Dhaka রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

সংসদ

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে দেশের বেসরকারি খাত এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ নীতিগত দুর্বলতার কারণে শিল্প ও বাণিজ্য খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, উৎপাদন কমে যাওয়া, বিনিয়োগের গতি থমকে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় অর্থনীতিতে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক প্রান্তিকে নতুন বিনিয়োগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকও কাজে লাগাতে পারছে না। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাতেও একই চিত্র। বৈশ্বিক বাজারে অর্ডার কমে যাওয়া, জ্বালানি সংকট এবং উচ্চ সুদহার এই খাতের জন্য বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি আবাসন, ইস্পাত, সিমেন্ট ও চামড়া শিল্পেও উৎপাদন ও বিনিয়োগে স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উদ্যোক্তারা মনে করছেন, নতুন সরকারের প্রথম দায়িত্ব হবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। তারা একটি স্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রোডম্যাপ প্রত্যাশা করছেন, যেখানে করনীতি, সুদহার, বিনিময় হার এবং আমদানিনীতিতে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত থাকবে। নীতির ঘন ঘন পরিবর্তন ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়নকেও শিল্পোন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, আধুনিক সড়ক ও বন্দর ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো ছাড়া শিল্পের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। একইসঙ্গে প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানি বন্ধ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিরাপত্তাহীনতা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে।
শ্রম আইন আধুনিকায়ন এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা গেলে শিল্পে স্থিতিশীলতা আসবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে। একইসঙ্গে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হবেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে, যখন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য কার্যকর ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ রয়েছে। বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নতুন সরকার একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে এবং বেসরকারি খাতকে আস্থায় নিয়ে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কারণ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অপরিসীম। উদ্যোক্তাদের সংকট নিরসনই হবে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সম্পর্কিত

শেয়ার করুন

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
প্রকাশের সময় ০১:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১১১ পড়া হয়েছে

নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের সময় ০১:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে দেশের বেসরকারি খাত এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ নীতিগত দুর্বলতার কারণে শিল্প ও বাণিজ্য খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, উৎপাদন কমে যাওয়া, বিনিয়োগের গতি থমকে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় অর্থনীতিতে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক প্রান্তিকে নতুন বিনিয়োগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকও কাজে লাগাতে পারছে না। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাতেও একই চিত্র। বৈশ্বিক বাজারে অর্ডার কমে যাওয়া, জ্বালানি সংকট এবং উচ্চ সুদহার এই খাতের জন্য বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি আবাসন, ইস্পাত, সিমেন্ট ও চামড়া শিল্পেও উৎপাদন ও বিনিয়োগে স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উদ্যোক্তারা মনে করছেন, নতুন সরকারের প্রথম দায়িত্ব হবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। তারা একটি স্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রোডম্যাপ প্রত্যাশা করছেন, যেখানে করনীতি, সুদহার, বিনিময় হার এবং আমদানিনীতিতে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত থাকবে। নীতির ঘন ঘন পরিবর্তন ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়নকেও শিল্পোন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, আধুনিক সড়ক ও বন্দর ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো ছাড়া শিল্পের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। একইসঙ্গে প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানি বন্ধ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিরাপত্তাহীনতা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে।
শ্রম আইন আধুনিকায়ন এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা গেলে শিল্পে স্থিতিশীলতা আসবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে। একইসঙ্গে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হবেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে, যখন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য কার্যকর ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ রয়েছে। বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নতুন সরকার একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে এবং বেসরকারি খাতকে আস্থায় নিয়ে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কারণ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অপরিসীম। উদ্যোক্তাদের সংকট নিরসনই হবে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।