বাংলাদেশ 6:47 am, Friday, 6 November 2026

পোশাকশিল্পের সংকট নিরসনে জামায়াতের ১৫ দফা দাবি

  • Reporter Name
  • প্রকাশ 09:36:30 pm, Thursday, 5 November 2026
  • 109 Time View

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানা বন্ধ ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা নিরসনে সরকারের কাছে ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের চলমান সংকট শুধু শ্রমিক-মালিক বিরোধ নয়; এটি দেশের উৎপাদন, রপ্তানি বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও জাতীয় অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের বিষয়। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও শ্রমিকদের আয় সেই তুলনায় বাড়েনি। ফলে তাঁদের পক্ষে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে পড়েছে। গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা এবং নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করতে হবে। তিনি বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তাঁদের অধিকার। গত ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং ৪ নভেম্বর এর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রমিকদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত গ্রহণযোগ্য মজুরি ঘোষণা করা উচিত। একই সঙ্গে কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এতে শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও মালিকের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী উসকানি বা নাশকতা করছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তেরও দাবি জানান তিনি। জামায়াতের ১৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও কার্যকর, তৌফিক শেখের মৃত্যুর তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তি, আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ, সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা, শ্রমিকদের ওপর অযাচিত বলপ্রয়োগ ও হয়রানি বন্ধ, নিরপরাধ শ্রমিকদের মুক্তি এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার, সরকার-মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের সংলাপ, বন্ধ কারখানা চালু, বেআইনি শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও শিল্পের সুরক্ষা পরস্পরবিরোধী নয়। শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, শিল্প বাঁচলে দেশের অর্থনীতি বাঁচবে। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদের গভীরে কী লুকিয়ে আছে?

পোশাকশিল্পের সংকট নিরসনে জামায়াতের ১৫ দফা দাবি

প্রকাশ 09:36:30 pm, Thursday, 5 November 2026

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানা বন্ধ ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা নিরসনে সরকারের কাছে ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের চলমান সংকট শুধু শ্রমিক-মালিক বিরোধ নয়; এটি দেশের উৎপাদন, রপ্তানি বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও জাতীয় অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের বিষয়। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও শ্রমিকদের আয় সেই তুলনায় বাড়েনি। ফলে তাঁদের পক্ষে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে পড়েছে। গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা এবং নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করতে হবে। তিনি বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তাঁদের অধিকার। গত ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং ৪ নভেম্বর এর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রমিকদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত গ্রহণযোগ্য মজুরি ঘোষণা করা উচিত। একই সঙ্গে কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এতে শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও মালিকের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী উসকানি বা নাশকতা করছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তেরও দাবি জানান তিনি। জামায়াতের ১৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও কার্যকর, তৌফিক শেখের মৃত্যুর তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তি, আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ, সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা, শ্রমিকদের ওপর অযাচিত বলপ্রয়োগ ও হয়রানি বন্ধ, নিরপরাধ শ্রমিকদের মুক্তি এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার, সরকার-মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের সংলাপ, বন্ধ কারখানা চালু, বেআইনি শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও শিল্পের সুরক্ষা পরস্পরবিরোধী নয়। শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, শিল্প বাঁচলে দেশের অর্থনীতি বাঁচবে। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।