Dhaka মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ন্যায্য দাম না পেয়ে সাতক্ষীরায় কমছে হলুদের আবাদ

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০৪:৩২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / ২০ বার দেখা হয়েছে

ন্যায্য দাম না পাওয়া, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ভারত থেকে আমদানি করা সস্তা হলুদের চাপে সাতক্ষীরায় কমে যাচ্ছে মশলা জাতীয় ফসল হলুদের আবাদ। একসময় জেলার প্রধান ফসলগুলোর মধ্যে থাকা হলুদ চাষ এখন কৃষকদের আগ্রহ হারাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং রোগবালাইয়ের কারণে হলুদ চাষ দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। লবণাক্ততার কারণে গাছের বৃদ্ধি ও কন্দ গঠন ব্যাহত হচ্ছে, আর জলাবদ্ধতায় কন্দ পচে গিয়ে চারা নষ্ট হচ্ছে। ফলে ফলন কমে যাওয়ায় কৃষকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৬৪৫ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হলেও চলতি মৌসুমে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫৯ হেক্টরে। বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হওয়ায় অনেক কৃষক হলুদের পরিবর্তে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

এদিকে ভোমরা কাস্টম হাউজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত বন্দর দিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ৯৬৯ টন শুকনা হলুদ আমদানি হয়েছে, যার মূল্য ২৬৫ কোটি টাকার বেশি। আমদানিকৃত সস্তা হলুদ বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় স্থানীয় উৎপাদকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।

তালা উপজেলার খলিষখালী গ্রামের কৃষক সৈয়দ আলী শেখ জানান, “আগে হলুদ চাষ করে ভালো লাভ হতো। কিন্তু এখন জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় ফলন কমে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে অন্য ফসল করছি।”

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “হলুদ একটি লাভজনক ফসল। তবে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে এর আবাদ কমেছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা আমরা দিয়ে যাচ্ছি।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে হলে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।

সম্পর্কিত

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

ন্যায্য দাম না পেয়ে সাতক্ষীরায় কমছে হলুদের আবাদ

প্রকাশের সময় ০৪:৩২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

ন্যায্য দাম না পাওয়া, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ভারত থেকে আমদানি করা সস্তা হলুদের চাপে সাতক্ষীরায় কমে যাচ্ছে মশলা জাতীয় ফসল হলুদের আবাদ। একসময় জেলার প্রধান ফসলগুলোর মধ্যে থাকা হলুদ চাষ এখন কৃষকদের আগ্রহ হারাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং রোগবালাইয়ের কারণে হলুদ চাষ দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। লবণাক্ততার কারণে গাছের বৃদ্ধি ও কন্দ গঠন ব্যাহত হচ্ছে, আর জলাবদ্ধতায় কন্দ পচে গিয়ে চারা নষ্ট হচ্ছে। ফলে ফলন কমে যাওয়ায় কৃষকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৬৪৫ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হলেও চলতি মৌসুমে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫৯ হেক্টরে। বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হওয়ায় অনেক কৃষক হলুদের পরিবর্তে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

এদিকে ভোমরা কাস্টম হাউজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত বন্দর দিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ৯৬৯ টন শুকনা হলুদ আমদানি হয়েছে, যার মূল্য ২৬৫ কোটি টাকার বেশি। আমদানিকৃত সস্তা হলুদ বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় স্থানীয় উৎপাদকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।

তালা উপজেলার খলিষখালী গ্রামের কৃষক সৈয়দ আলী শেখ জানান, “আগে হলুদ চাষ করে ভালো লাভ হতো। কিন্তু এখন জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় ফলন কমে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে অন্য ফসল করছি।”

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “হলুদ একটি লাভজনক ফসল। তবে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে এর আবাদ কমেছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা আমরা দিয়ে যাচ্ছি।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে হলে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।