- ঘোষ উত্তম
আমি এখন হেমন্তের মৌসুমি কৃষক। সোনালী ফসলের ক্ষেত আমায় সারাক্ষণ হাতছানি দিয়ে ডাকে। আমি গন্ধ পাই নতুন চালের ফেনা উঠা ভাতের মাড়ের। আমি অপেক্ষার প্রহর গুনি যদি নবান্নের পরশে পেটের ভিতর কিছুটা নতুন চালের পিঠা পায়েসের অতৃপ্তি বাসনা মিটে। কিছুদিন আগে হেমন্তের আগমনে বাংলার প্রকৃতি যেন নতুন করে জীবনের গান গাইতে শুরু করেছে। মাঠে মাঠে পাকা ধানের সোনালি আভা দিচ্ছে একটু একটু করে, ভোরের কুয়াশার কোমল পরশ, পাখির কলকাকলি আর কৃষকের ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে—নতুন ফসলের দিন ঘনিয়ে এসেছে। ঘরে ঘরে প্রস্তুতি চলছে নতুন ধানকে বরণ করে নেওয়ার।
হেমন্তের এই সৌন্দর্য প্রকৃতির উপহার, আর নবান্ন সেই উপহারের সঙ্গে মানুষের শ্রম, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার মিলন। নতুন ধানের প্রথম ভাতের ঘ্রাণে, আপনজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্তে এবং কৃষকের মুখের তৃপ্তির হাসিতে পূর্ণতা পায় বাংলার এই ঋতু।
সোনালি ধানের শিষে দুলছে স্বপ্ন, শিশিরভেজা ভোরে জেগে উঠছে প্রত্যাশা। বাংলার প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি কৃষকের হৃদয়ে এখন একটিই আকাঙ্ক্ষা—ফসল ঘরে উঠুক, হাসি ফুটুক প্রতিটি মুখে, সমৃদ্ধ হোক কৃষকের জীবন।
হেমন্ত এসেছে। প্রকৃতি সেজেছে নতুন সাজে। আর বাংলার মানুষ অপেক্ষায়—নবান্নের, নতুন অন্নের, নতুন আনন্দের।
ভাবখালী, সদর, ময়মনসিংহ।
Uttam Kumar Ghosh 

























