Dhaka রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার চালু হচ্ছে ‘ই-লোন’ সেবা

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৪:১১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • / ২৪ বার দেখা হয়েছে

দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও গতিশীল ও সহজলভ্য করতে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ‘ই-লোন’ বা ই-ঋণ সেবা চালুর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ ব্যবস্থায় গ্রাহকরা এখন ব্যাংকে না গিয়েই মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঋণের আবেদন, অনুমোদন এবং অর্থ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করতে ব্যাংকগুলোকে ই-লোন কার্যক্রম চালু করতে হবে। সার্কুলার অনুযায়ী, নতুন এ ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন নিতে পারবেন। তবে এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস। ই-ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক বাজারভিত্তিক নির্ধারণ করবে। তবে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা গৃহীত হলে গ্রাহক পর্যায় সর্বোচ্চ সুদ হবে ৯ শতাংশ। ঋণ বিতরণ, কিস্তি পরিশোধ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকের আবেদন যাচাইয়ে ব্যাংকগুলোকে জাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করবে। ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করতে হবে। খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এই সুবিধা পাবেন না। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ই-লোনের ক্ষেত্রে সুদ, ফি, চার্জ, বিলম্ব মাশুল বা আগাম ঋণ পরিশোধ ফি-সব তথ্য গ্রাহককে আগেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না। সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ), মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) এবং ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ই-লোন কার্যক্রম চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করেও এ সেবা চালু করতে হবে। ব্যাংকাররা বলছেন, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও খুচরা ঋণ বিতরণ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর গ্রাহকরা দ্রুত ঋণ সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবায় সময় ও খরচ কমবে এবং নগদনির্ভরতা হ্রাস পাবে।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

এবার চালু হচ্ছে ‘ই-লোন’ সেবা

প্রকাশের সময় ০৪:১১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও গতিশীল ও সহজলভ্য করতে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ‘ই-লোন’ বা ই-ঋণ সেবা চালুর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ ব্যবস্থায় গ্রাহকরা এখন ব্যাংকে না গিয়েই মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঋণের আবেদন, অনুমোদন এবং অর্থ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করতে ব্যাংকগুলোকে ই-লোন কার্যক্রম চালু করতে হবে। সার্কুলার অনুযায়ী, নতুন এ ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন নিতে পারবেন। তবে এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস। ই-ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক বাজারভিত্তিক নির্ধারণ করবে। তবে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা গৃহীত হলে গ্রাহক পর্যায় সর্বোচ্চ সুদ হবে ৯ শতাংশ। ঋণ বিতরণ, কিস্তি পরিশোধ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকের আবেদন যাচাইয়ে ব্যাংকগুলোকে জাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করবে। ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করতে হবে। খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এই সুবিধা পাবেন না। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ই-লোনের ক্ষেত্রে সুদ, ফি, চার্জ, বিলম্ব মাশুল বা আগাম ঋণ পরিশোধ ফি-সব তথ্য গ্রাহককে আগেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না। সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ), মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) এবং ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ই-লোন কার্যক্রম চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করেও এ সেবা চালু করতে হবে। ব্যাংকাররা বলছেন, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও খুচরা ঋণ বিতরণ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর গ্রাহকরা দ্রুত ঋণ সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবায় সময় ও খরচ কমবে এবং নগদনির্ভরতা হ্রাস পাবে।