Dhaka মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮১ বছরে খুরশীদ আলম: ‘পুরোনো গানগুলো নতুন করে গাইতে পারলে আরও ভালো হতো’

সাহিত্যপাতা
  • প্রকাশের সময় ০১:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৪৪ বার দেখা হয়েছে

বাংলা চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী খুরশীদ আলম আজ ৮১ বছরে পা রাখলেন। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তার কণ্ঠে সমৃদ্ধ হয়েছে দেশের চলচ্চিত্রসংগীত। ‘চুমকি চলেছে একা পথে’, ‘চুরি করেছ আমার মনটা’, ‘বন্দী পাখির মত’, ‘পাখির বাসার মত দুইটি চোখ তোমার’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছেন। শনিবার (১ আগস্ট) জন্মদিন উপলক্ষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী জানান, বরাবরের মতো এবারও জন্মদিনে নেই কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে নীরবভাবেই দিনটি কাটানোর পরিকল্পনা তার। খুরশীদ আলম বলেন, “আমার জন্মদিন সবসময়ই নীরবেই পালিত হয়। কখনো ঘটা করে উদযাপনের অভ্যাস নেই। এবারও দিনটি খুব সাধারণভাবেই কাটবে।”

তবে এবার জন্মদিনকে ঘিরে কিছু বিশেষ আয়োজন রয়েছে। তিনি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ‘তারকাকথন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, যেখানে তাকে সম্মাননা জানানো হয়েছে। একই দিন প্রচারিত হয়েছে শাইখ সিরাজ নির্মিত তার জীবনীভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’। এবারের জন্মদিন ঘিরে মানুষের আগ্রহে আনন্দিত খুরশীদ আলম। তার ভাষায়, “প্রামাণ্যচিত্রটির মাধ্যমে অনেকেই আমার কাজ ও জীবন সম্পর্কে নতুন করে জানতে পারছেন।” দীর্ঘ সংগীতজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, পুরোনো গানগুলো নতুন প্রযুক্তিতে আবার গাওয়ার সুযোগ পেলে হয়তো আরও ভালোভাবে পরিবেশন করতে পারতেন।

তিনি বলেন, “আমাদের সময় প্রযুক্তি এত উন্নত ছিল না। এক মাইকে গান রেকর্ড করতাম। একটি গান ঠিকভাবে না হলে দশবারও গাইতে হতো। এখন প্রযুক্তির কারণে অনেক কিছু সহজ হয়ে গেছে। মনে হয়, যদি এই সময়ে এসে গানগুলো আবার গাওয়ার সুযোগ পেতাম, তাহলে হয়তো আরও ভালোভাবে গাইতে পারতাম। কিন্তু এখন তো আর সেটা সম্ভব নয়।”

চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও খুরশীদ আলমের সংগীতজীবনের শুরু রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে। চাচা আবু হায়দার সাজেদুর রহমানের কাছে তার সংগীতের হাতেখড়ি। ষাটের দশকের শুরুতে তিনি নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করতেন। ১৯৬৫ সালে শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজে প্রথম মঞ্চে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন। পরে রবীন্দ্রসংগীতের ওপর তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের নিষেধাজ্ঞার পর তিনি আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে রেডিওতে অডিশন দেন।

১৯৬৯ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘আগন্তুক’ চলচ্চিত্রে প্রথম প্লেব্যাক করেন খুরশীদ আলম। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রায় সাড়ে ৪০০ চলচ্চিত্রে গান গেয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল প্লেব্যাক শিল্পী। তার কণ্ঠে জনপ্রিয় হওয়া গানের তালিকায় রয়েছে ‘চুমকি চলেছে একা পথে’, ‘চুরি করেছ আমার মনটা’, ‘বন্দী পাখির মত’, ‘পাখির বাসার মত দুইটি চোখ তোমার’, ‘যদি বউ সাজো গো, আরও সুন্দর লাগবে গো’, *‘মাগো মা’*সহ অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান। নায়করাজ রাজ্জাক থেকে শুরু করে ওয়াসিম, জাভেদ, মাহমুদ কলি, আলমগীর, জাফর ইকবাল, ইলিয়াস কাঞ্চন, সোহেল রানা ও বুলবুল আহম্মেদসহ বাংলা চলচ্চিত্রের প্রায় সব জনপ্রিয় নায়কের ঠোঁটে শোনা গেছে তার কণ্ঠ। ৮১ বছর বয়সেও তিনি নিয়মিত টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন এবং নতুন একক ও দ্বৈত গান প্রকাশ করে সংগীতপ্রেমীদের মুগ্ধ করে চলেছেন।

সম্পর্কিত

পৃথিবী, মহাসাগর ও ইতিহাসের অজানা অধ্যায় নিয়ে সেরা বাংলা ডকুমেন্টারি

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিন

স্বাদে, মানে ও ভালোবাসায়—লেক ভিউ কেক

৮১ বছরে খুরশীদ আলম: ‘পুরোনো গানগুলো নতুন করে গাইতে পারলে আরও ভালো হতো’

প্রকাশের সময় ০১:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বাংলা চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী খুরশীদ আলম আজ ৮১ বছরে পা রাখলেন। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তার কণ্ঠে সমৃদ্ধ হয়েছে দেশের চলচ্চিত্রসংগীত। ‘চুমকি চলেছে একা পথে’, ‘চুরি করেছ আমার মনটা’, ‘বন্দী পাখির মত’, ‘পাখির বাসার মত দুইটি চোখ তোমার’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছেন। শনিবার (১ আগস্ট) জন্মদিন উপলক্ষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী জানান, বরাবরের মতো এবারও জন্মদিনে নেই কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে নীরবভাবেই দিনটি কাটানোর পরিকল্পনা তার। খুরশীদ আলম বলেন, “আমার জন্মদিন সবসময়ই নীরবেই পালিত হয়। কখনো ঘটা করে উদযাপনের অভ্যাস নেই। এবারও দিনটি খুব সাধারণভাবেই কাটবে।”

তবে এবার জন্মদিনকে ঘিরে কিছু বিশেষ আয়োজন রয়েছে। তিনি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ‘তারকাকথন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, যেখানে তাকে সম্মাননা জানানো হয়েছে। একই দিন প্রচারিত হয়েছে শাইখ সিরাজ নির্মিত তার জীবনীভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘হৃদয়ে কী সুর বাজে’। এবারের জন্মদিন ঘিরে মানুষের আগ্রহে আনন্দিত খুরশীদ আলম। তার ভাষায়, “প্রামাণ্যচিত্রটির মাধ্যমে অনেকেই আমার কাজ ও জীবন সম্পর্কে নতুন করে জানতে পারছেন।” দীর্ঘ সংগীতজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, পুরোনো গানগুলো নতুন প্রযুক্তিতে আবার গাওয়ার সুযোগ পেলে হয়তো আরও ভালোভাবে পরিবেশন করতে পারতেন।

তিনি বলেন, “আমাদের সময় প্রযুক্তি এত উন্নত ছিল না। এক মাইকে গান রেকর্ড করতাম। একটি গান ঠিকভাবে না হলে দশবারও গাইতে হতো। এখন প্রযুক্তির কারণে অনেক কিছু সহজ হয়ে গেছে। মনে হয়, যদি এই সময়ে এসে গানগুলো আবার গাওয়ার সুযোগ পেতাম, তাহলে হয়তো আরও ভালোভাবে গাইতে পারতাম। কিন্তু এখন তো আর সেটা সম্ভব নয়।”

চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও খুরশীদ আলমের সংগীতজীবনের শুরু রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে। চাচা আবু হায়দার সাজেদুর রহমানের কাছে তার সংগীতের হাতেখড়ি। ষাটের দশকের শুরুতে তিনি নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করতেন। ১৯৬৫ সালে শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজে প্রথম মঞ্চে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন। পরে রবীন্দ্রসংগীতের ওপর তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের নিষেধাজ্ঞার পর তিনি আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে রেডিওতে অডিশন দেন।

১৯৬৯ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘আগন্তুক’ চলচ্চিত্রে প্রথম প্লেব্যাক করেন খুরশীদ আলম। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রায় সাড়ে ৪০০ চলচ্চিত্রে গান গেয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল প্লেব্যাক শিল্পী। তার কণ্ঠে জনপ্রিয় হওয়া গানের তালিকায় রয়েছে ‘চুমকি চলেছে একা পথে’, ‘চুরি করেছ আমার মনটা’, ‘বন্দী পাখির মত’, ‘পাখির বাসার মত দুইটি চোখ তোমার’, ‘যদি বউ সাজো গো, আরও সুন্দর লাগবে গো’, *‘মাগো মা’*সহ অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান। নায়করাজ রাজ্জাক থেকে শুরু করে ওয়াসিম, জাভেদ, মাহমুদ কলি, আলমগীর, জাফর ইকবাল, ইলিয়াস কাঞ্চন, সোহেল রানা ও বুলবুল আহম্মেদসহ বাংলা চলচ্চিত্রের প্রায় সব জনপ্রিয় নায়কের ঠোঁটে শোনা গেছে তার কণ্ঠ। ৮১ বছর বয়সেও তিনি নিয়মিত টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন এবং নতুন একক ও দ্বৈত গান প্রকাশ করে সংগীতপ্রেমীদের মুগ্ধ করে চলেছেন।