প্রকাশের সময়
০৩:৫৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
/
২২
বার দেখা হয়েছে
ডিজিটাল কনটেন্টের দুনিয়ায় পডকাস্ট এখন আর নতুন কিছু নয়—বরং দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এক শক্তিশালী মাধ্যম। তবে এই জনপ্রিয়তার ঢেউয়ের সঙ্গে নতুন এক বিতর্কও মাথা তুলেছে: আমরা কি সত্যিই মানুষের তৈরি পডকাস্ট শুনছি, নাকি ধীরে ধীরে ভরে যাচ্ছে ‘পডস্লপ’-এ?
সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, নতুন প্রকাশিত পডকাস্টের প্রায় ৩৯ শতাংশই সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি। সংখ্যাটা ছোট নয়। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন কয়েক মিনিটেই তৈরি করা যায় একটি পূর্ণাঙ্গ অডিও অনুষ্ঠান—ভার্চ্যুয়াল সঞ্চালক, সাজানো সংলাপ, এমনকি কৃত্রিম আবেগসহ।
নোটবুকএলএমের মতো টুল ব্যবহার করে ব্যবহারকারী শুধু কিছু তথ্যসূত্র দিলেই এআই নিজেই তৈরি করে ফেলে আলোচনার কাঠামো। দুই ‘উপস্থাপক’ কথোপকথনে যুক্ত হয়, প্রশ্ন-উত্তর চলে, মাঝেমধ্যে ব্যবহারকারীর মতামতও ঢুকে যায়। শুনতে সব ঠিকঠাক, কিন্তু এখানেই শুরু হচ্ছে প্রশ্ন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পডকাস্টে বড় ঘাটতি থাকে মৌলিকতা ও মানবিক স্পর্শের। মানুষের অভিজ্ঞতা, আবেগ, দ্বিধা, ভুল—যা আসলে একটি কথোপকথনকে জীবন্ত করে তোলে—সেগুলো অনুপস্থিত। তার জায়গা নিচ্ছে অ্যালগরিদম দিয়ে সাজানো নিখুঁত কিন্তু কিছুটা প্রাণহীন ভাষা।
এআইভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির ব্যবসাও দ্রুত বাড়ছে। ইনসেপশন পয়েন্ট এআই নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন শত শত পডকাস্ট তৈরি করছে এবং ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে। তাদের ভাষায়, এটি “ভবিষ্যতের গল্প বলার পদ্ধতি”। কয়েক বছর আগেও যেটি কল্পনার মতো শোনাত, এখন সেটাই বাস্তব।
তবে সমালোচনার জায়গাও কম নয়। এআই কোন তথ্য বেছে নিচ্ছে, কোনটি বাদ দিচ্ছে—এই প্রক্রিয়া বেশিরভাগ সময়ই অস্বচ্ছ। ফলে তথ্যের নির্ভুলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে, নিয়মিত শ্রোতারা বলছেন—প্রথমে সব ঠিকঠাক মনে হলেও কিছুক্ষণ শুনলেই কৃত্রিমতার ছাপ ধরা পড়ে। কণ্ঠের ওঠানামা, সংলাপের গতি, এমনকি হাসির ধরনও অনেক সময় একঘেয়ে লাগে। যেন সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু কিছু একটা ঠিক নেই।
এই পরিস্থিতিতেই ‘পডস্লপ’ শব্দটি এসেছে—যেসব পডকাস্ট দ্রুত তৈরি হলেও মানে ঘাটতি, সেগুলোকে বোঝাতে।
প্রযুক্তি এগোবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়—এই অগ্রগতির ভিড়ে মানুষের গল্প, মানুষের কণ্ঠ আর মানুষের অনুভূতির জায়গাটা কতটা টিকে থাকবে?