বাংলাদেশ 7:50 pm, Friday, 30 October 2026
পাঁচ দিনের কর্মসূচির তৃতীয় দিনে অবস্থান, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে যৌথ অভিযানের দাবি বনজীবীদের

সুন্দরবনে জলদস্যুতা, জেলে-বাওয়ালি অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও বন্যপ্রাণী হত্যা বন্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন বনজীবীরা। এ দাবিতে ঘোষিত পাঁচ দিনের কর্মসূচির তৃতীয় দিনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর বন বিভাগের কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। অবস্থান কর্মসূচিতে বনজীবীরা অভিযোগ করেন, পশ্চিম সুন্দরবনে এখনো অস্ত্রধারী দস্যুদের তৎপরতা রয়েছে। অপহরণ, মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ ও অগ্রিম চাঁদা দাবির ভয়ে সাধারণ জেলে-বাওয়ালিরা বনে যেতে পারছেন না। অথচ দস্যু দমনে প্রশাসনের দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়ছে না।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক প্রায় ৩০ লাখ জেলে-বাওয়ালি পরিবার এবং শুধু শ্যামনগর উপজেলাতেই প্রায় ৩০ হাজার বনজীবী পরিবার জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। দস্যুতা বন্ধ না হলে এসব মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। তাঁরা বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। সরকারকে কর ও রাজস্ব দেওয়ার পরও জীবিকার প্রয়োজনে বনে যেতে জেলেদের কেন মুক্তিপণ ও চাঁদাবাজির আতঙ্কে থাকতে হবে, সেই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বন বিভাগের সদস্যরা ড্রোন ব্যবহার করে জেলেদের শনাক্ত ও আটক করতে পারলেও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত দস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। বন বিভাগের সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। দস্যুদের হাতে আধুনিক অস্ত্র কীভাবে পৌঁছাচ্ছে এবং কারা তাদের অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করছে, তা তদন্তের দাবি জানান তাঁরা। বনজীবীদের দাবি, সুন্দরবনের বাঘ-হরিণসহ বন্যপ্রাণী হত্যা বন্ধ এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ, পুলিশ, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

গত ২৮ অক্টোবর মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। ২৯ অক্টোবর বিক্ষোভ সমাবেশ ও ৩০ অক্টোবর অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ নভেম্বর শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্মারকলিপি এবং ২ নভেম্বর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আন্দোলনের সমন্বয়ক ও গাবুরার তরুণ নেতা সাতক্ষীরা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন লিটন, মাস্টার আব্দুর রহিম, ইউপি সদস্য আবিয়ার রহমান, মাস্টার আবু তালেব, আশিকুর রহমান, সেরাজুল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনীর ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম, তরুণ নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও রুস্তম আলীসহ অনেকে। বনজীবীদের দাবি, সুন্দরবন কোনো দস্যুবাহিনীর অভয়ারণ্য হতে পারে না। নিরাপদে বনে গিয়ে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদক

Abdur Rahman

একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা
জনপ্রিয়

মারা গেছেন হলিউড তারকা স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট

পাঁচ দিনের কর্মসূচির তৃতীয় দিনে অবস্থান, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে যৌথ অভিযানের দাবি বনজীবীদের

প্রকাশ 07:01:14 pm, Friday, 30 October 2026

সুন্দরবনে জলদস্যুতা, জেলে-বাওয়ালি অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও বন্যপ্রাণী হত্যা বন্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন বনজীবীরা। এ দাবিতে ঘোষিত পাঁচ দিনের কর্মসূচির তৃতীয় দিনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর বন বিভাগের কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। অবস্থান কর্মসূচিতে বনজীবীরা অভিযোগ করেন, পশ্চিম সুন্দরবনে এখনো অস্ত্রধারী দস্যুদের তৎপরতা রয়েছে। অপহরণ, মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ ও অগ্রিম চাঁদা দাবির ভয়ে সাধারণ জেলে-বাওয়ালিরা বনে যেতে পারছেন না। অথচ দস্যু দমনে প্রশাসনের দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়ছে না।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক প্রায় ৩০ লাখ জেলে-বাওয়ালি পরিবার এবং শুধু শ্যামনগর উপজেলাতেই প্রায় ৩০ হাজার বনজীবী পরিবার জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। দস্যুতা বন্ধ না হলে এসব মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। তাঁরা বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। সরকারকে কর ও রাজস্ব দেওয়ার পরও জীবিকার প্রয়োজনে বনে যেতে জেলেদের কেন মুক্তিপণ ও চাঁদাবাজির আতঙ্কে থাকতে হবে, সেই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বন বিভাগের সদস্যরা ড্রোন ব্যবহার করে জেলেদের শনাক্ত ও আটক করতে পারলেও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত দস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। বন বিভাগের সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। দস্যুদের হাতে আধুনিক অস্ত্র কীভাবে পৌঁছাচ্ছে এবং কারা তাদের অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করছে, তা তদন্তের দাবি জানান তাঁরা। বনজীবীদের দাবি, সুন্দরবনের বাঘ-হরিণসহ বন্যপ্রাণী হত্যা বন্ধ এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ, পুলিশ, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

গত ২৮ অক্টোবর মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। ২৯ অক্টোবর বিক্ষোভ সমাবেশ ও ৩০ অক্টোবর অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ নভেম্বর শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্মারকলিপি এবং ২ নভেম্বর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আন্দোলনের সমন্বয়ক ও গাবুরার তরুণ নেতা সাতক্ষীরা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন লিটন, মাস্টার আব্দুর রহিম, ইউপি সদস্য আবিয়ার রহমান, মাস্টার আবু তালেব, আশিকুর রহমান, সেরাজুল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনীর ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম, তরুণ নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও রুস্তম আলীসহ অনেকে। বনজীবীদের দাবি, সুন্দরবন কোনো দস্যুবাহিনীর অভয়ারণ্য হতে পারে না। নিরাপদে বনে গিয়ে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।