয়ে একটি সাজানো সংসারের করুণ পরিসমাপ্তি ঘটে। রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকেরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গত সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কয়েক দিনে একে একে প্রাণ হারান পরিবারের সদস্যরা। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, বিস্ফোরণের পর সোমবার সকালে প্রথম মারা যান গৃহকর্তা মো. কালাম (৩৫)। তাঁর শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় সাত বছর বয়সী শিশু কথা, বৃহস্পতিবার সকালে মুন্না এবং একই দিন দুপুরে ১০ বছর বয়সী মুন্নির মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, শিশুদের প্রত্যেকেরই শ্বাসনালীসহ শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হয়েছিল। সবশেষে শুক্রবার সকালে মা সায়মার মৃত্যুতে পরিবারটির আর কেউ জীবিত রইল না।

গত ১০ মে সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় ছয়তলা একটি ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে নির্গত গ্যাস ফ্ল্যাটের ভেতরে জমে ছিল। পরে কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে এসে সেটি বিস্ফোরণে রূপ নেয়।

অবহেলা ও গ্যাস লিকেজের মতো ঝুঁকি থেকে এমন মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

ফতুল্লার গ্যাস বিস্ফোরণ: পাঁচ প্রাণ ঝরে নিভে গেল একটি পরিবার

প্রকাশের সময় ০৮:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা সায়মা (৩২) মারা যাওয়ার মধ্য দিয়ে একটি সাজানো সংসারের করুণ পরিসমাপ্তি ঘটে। রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকেরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গত সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কয়েক দিনে একে একে প্রাণ হারান পরিবারের সদস্যরা। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, বিস্ফোরণের পর সোমবার সকালে প্রথম মারা যান গৃহকর্তা মো. কালাম (৩৫)। তাঁর শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় সাত বছর বয়সী শিশু কথা, বৃহস্পতিবার সকালে মুন্না এবং একই দিন দুপুরে ১০ বছর বয়সী মুন্নির মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, শিশুদের প্রত্যেকেরই শ্বাসনালীসহ শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হয়েছিল। সবশেষে শুক্রবার সকালে মা সায়মার মৃত্যুতে পরিবারটির আর কেউ জীবিত রইল না।

গত ১০ মে সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় ছয়তলা একটি ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে নির্গত গ্যাস ফ্ল্যাটের ভেতরে জমে ছিল। পরে কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে এসে সেটি বিস্ফোরণে রূপ নেয়।

অবহেলা ও গ্যাস লিকেজের মতো ঝুঁকি থেকে এমন মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।