বাংলাদেশ 11:53 pm, Friday, 30 October 2026

ক্লাউড ও এআই ব্যবসায় আয়ের রেকর্ড গড়লো মাইক্রোসফট

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের আয় আবারও রেকর্ড গড়েছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৯২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। এ নিয়ে টানা ১০ প্রান্তিকে আয়ের নতুন রেকর্ড করল প্রতিষ্ঠানটি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, আলোচ্য প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে ৩২ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে মাইক্রোসফটের ক্লাউড ব্যবসা। এ খাত থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৬৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। যা এক বছরে ৩০ শতাংশ বেশি। ক্লাউড সেবার মধ্যে অ্যাজুর থেকে আয় হয়েছে ৩৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। আর মাইক্রোসফট ৩৬৫ থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবার চাহিদা বাড়ায় মাইক্রোসফটের ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তবে ক্লাউড থেকে আসা সব আয় এআই-সংশ্লিষ্ট নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রচলিত সফটওয়্যার ও অনলাইনভিত্তিক সেবা পরিচালনার জন্যও অ্যাজুর ব্যবহার করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ প্রান্তিকে ওপেনএআই থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে মাইক্রোসফট। ওপেনএআই অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) ও ওরাকলের মতো অন্য প্রতিষ্ঠানের ক্লাউড সেবাও ব্যবহার করছে। তবে তাদের অনেক সেবা এখনো মাইক্রোসফটের ক্লাউড অবকাঠামোয় পরিচালিত হয়। এ ছাড়া অ্যানথ্রপিকও অ্যাজুর ব্যবহার করে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, বিদ্যমান চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাণিজ্যিক আয়ের পরিমাণ বেড়ে ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেশি। এ আয় নিশ্চিত করতে ক্লাউড অবকাঠামো সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি। আলোচ্য প্রান্তিকে মাইক্রোসফটের মূলধনী ব্যয় হয়েছে ৪৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। যা এক প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ ব্যয়। অন্যদিকে ডিভাইস ও ভোক্তাপণ্য বিভাগে আয় হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কম। এ বিভাগে উইন্ডোজের জন্য কম্পিউটার নির্মাতাদের কাছ থেকে পাওয়া আয় ও ডিভাইস বিক্রির আয় কমেছে ২২ শতাংশ। আর্থিক ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে, ক্লাউড ও এআই খাতে বিনিয়োগ এবং চাহিদা মাইক্রোসফটের প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে। তবে এই ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অবকাঠামো খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ও করতে হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হোক

ক্লাউড ও এআই ব্যবসায় আয়ের রেকর্ড গড়লো মাইক্রোসফট

প্রকাশ 10:05:16 pm, Friday, 30 October 2026

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের আয় আবারও রেকর্ড গড়েছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৯২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। এ নিয়ে টানা ১০ প্রান্তিকে আয়ের নতুন রেকর্ড করল প্রতিষ্ঠানটি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, আলোচ্য প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে ৩২ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে মাইক্রোসফটের ক্লাউড ব্যবসা। এ খাত থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৬৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। যা এক বছরে ৩০ শতাংশ বেশি। ক্লাউড সেবার মধ্যে অ্যাজুর থেকে আয় হয়েছে ৩৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। আর মাইক্রোসফট ৩৬৫ থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবার চাহিদা বাড়ায় মাইক্রোসফটের ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। তবে ক্লাউড থেকে আসা সব আয় এআই-সংশ্লিষ্ট নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রচলিত সফটওয়্যার ও অনলাইনভিত্তিক সেবা পরিচালনার জন্যও অ্যাজুর ব্যবহার করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ প্রান্তিকে ওপেনএআই থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে মাইক্রোসফট। ওপেনএআই অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) ও ওরাকলের মতো অন্য প্রতিষ্ঠানের ক্লাউড সেবাও ব্যবহার করছে। তবে তাদের অনেক সেবা এখনো মাইক্রোসফটের ক্লাউড অবকাঠামোয় পরিচালিত হয়। এ ছাড়া অ্যানথ্রপিকও অ্যাজুর ব্যবহার করে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, বিদ্যমান চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাণিজ্যিক আয়ের পরিমাণ বেড়ে ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেশি। এ আয় নিশ্চিত করতে ক্লাউড অবকাঠামো সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি। আলোচ্য প্রান্তিকে মাইক্রোসফটের মূলধনী ব্যয় হয়েছে ৪৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। যা এক প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ ব্যয়। অন্যদিকে ডিভাইস ও ভোক্তাপণ্য বিভাগে আয় হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কম। এ বিভাগে উইন্ডোজের জন্য কম্পিউটার নির্মাতাদের কাছ থেকে পাওয়া আয় ও ডিভাইস বিক্রির আয় কমেছে ২২ শতাংশ। আর্থিক ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে, ক্লাউড ও এআই খাতে বিনিয়োগ এবং চাহিদা মাইক্রোসফটের প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে। তবে এই ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অবকাঠামো খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ও করতে হচ্ছে।