Dhaka শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সময়ের ভাঙা ঘাটে

রফিকুল ইসলাম
  • প্রকাশের সময় ০৬:০০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৩৭ বার দেখা হয়েছে

sahityapata

নদীর চরে তখন সন্ধ্যা গুটিয়ে নিয়েছে আলো
নৌকা বাঁধা পড়েছে কাদায় —
একা দাঁড়িয়ে আছি আমি সময়ের ভাঙা ঘাটে
নিভে যাওয়া কুপির মতো অকারণ।

বুড়ো বটের কাছে শুধালাম – কোথায় যাব?
আমার পথটাই আমাকে চেনে না ধানী আভায়,
অঘ্রাণের উঠোনে কেন এত ধুলো জমে
ভাটিয়ালি কেন কাঁদে না আর ভরা গাঙের গায়!

উইপোকায় কুরে খায় গোলা ভরা ধান
কুকুর ডাকে শূন্য গোয়ালে —
ডাহুক ডেকে যায় ভেজা বিলে অবিরাম
মরা জোছনার বুক চিরে জাগে পোড়া স্বপ্ন

থরে থরে সাজানো কত না বলা কথা
বোবা পুঁথির মতো পড়ে থাকা রাতের পাতায়।
হিম হাওয়া বয়ে যায় শূন্য উঠোনে উঠোনে
চেনা গাঁয়ের চেনা ভিটে ছুঁয়ে ছুঁয়ে

আবার কি ভাসবে ভেলা গাজনের গানে!
লাঙল কি নামবে মাঠে ভোরের কুয়াশা ঠেলে
বউ-ঝিরা ভিজে ভিজে ধান শুকাবে —
এ সব শব্দ এখন আর মেলে না কোথাও

কতকাল যেন শুনি না ঢেঁকির ছন্দে পা ফেলা গান।
আহা! কতকাল যেন পুকুরপাড়ে কুড়াইনি
আম-কুড়ানো ভোরে ঝরা আমের ঘ্রাণ,
মনে নেই কবে শেষ ভিজেছি নতুন জলে

খুঁজিনি বাঁশবনে জোনাকির নিভু নিভু প্রাণ
মানিনি মায়ের বকুনি শ্রাবণ দুপুর,
মনে বাজে এইসবই – দূর হেমন্তের মতো
অসমাপ্ত কোনো গানের সুর।

রফিকুল ইসলাম
মহেশপুর, ঝিনাইদহ

পৃথিবী, মহাসাগর ও ইতিহাসের অজানা অধ্যায় নিয়ে সেরা বাংলা ডকুমেন্টারি

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

পছন্দের চিকিৎসকের সিরিয়াল নিতে ক্লিক করুন

স্বাদে, মানে ও ভালোবাসায়—লেক ভিউ কেক

সময়ের ভাঙা ঘাটে

প্রকাশের সময় ০৬:০০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

নদীর চরে তখন সন্ধ্যা গুটিয়ে নিয়েছে আলো
নৌকা বাঁধা পড়েছে কাদায় —
একা দাঁড়িয়ে আছি আমি সময়ের ভাঙা ঘাটে
নিভে যাওয়া কুপির মতো অকারণ।

বুড়ো বটের কাছে শুধালাম – কোথায় যাব?
আমার পথটাই আমাকে চেনে না ধানী আভায়,
অঘ্রাণের উঠোনে কেন এত ধুলো জমে
ভাটিয়ালি কেন কাঁদে না আর ভরা গাঙের গায়!

উইপোকায় কুরে খায় গোলা ভরা ধান
কুকুর ডাকে শূন্য গোয়ালে —
ডাহুক ডেকে যায় ভেজা বিলে অবিরাম
মরা জোছনার বুক চিরে জাগে পোড়া স্বপ্ন

থরে থরে সাজানো কত না বলা কথা
বোবা পুঁথির মতো পড়ে থাকা রাতের পাতায়।
হিম হাওয়া বয়ে যায় শূন্য উঠোনে উঠোনে
চেনা গাঁয়ের চেনা ভিটে ছুঁয়ে ছুঁয়ে

আবার কি ভাসবে ভেলা গাজনের গানে!
লাঙল কি নামবে মাঠে ভোরের কুয়াশা ঠেলে
বউ-ঝিরা ভিজে ভিজে ধান শুকাবে —
এ সব শব্দ এখন আর মেলে না কোথাও

কতকাল যেন শুনি না ঢেঁকির ছন্দে পা ফেলা গান।
আহা! কতকাল যেন পুকুরপাড়ে কুড়াইনি
আম-কুড়ানো ভোরে ঝরা আমের ঘ্রাণ,
মনে নেই কবে শেষ ভিজেছি নতুন জলে

খুঁজিনি বাঁশবনে জোনাকির নিভু নিভু প্রাণ
মানিনি মায়ের বকুনি শ্রাবণ দুপুর,
মনে বাজে এইসবই – দূর হেমন্তের মতো
অসমাপ্ত কোনো গানের সুর।

রফিকুল ইসলাম
মহেশপুর, ঝিনাইদহ