বাংলাদেশ 11:02 pm, Friday, 30 October 2026

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হোক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে লাগেজ সংগ্রহ, ট্রলি পাওয়া, তথ্য জানানো কিংবা বিমানবন্দরের বাইরে বের হওয়া- প্রায় প্রতিটি ধাপেই কোনো না কোনো ভোগান্তির অভিযোগ শোনা যায়। কখনো দীর্ঘ অপেক্ষা, কখনো লাগেজ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময়, কখনো লাগেজ নিয়ে অভিযোগ, আবার কখনো দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিমানবন্দরে অত্যন্ত নিম্নমানের যাত্রীসেবা নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। যাত্রীসেবা কীভাবে উন্নত করা যায়, তার পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা বারবার দিয়েছেন। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, যাত্রীসেবার উন্নতি দূরে থাক, বিদ্যমান অভিযোগগুলোর কোনো সমাধান আজ পর্যন্ত করা হয়নি। বিমানযাত্রীদের এই চিরভোগান্তি যেন তাদের ললাট লিখন হয়ে রয়েছে। অথচ এই যাত্রীদের ট্যাক্সের পয়সায়ই বিমানবন্দর চলছে। যাদের পয়সায় বিমানবন্দর চলছে, তারাই অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন ট্যাক্স বা বিমান ভাড়া সংক্রান্ত ট্যাক্স এশিয়ার আঞ্চলিক গড় এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা থেকে টিকিট কাটলে তা মধ্যপ্রাচ্যের দেশ, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর বা ব্যাংককে টিকিট কাটার চেয়ে অনেক বেশি ট্যাক্স ও ফি দিতে হয়। ফিরতি বিমানে ওইসব দেশ থেকে আসার সময় বাংলাদেশের তুলনায় ট্যাক্স ও ফি অনেক কম লাগে। যেমন ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর যাওয়ার টিকিট ট্যাক্স যেখানে প্রায় ৯,৮৯০ টাকা, সেখানে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকা আসার ট্যাক্স মাত্র ২ হাজার টাকার মতো। বহির্গামী যাত্রীর টিকিটের মূল্যের একটি বড় অংশ বিভিন্ন সরকারি কর, আবগারি শুল্ক এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বিভিন্ন ফি’র পেছনে চলে যায়, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। মূলত এসব দেশেই বাংলাদেশের বেশিরভাগ যাত্রী যাতায়াত করে। এর অর্থ হচ্ছে, বিমানযাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ট্যাক্স দিয়ে বিমানবন্দরে গিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের সেবা পাচ্ছেন। যাত্রীদের অনেকের অভিযোগ, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান অনেকটা লোকাল বাস টার্মিনালগুলোর সেবার চেয়েও খারাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা বাহুল্য, বিমানবন্দরে অনেক সময় ভিনদেশী যাত্রী বা পর্যটকদেরও হয়রানির শিকার হতে হয়। এতে তাদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দেশের ভাবমর্যাদা বিনষ্ট করছে। অথচ বিমানবন্দর পরিচালনা ও উন্নয়নে বছরে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও এর যাত্রীসেবার কোনো উন্নতি হয়নি। শাহজালাল বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে অবকাঠামোর পাশাপাশি দায়িত্ববোধ, স্বচ্ছতা, নজরদারি এবং জবাবদিহির সংস্কৃতিও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হোক

বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হোক

প্রকাশ 10:14:23 pm, Friday, 30 October 2026

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে লাগেজ সংগ্রহ, ট্রলি পাওয়া, তথ্য জানানো কিংবা বিমানবন্দরের বাইরে বের হওয়া- প্রায় প্রতিটি ধাপেই কোনো না কোনো ভোগান্তির অভিযোগ শোনা যায়। কখনো দীর্ঘ অপেক্ষা, কখনো লাগেজ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময়, কখনো লাগেজ নিয়ে অভিযোগ, আবার কখনো দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিমানবন্দরে অত্যন্ত নিম্নমানের যাত্রীসেবা নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। যাত্রীসেবা কীভাবে উন্নত করা যায়, তার পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা বারবার দিয়েছেন। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, যাত্রীসেবার উন্নতি দূরে থাক, বিদ্যমান অভিযোগগুলোর কোনো সমাধান আজ পর্যন্ত করা হয়নি। বিমানযাত্রীদের এই চিরভোগান্তি যেন তাদের ললাট লিখন হয়ে রয়েছে। অথচ এই যাত্রীদের ট্যাক্সের পয়সায়ই বিমানবন্দর চলছে। যাদের পয়সায় বিমানবন্দর চলছে, তারাই অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন ট্যাক্স বা বিমান ভাড়া সংক্রান্ত ট্যাক্স এশিয়ার আঞ্চলিক গড় এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা থেকে টিকিট কাটলে তা মধ্যপ্রাচ্যের দেশ, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর বা ব্যাংককে টিকিট কাটার চেয়ে অনেক বেশি ট্যাক্স ও ফি দিতে হয়। ফিরতি বিমানে ওইসব দেশ থেকে আসার সময় বাংলাদেশের তুলনায় ট্যাক্স ও ফি অনেক কম লাগে। যেমন ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর যাওয়ার টিকিট ট্যাক্স যেখানে প্রায় ৯,৮৯০ টাকা, সেখানে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকা আসার ট্যাক্স মাত্র ২ হাজার টাকার মতো। বহির্গামী যাত্রীর টিকিটের মূল্যের একটি বড় অংশ বিভিন্ন সরকারি কর, আবগারি শুল্ক এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বিভিন্ন ফি’র পেছনে চলে যায়, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। মূলত এসব দেশেই বাংলাদেশের বেশিরভাগ যাত্রী যাতায়াত করে। এর অর্থ হচ্ছে, বিমানযাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ট্যাক্স দিয়ে বিমানবন্দরে গিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের সেবা পাচ্ছেন। যাত্রীদের অনেকের অভিযোগ, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান অনেকটা লোকাল বাস টার্মিনালগুলোর সেবার চেয়েও খারাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা বাহুল্য, বিমানবন্দরে অনেক সময় ভিনদেশী যাত্রী বা পর্যটকদেরও হয়রানির শিকার হতে হয়। এতে তাদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দেশের ভাবমর্যাদা বিনষ্ট করছে। অথচ বিমানবন্দর পরিচালনা ও উন্নয়নে বছরে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও এর যাত্রীসেবার কোনো উন্নতি হয়নি। শাহজালাল বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে অবকাঠামোর পাশাপাশি দায়িত্ববোধ, স্বচ্ছতা, নজরদারি এবং জবাবদিহির সংস্কৃতিও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।