- রফিকুল ইসলাম
হারা হারা লাগে আজ তারা ভরা রাতে,
তারা বলে গেছে তারা আর ফিরবে না প্রাতে।
তোমার মুখের মতো ম্লান মুখে চাঁদটাও জাগে,
জোনাকি আলো মাগে তোমার আঙ্গুলের ফাঁকে।
মুক্তো তোমার দাঁতের আভায় শুভ্র হতে শেখে,
ভ্রমর শেখে কালো হতে তোমার কাজল মেখে।
ময়ূর তোমার অলস চলনে ছন্দ খুঁজে পায়।
পাহাড় তোমার নীরব অভিমানে উচ্চতা হারায়।
বাঁশি তোমার কণ্ঠ শুনে সুর খুঁজে পায় শত,
যমুনা তোমার চোখে ডুবে মাপে গভীরতা কত।
বসন্ত তোমার হাসি দেখে শেখে ফোটাতে ফুল,
ঊষা তোমার ঠোঁটের রঙের হিসাব করে ভুল।
ঝড়ের হাওয়া থমকে দাঁড়ায় তোমার এলোচুলে,
কোকিল তোমার কণ্ঠ শুনে সুর গিয়েছে ভুলে।
তুমিহীনা পূর্ণিমাতেও আমার অমাবস্যার ঘোর,
তোমার ছাড়া কাটে না আর অচেনা এই ভোর।
হৃদয় আমার তপ্ত মরু, বুকে জ্বলে সাহারার দহন,
ফাগুন ওড়াই মেঘের কেতন দুচোখে অশ্রু প্লাবন।
কবিতার মূলভাব: ‘তুমিহীনা পূর্ণিমা’
কবি: রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলামের ‘তুমিহীনা পূর্ণিমা’ কবিতাটি প্রেম, বিরহ, প্রিয়জনের প্রতি গভীর অনুরাগ এবং তাকে হারিয়ে ফেলার বেদনায় রচিত এক আবেগঘন কবিতা। কবি এখানে প্রিয় মানুষের সৌন্দর্য ও মাধুর্যকে প্রকৃতির নানা উপাদানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর প্রিয়তমার মুখের কাছে চাঁদের জ্যোতি ম্লান, তাঁর দাঁতের শুভ্রতায় মুক্তো সৌন্দর্য খুঁজে পায়, তাঁর চোখের গভীরতায় যমুনা যেন নিজের গভীরতা মাপতে শেখে। তাঁর কণ্ঠে বাঁশি সুর খুঁজে পায়, তাঁর হাসিতে বসন্ত শেখে ফুল ফোটাতে। এভাবেই কবি প্রিয় মানুষটিকে সৌন্দর্য, প্রেম ও মুগ্ধতার এক অনন্য প্রতীকে পরিণত করেছেন।
কিন্তু কবিতার শেষাংশে প্রকাশ পেয়েছে গভীর বিচ্ছেদবেদনা। প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে পূর্ণিমার আলোও কবির কাছে অমাবস্যার অন্ধকার হয়ে ওঠে। তাঁর হৃদয় তপ্ত মরুভূমির মতো দগ্ধ হয়, আর চোখের অশ্রুতে ভেসে যায় বসন্তের আনন্দ। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যও প্রিয়জনের অভাব পূরণ করতে পারে না।
কবিতাটির মূল বক্তব্য হলো— প্রকৃত ভালোবাসায় প্রিয় মানুষের উপস্থিতি যেমন পৃথিবীকে সৌন্দর্যময় করে তোলে, তেমনি তার অনুপস্থিতি সব আলো, আনন্দ ও সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয়। পূর্ণিমার চাঁদ আকাশ আলোকিত করতে পারে, কিন্তু প্রিয়জনহীন হৃদয়ের অন্ধকার দূর করতে পারে না। এ কবিতায় প্রেমের মুগ্ধতা ও বিরহের যন্ত্রণা একসূত্রে গাঁথা হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম 










































