Dhaka রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ: পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর রহস্য | ১১ কিলোমিটার নিচে কী আছে?

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৫:৩০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৭৭ বার দেখা হয়েছে

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ—পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর রহস্য | ১১ কিলোমিটার নিচে কী আছে?

সমুদ্রের নীল জলরাশি যতটা পরিচিত, তার গভীর অন্ধকার জগত ততটাই অজানা। পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার নিচে এমন একটি স্থান রয়েছে, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, পানির চাপ ভয়ংকর এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনের কোনো সুযোগ নেই। সেই রহস্যময় স্থানই মারিয়ানা ট্রেঞ্চ

প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশে অবস্থিত এই বিশাল সমুদ্রখাদ পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর পরিচিত সমুদ্রতলগুলোর একটি। এর সবচেয়ে গভীর অংশের নাম Challenger Deep

কিন্তু প্রশ্ন হলো—এত গভীরে আসলে কী আছে?

মাউন্ট এভারেস্টও যেখানে ডুবে যাবে

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো মাউন্ট এভারেস্টের সঙ্গে তুলনা করা।

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টকে যদি Challenger Deep-এর তলদেশে দাঁড় করানো হয়, তাহলে এভারেস্টের চূড়াও সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে থেকে যাবে।

অর্থাৎ, পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থানের সঙ্গে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর পরিচিত সমুদ্রতলের পার্থক্য কতটা বিশাল—এই তুলনাতেই তা সহজে বোঝা যায়।

কোথায় অবস্থিত মারিয়ানা ট্রেঞ্চ?

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশে, মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের পূর্বদিকে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর ভূত্বকের এমন একটি অঞ্চলে তৈরি হয়েছে, যেখানে একটি টেকটোনিক প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে যাচ্ছে।

এই ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াকে বলা হয় subduction

লক্ষ-কোটি বছর ধরে চলা এই প্রক্রিয়ার ফলেই সমুদ্রের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গভীর খাদ।

Challenger Deep—অন্ধকারের শেষ সীমা?

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের সবচেয়ে গভীর পরিচিত অংশ হলো Challenger Deep। বিভিন্ন আধুনিক পরিমাপে এর গভীরতা প্রায় ১০.৯ কিলোমিটার

এখানে পৌঁছালে পানির চাপ সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় কয়েকশ গুণ বেশি হতে পারে। মানুষের তৈরি কোনো সাধারণ যান বা সরঞ্জাম এই পরিবেশে টিকে থাকতে পারবে না।

তাই Challenger Deep-এ পৌঁছাতে প্রয়োজন বিশেষভাবে তৈরি গভীর সমুদ্রযান।

১৯৬০ সালে প্রথম মানুষ পৌঁছেছিলেন

১৯৬০ সালে সুইস সমুদ্রবিজ্ঞানী Jacques Piccard এবং মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা Don Walsh Trieste নামের গভীর সমুদ্রযানে করে Challenger Deep-এর তলদেশে পৌঁছান।

এটি ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম সাহসী সমুদ্র অভিযান।

তখনকার প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে তারা সেখানে খুব অল্প সময় অবস্থান করতে পেরেছিলেন। কিন্তু সেই অভিযান প্রমাণ করে—মানুষ পৃথিবীর প্রায় অকল্পনীয় গভীরতাতেও পৌঁছাতে পারে।

২০১২ সালে একাই নেমেছিলেন James Cameron

এর ৫২ বছর পর, ২০১২ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সমুদ্র অভিযাত্রী James Cameron Deepsea Challenger নামের বিশেষ সাবমার্সিবল ব্যবহার করে এককভাবে Challenger Deep-এ অবতরণ করেন।

এই অভিযান গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করে।

তবে এত গভীরে যাওয়া শুধু সাহসের বিষয় নয়। এর জন্য প্রয়োজন এমন প্রযুক্তি, যা ভয়ংকর চাপ, অন্ধকার এবং চরম পরিবেশ সহ্য করতে পারে।

১১ কিলোমিটার নিচেও আছে জীবন

মারিয়ানা ট্রেঞ্চকে প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটি সম্পূর্ণ মৃত একটি জগত।

কিন্তু বাস্তবতা আরও বিস্ময়কর।

এই গভীর অন্ধকারেও বিভিন্ন ধরনের জীবের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। রয়েছে amphipod, sea cucumber, xenophyophore এবং বিভিন্ন অণুজীব। গভীর সমুদ্রের কিছু মাছও প্রচণ্ড চাপের পরিবেশে অভিযোজিত হয়ে বেঁচে থাকে।

তাদের শরীরের গঠন ও জৈব রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য অগভীর পানির প্রাণীদের তুলনায় অনেকটাই আলাদা।

এত চাপেও তারা কীভাবে বেঁচে থাকে?

সমুদ্র যত গভীর হয়, পানির চাপ তত বাড়ে।

মানুষের শরীর এই চাপ সহ্য করার জন্য তৈরি নয়। কিন্তু গভীর সমুদ্রের প্রাণীরা দীর্ঘ বিবর্তনের মাধ্যমে এমন বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে, যা তাদের এই পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

কিছু প্রাণীর শরীরে এমন জৈব রাসায়নিক ব্যবস্থা রয়েছে, যা উচ্চচাপের মধ্যেও কোষীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

এ কারণেই মারিয়ানা ট্রেঞ্চ শুধু একটি ভৌগোলিক বিস্ময় নয়—এটি জীববিজ্ঞানীদের কাছেও এক বিশাল গবেষণাগার।

অন্ধকারের নিচেও মানুষের ছাপ

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের সবচেয়ে অস্বস্তিকর আবিষ্কারগুলোর একটি হলো—মানুষের তৈরি দূষণও পৃথিবীর এই গভীরতম পরিবেশে পৌঁছে গেছে।

গবেষণা ও অভিযানে গভীর সমুদ্রের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিক ও অন্যান্য মানবসৃষ্ট বর্জ্যের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এমনকি গভীর সমুদ্রের প্রাণীদের মধ্যেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

অর্থাৎ, পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম জায়গাগুলোর একটিও মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়।

আমরা কি সত্যিই মারিয়ানা ট্রেঞ্চকে চিনি?

এটাই হয়তো সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

মানুষ Challenger Deep-এ পৌঁছেছে, সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে, ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছে। কিন্তু পুরো মারিয়ানা ট্রেঞ্চের প্রতিটি অংশ এখনও বিস্তারিতভাবে জানা হয়নি।

গভীর সমুদ্রের বিশাল অঞ্চল এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যময়।

সম্ভবত ভবিষ্যতের আরও উন্নত সাবমার্সিবল, রোবট এবং বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি এই অন্ধকার জগতের আরও অনেক অজানা তথ্য সামনে নিয়ে আসবে।

১১ কিলোমিটার নিচে শুধু অন্ধকার নয়

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য মনে করিয়ে দেয়—পৃথিবীকে আমরা যতটা চিনি, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু এখনও অজানা।

সমুদ্রের ওপরের পৃথিবী আমাদের কাছে পরিচিত। কিন্তু তার নিচে রয়েছে এমন এক বিশাল জগত, যেখানে আলো নেই, চাপ প্রচণ্ড এবং জীবন নিজেকে টিকিয়ে রেখেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন নিয়মে।

আর সেই জগতের সবচেয়ে গভীর দরজাগুলোর একটি হলো—মারিয়ানা ট্রেঞ্চ

সম্পর্কিত

পৃথিবী, মহাসাগর ও ইতিহাসের অজানা অধ্যায় নিয়ে সেরা বাংলা ডকুমেন্টারি

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

পছন্দের চিকিৎসকের সিরিয়াল নিতে ক্লিক করুন

স্বাদে, মানে ও ভালোবাসায়—লেক ভিউ কেক

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ: পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর রহস্য | ১১ কিলোমিটার নিচে কী আছে?

প্রকাশের সময় ০৫:৩০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

সমুদ্রের নীল জলরাশি যতটা পরিচিত, তার গভীর অন্ধকার জগত ততটাই অজানা। পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার নিচে এমন একটি স্থান রয়েছে, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, পানির চাপ ভয়ংকর এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনের কোনো সুযোগ নেই। সেই রহস্যময় স্থানই মারিয়ানা ট্রেঞ্চ

প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশে অবস্থিত এই বিশাল সমুদ্রখাদ পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর পরিচিত সমুদ্রতলগুলোর একটি। এর সবচেয়ে গভীর অংশের নাম Challenger Deep

কিন্তু প্রশ্ন হলো—এত গভীরে আসলে কী আছে?

মাউন্ট এভারেস্টও যেখানে ডুবে যাবে

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো মাউন্ট এভারেস্টের সঙ্গে তুলনা করা।

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টকে যদি Challenger Deep-এর তলদেশে দাঁড় করানো হয়, তাহলে এভারেস্টের চূড়াও সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে থেকে যাবে।

অর্থাৎ, পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থানের সঙ্গে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর পরিচিত সমুদ্রতলের পার্থক্য কতটা বিশাল—এই তুলনাতেই তা সহজে বোঝা যায়।

কোথায় অবস্থিত মারিয়ানা ট্রেঞ্চ?

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশে, মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের পূর্বদিকে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর ভূত্বকের এমন একটি অঞ্চলে তৈরি হয়েছে, যেখানে একটি টেকটোনিক প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে যাচ্ছে।

এই ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াকে বলা হয় subduction

লক্ষ-কোটি বছর ধরে চলা এই প্রক্রিয়ার ফলেই সমুদ্রের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গভীর খাদ।

Challenger Deep—অন্ধকারের শেষ সীমা?

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের সবচেয়ে গভীর পরিচিত অংশ হলো Challenger Deep। বিভিন্ন আধুনিক পরিমাপে এর গভীরতা প্রায় ১০.৯ কিলোমিটার

এখানে পৌঁছালে পানির চাপ সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় কয়েকশ গুণ বেশি হতে পারে। মানুষের তৈরি কোনো সাধারণ যান বা সরঞ্জাম এই পরিবেশে টিকে থাকতে পারবে না।

তাই Challenger Deep-এ পৌঁছাতে প্রয়োজন বিশেষভাবে তৈরি গভীর সমুদ্রযান।

১৯৬০ সালে প্রথম মানুষ পৌঁছেছিলেন

১৯৬০ সালে সুইস সমুদ্রবিজ্ঞানী Jacques Piccard এবং মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা Don Walsh Trieste নামের গভীর সমুদ্রযানে করে Challenger Deep-এর তলদেশে পৌঁছান।

এটি ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম সাহসী সমুদ্র অভিযান।

তখনকার প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে তারা সেখানে খুব অল্প সময় অবস্থান করতে পেরেছিলেন। কিন্তু সেই অভিযান প্রমাণ করে—মানুষ পৃথিবীর প্রায় অকল্পনীয় গভীরতাতেও পৌঁছাতে পারে।

২০১২ সালে একাই নেমেছিলেন James Cameron

এর ৫২ বছর পর, ২০১২ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সমুদ্র অভিযাত্রী James Cameron Deepsea Challenger নামের বিশেষ সাবমার্সিবল ব্যবহার করে এককভাবে Challenger Deep-এ অবতরণ করেন।

এই অভিযান গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করে।

তবে এত গভীরে যাওয়া শুধু সাহসের বিষয় নয়। এর জন্য প্রয়োজন এমন প্রযুক্তি, যা ভয়ংকর চাপ, অন্ধকার এবং চরম পরিবেশ সহ্য করতে পারে।

১১ কিলোমিটার নিচেও আছে জীবন

মারিয়ানা ট্রেঞ্চকে প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটি সম্পূর্ণ মৃত একটি জগত।

কিন্তু বাস্তবতা আরও বিস্ময়কর।

এই গভীর অন্ধকারেও বিভিন্ন ধরনের জীবের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। রয়েছে amphipod, sea cucumber, xenophyophore এবং বিভিন্ন অণুজীব। গভীর সমুদ্রের কিছু মাছও প্রচণ্ড চাপের পরিবেশে অভিযোজিত হয়ে বেঁচে থাকে।

তাদের শরীরের গঠন ও জৈব রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য অগভীর পানির প্রাণীদের তুলনায় অনেকটাই আলাদা।

এত চাপেও তারা কীভাবে বেঁচে থাকে?

সমুদ্র যত গভীর হয়, পানির চাপ তত বাড়ে।

মানুষের শরীর এই চাপ সহ্য করার জন্য তৈরি নয়। কিন্তু গভীর সমুদ্রের প্রাণীরা দীর্ঘ বিবর্তনের মাধ্যমে এমন বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে, যা তাদের এই পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

কিছু প্রাণীর শরীরে এমন জৈব রাসায়নিক ব্যবস্থা রয়েছে, যা উচ্চচাপের মধ্যেও কোষীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

এ কারণেই মারিয়ানা ট্রেঞ্চ শুধু একটি ভৌগোলিক বিস্ময় নয়—এটি জীববিজ্ঞানীদের কাছেও এক বিশাল গবেষণাগার।

অন্ধকারের নিচেও মানুষের ছাপ

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের সবচেয়ে অস্বস্তিকর আবিষ্কারগুলোর একটি হলো—মানুষের তৈরি দূষণও পৃথিবীর এই গভীরতম পরিবেশে পৌঁছে গেছে।

গবেষণা ও অভিযানে গভীর সমুদ্রের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিক ও অন্যান্য মানবসৃষ্ট বর্জ্যের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এমনকি গভীর সমুদ্রের প্রাণীদের মধ্যেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

অর্থাৎ, পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম জায়গাগুলোর একটিও মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়।

আমরা কি সত্যিই মারিয়ানা ট্রেঞ্চকে চিনি?

এটাই হয়তো সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

মানুষ Challenger Deep-এ পৌঁছেছে, সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে, ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছে। কিন্তু পুরো মারিয়ানা ট্রেঞ্চের প্রতিটি অংশ এখনও বিস্তারিতভাবে জানা হয়নি।

গভীর সমুদ্রের বিশাল অঞ্চল এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যময়।

সম্ভবত ভবিষ্যতের আরও উন্নত সাবমার্সিবল, রোবট এবং বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি এই অন্ধকার জগতের আরও অনেক অজানা তথ্য সামনে নিয়ে আসবে।

১১ কিলোমিটার নিচে শুধু অন্ধকার নয়

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য মনে করিয়ে দেয়—পৃথিবীকে আমরা যতটা চিনি, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু এখনও অজানা।

সমুদ্রের ওপরের পৃথিবী আমাদের কাছে পরিচিত। কিন্তু তার নিচে রয়েছে এমন এক বিশাল জগত, যেখানে আলো নেই, চাপ প্রচণ্ড এবং জীবন নিজেকে টিকিয়ে রেখেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন নিয়মে।

আর সেই জগতের সবচেয়ে গভীর দরজাগুলোর একটি হলো—মারিয়ানা ট্রেঞ্চ