২২ শ্রাবণে বিশ্বকবিকে স্মরণ: রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিতে আজও বেঁচে আছে বাংলা ও মানবতা
- প্রকাশের সময় ০৪:০৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১১৯ বার দেখা হয়েছে
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে ২২ শ্রাবণ এক গভীর শোকের দিন। ১৯৪১ সালের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তবে তার দেহাবসান হলেও থেমে যায়নি তার সৃষ্টির পথচলা। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও দর্শনের মাধ্যমে তিনি আজও বাঙালির হৃদয়ে এবং বিশ্বসাহিত্যের অমর আসনে বিরাজমান। রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবস ২২ শ্রাবণ উপলক্ষে প্রতি বছর বাঙালি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করে এই মহান স্রষ্টাকে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করেছে নানা কর্মসূচির। থাকবে কবিতা আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও গীতিনাট্য পরিবেশনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট আয়োজন করেছে রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী গীতিনাট্য ‘শ্যামা’ মঞ্চায়নের। ছায়ানটের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পাশাপাশি ছায়ানটের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এদিন ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে সাদি মহম্মদের গানের দল ‘ভোরের আলোয়’ পরিবেশন করবে গীতিনৃত্যালেখ্য ‘বর্ষামুখর সন্ধ্যা’। এতে সহযোগিতা করবে লিলি ইসলাম পরিচালিত সংগীত সংগঠন ‘উত্তরায়ণ’ এবং শিবলী মহম্মদ ও শামীম আরা নিপা পরিচালিত নৃত্যপ্রতিষ্ঠান ‘নৃত্যাঞ্চল’। রবীন্দ্রনাথের বর্ষাভাবনা, প্রকৃতিপ্রেম ও নন্দনচেতনা সংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
১৮৬১ সালের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, গীতিকার, সুরকার, প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ ও চিত্রশিল্পী—এক বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে তিনি বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি ছিলেন প্রথম বাঙালি এবং এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী সাহিত্যিক। রবীন্দ্রনাথের রচিত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। তার লেখা ‘জন গণ মন’ ভারতের জাতীয় সংগীত। তার সৃষ্টিশীলতা ও চিন্তার ধারার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতন আজও রবীন্দ্রচর্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ২২ শ্রাবণ তাই শুধু প্রয়াণের স্মৃতি নয়, বরং রবীন্দ্রনাথের অমর সৃষ্টির কাছে ফিরে যাওয়ার এক মহিমান্বিত দিন।























